সর্বশেষ সংবাদ

ঢাকা-হুলারহাট নৌরুটে ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বৃদ্ধি

বরিশাল ওয়াচ ডটকম রিপোর্টঃ

ঢাকা-হুলারহাট নৌরুটে ছিনতাইকারীদের (জাম্পিং পার্টি) তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত একমাসে সাংবাদিক, শিক্ষক ও ব্যবসায়ী সহ প্রায় অর্ধশত নারী পুরুষ যাত্রী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছে। বিভিন্ন সময়ে ছিনতাইকারীদের হামলায় আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে বহু যাত্রী। অনুসন্ধানে জানা গেছে দেশের বিভিন্ন নৌ রুটের মধ্যে ঢাকা-হুলারহাট নৌ-রুটটি একটি অন্যতম রুট। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলাটি ব্যবসা সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ার সুবাদে প্রতিদিন ওই রুটে হাজার হাজার যাত্রী যাতায়াত করে থাকেন। এক সময় ওই রুটে প্রতিদিন ৫/৬ টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করলেও বর্তমানে লঞ্চ মালিকদের রোটেশন প্রথার মাধ্যমে মাত্র দুটি লঞ্চ চলাচল করে যা যাত্রী তুলনায় অপ্রতুল। গত এক মাসের মধ্যে ৫ জুন মোহনা টেলিভিশন ও দৈনিক বর্তমান পত্রিকার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) প্রতিনিধি মো. হযরত আলী হিরু স্বস্ত্রীক চট্টগ্রাম যাওয়ার উদ্দেশ্যে অগ্রদুত প¬াস লঞ্চে করে স্বরূপকাঠি হইতে চাঁদপুর যাওয়ার পথে শিকারপুর লঞ্চঘাট ছাড়ার পরক্ষনেই ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে। ছিনতাইকারীরা তার মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে নগদ ২৬ হাজার টাকা ও ২ ভরি স্বর্নালংকার থাকা ব্যাগটি নিয়ে নদীতে ঝাপ দেয়। ৬ জুন রাজদূত-৭ লঞ্চে ঢাকা হতে আসার পথে ভোর রাতে শিকারপুর ঘাটের কাছে পৌছুলে ছিনতাইকারীরা এক মহিলা যাত্রীর স্বর্নের চেইন ছিড়ে নিয়ে নদীতে ঝাপ দেয়। ৮ জুন ফারহান-১ লঞ্চে করে চাঁদপুর হইতে রহিমগঞ্জ আসার পথে চাঁদপুর ঘাট ছাড়ার ২০/২৫ মিনিট পরেই এক যাত্রীর দুটি ব্যাগ নিয়ে নদীতে ঝাপ দেয় ছিনতাইকারীরা। ১১ জুন স্বরূপকাঠির আলকিরহাট এলাকার মো. নজরুল ইসলাম অগ্রদূত প¬াস লঞ্চযোগে ঢাকা হইতে স্বরুপকাঠি আসার পথে ভোর রাতে শিকারপুর ঘাটের কাছে পৌছুলে ছিনতাইকারীরা নজরুলের সাথে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল সেট থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নিতে চাইলে তার সাথে ধস্তাধস্তি হয়। এক পর্যায়ে ছিনতাইকারীরা তাকে সহ নদীতে ঝাপ দেয়। এছাড়াও গত একমাসে ভান্ডারিয়ার ৩ জন, হুলারহাটের ১ জন, কাউখালীর ২ জন ,বানারীপাড়ার ২জন যাত্রীর সর্বস্ব হারানোর খবর পাওয়া গেছে। সকল যাত্রীই অভিযোগ করেন ছিনতাইকালে যাত্রীরা ডাক চিৎকার দিলেও লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ছিনতাইকারীদের ধরতে কোন রকম সহায়তা না করে নিরব ভুমিকা পালন করে। বর্তমানে লঞ্চগুলিতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোন আনসার সদস্য নেই। একের পর এক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটলেও তাদের পক্ষ থেকে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। ছিনতাইগুলির অধিকাংশই শিকারপুর এলাকায় হয় বলে ছিনতাইকারীরা ওই এলাকার বলে ধারনা করা হচ্ছে। এতে করে যাত্রীদের অভিযোগ ছিনতাইকারীদের সাথে লঞ্চের এক শ্রেনীর অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজোস রয়েছে। ওই রুটে যাত্রীরা নির্বিগ্নে চলাচলের ক্ষেত্রে ছিনতাই বন্ধে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।

Leave a Reply