সর্বশেষ সংবাদ

চরফ্যাশনের মেঘনা-তেতুলিয়ায় ভরা মৌসূমেও ইলিশের দেখা নেই

মিজানুর রহমান সোহেল,চরফ্যাশনঃ

ইলিশের ভরা মৌসূমেও ইলিশ শুন্য ভোলার চরফ্যাশনের মেঘনা-তেতুলিয়া।বর্তমানে ইলিশ ধরার উপযুক্ত সময় হলেও মেঘনা-তেতুলিয়া প্রায় ইলিশ শুন্য।প্রতিদিন জেলেরা মেঘনা-তেতুলিয়ায় ইলিশ ধরতে গিয়ে কাংখিত ইলিশ না পেয়েimages খালি হাতে ফিরে আসছে।ফলে জেলে পল্লীর ১৬হাজার ইলিশ শিকারী জেলেদের মধ্যে দেখা দিয়েছে হতাশা।

এলাকা সূত্র জানায়, প্রতি বছর এসময় ইলিশ শিকারের ভরা মৌসূমে মেঘনা-তেতুলিয়ায় প্রচুর পরিমানে ইলিশ পাওয়া যেত।কিন্তু এ বছর ইলিশের ভরা এ মৌসূমে ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে একেবারেই কম।

চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়,গত বছর ইলিশের ভরা মৌসূমের শুরুতেই চাঁদপুরের মোহনপুর থেকে শুরু করে হাইমচর হয়ে পটুয়াখালি, ভোলা পর্যন্ত মেঘনা-তেতুলিয়ায় প্রচুর পরিমানে ইলিশ পাওয়া গেছে।কিন্তু এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন।

চরফ্যাশনের বৃহত্তর মৎস্য বন্দর ঢালচরের জেলে আঃ রহিম জানায়,আমার মতো প্রতিদিন চরফ্যাশনের বিভিন্ন এলাকার জেলেরা মেঘনা-তেতুলিয়ায় ইলিশ ধরার জন্য জাল পেতে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকলেও ইলিশের দেখা মিলছে না।ফলে শুন্য হাতেই জেলেরা বাড়ি ফিরছে।

ঢালচরের মৎস্য ব্যবসায়ী শাহে আলম জানান, প্রতিদিন একটি ট্রলারে ১৩ জন,১৫জন ও ১৬জন করে জেলে নদীতে জাল পেতে ইলিশ পায় ৮টি/১২টি। আবার কেউ আসে শুন্য হাতে।আর যে কটি ইলিশ পাওয়া যায়,তার বিক্রি লব্দ টাকা দিয়ে জ্বালানী খরচের টাকাই হয় না।কুকরীর মৎস্য ব্যবসায়ী আবুল বাশার জানান,প্রতিটি ট্রলারে খাবার,জ্বালানী সহ দৈনিক ব্যায় হয় ৫ থেকে ৬হাজার টাকা। দৈনিক একটি ট্রলারের জেলেরা নদীতে জাল পাতলে ইলিশ পায় ৮-১২টি (৫শত-৬শত গ্রাম ওজনের)। যার বাজার মূল্য ১৬শত,২৪শত।ফলে প্রতিদিন একটি ট্রলারের জেলেদের ৩৪শত থেকে ৩৬শত টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। চরফ্যাশনের বেতুয়া মৎস্য ঘাটের আড়তদার মোহসিন মিয়া জানান,জেলেরা প্রতিদিন অল্প কয়েকটি ইলিশ পেলেও গতবারের চেয়ে দাম খুব বেশী।তবে বেশীর ভাগ ছোট সাইজের (৫শত-৬শত গ্রাম ওজনের)। বড় সাইজের(১হাজার থেকে ১১শত গ্রাম ওজন)২/১টা পাওয়া গেলেও প্রতিটি ইলিশের মূল্য ৮শত টাকা।জেলেরা জানায়,বর্তমানে ৫শত থেকে ৬শত,৭শত গ্রাম ওজনের ইলিশই জেলেদের জালে ধরা পড়ে।

চরফ্যাশন বাজার সহ উপজেলার বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে,৫শত থেকে ৬শত,৭শত গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশের দাম ১হাজার থেকে ১২শত টাকা ও ১হাজার থেকে ১১শত গ্রাম ওজনের এক হালি ইলিশ ৩৪শত টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।চরফ্যাশনের মেঘনা-তেতুলিয়ায় ইলিশ না পাওয়ায় চরফ্যাশনের গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য কেন্দ্র ঢালচর,কুকরী,পাতিলা,মেঘভাষান,চরনিজাম,চরনিউটন,বেতুয়া,বখশি মৎস্য ঘাট,ঘোষেরহাট,খেজুরগাছিয়া,সামরাজ ও পাঁচকপাট স্লুইজ ঘাট সহ উপজেলার মৎস্যঘাট গুলোতে গতবছরের ন্যায় কোন আমেজ নেই।এসব মৎস্য ঘাটের আড়তদার হতাশা নিয়ে দিন যাপন করছে।আড়তগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।প্রতিদিন কাংখিত ইলিশ না পাওয়ায় জেলেদের পরিবারে দেখা দিয়েছে মহা দুর্দিন।

 

 

 

Leave a Reply