সর্বশেষ সংবাদ

ভোলায় ইলিশ মৌসুমের শুরুতেই দস্যুদের ভয়ে জেলেরা আতঙ্কগ্রস্ত….

bhola_pic_2_594987212

বরিশাল ওয়াচ ডট কম ডেস্কঃভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় ইলিশ ধরা মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দস্যুদের উপদ্রবও বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীতে মাছ শিকারে নামতে জেলেদের টোকেন কার্ডে সংগ্রহ করতে বাধ্য করতে দস্যুরা। এতে অনেক জেলেই নদীতে মাছ শিকারে যেতে ভয় পাচ্ছে।

 

ইলিশ মৌসুমকে কেন্দ্র দস্যুরদের বিরুদ্ধে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠলেও প্রশাসন জেলে নিরাপত্তায় কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। ফলে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক জেলে। ভয়ে অনেক জেলেই নদীতে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।

মৎস্যঘাট ঘুরে জেলে ও আড়ৎদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আশাঢ় মাস শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভোলায় শুরু হয়েছে ইলিশের মৌসুম। মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও সাগর মোহনায় নদীতে প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরার আশায় জাল, নৌকা ও ট্রলার নিয়ে নেমে পড়েছেন জেলার লক্ষাধিক জেলে। বেকার জেলেদের শুরু হয়েছে ইলিশ শিকারের মহাব্যস্ততা। কিন্তু ইলিশ ধরার মৌসুমকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে বেশ কিছু দস্যু বাহিনী।

জেলেদের অভিযোগ, নৌ নিরাপত্তায় কোস্টগার্ডসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকলেও জেলেদের ওপর হামলা চালিয়ে লটুপাট, অপহরণ ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে দস্যুরা। দস্যুদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে টোকেন কার্ড নিতে বাধ্য করছে জেলেরা। কার্ডধারীদের ওপর হামলা না করার প্রতিশ্রতি দিলেও অসহায় জেলেদের ওপর চড়াও হয় তারা।

মনপুরার জেলে ইদ্রিস মাঝি, কালাম মাঝি, সিরাজ মাঝি বরিশাল ওয়াচ ডট কমকে বলেন, কয়েক দিন থেকে ভারী বর্ষণ হওয়ায় নদীগুলোতে বেশি পরিমাণে মাছ পড়তে শুরু করেছে। কিন্তু দস্যুদের চোখও লাল হয়ে গেছে, তারা বিভিন্ন চরে অবস্থান নিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

রমিহ, শাহে আলম ও কাজল মাঝি বলেন, যারা নদীতে নামবেন তাদের ওপর টার্গেট করে দস্যুরা ব্যাপক চাঁদাবাজি শুরু করেছে। তারা দস্যুদের কাছ থেকে টোকেন কার্ড সংগ্রহে বাধ্য করছেন জেলেদের। একেকটি টোকেন কার্ড নিতে ১৫/২০ হাজার টাকা দিতে হয়। না নিলে নদীতে হামলা চালায়। তাই টোকেন কার্ডই জেলেদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যারা কার্ড নেয় না, তাদের ওপর আক্রমন চালাবে দস্যু এমন হুমকিতে জেলেরা এখন আতঙ্কিত।
রফিজাল মাঝি বলেন, মহাজনের কাছ থেকে দার-দেনা করে নৌকা ও জাল তৈরি করেছি, কিন্তু ডাকাতদের ভয়ে মনে হচ্ছে নদীতে যেতে পারবো না, প্রশাসন নৌ টহলের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হয়তো নিরাপদে মাছ শিকার করা যাবে।

আবু কালাম বলেন, গত কয়েকদিন থেকে বেশ কিছুস্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, এতে লুট করা হয়েছে মাছ জালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম, মাছ ধরার মৌসুমে হঠাৎ করেই বেড়েছে দস্যুদের উপদ্রব।

মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপকূলের মৎস্যঘাটকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে জেলে পল্লী, সেখানে জেলেদের জীবন-জীবিকা। মাছ ধরার মৌসুম শুরু হলে আড়ৎদারদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে নদীতে নামে জেলেরা। কিন্তু মৌসুমে দস্যুদের উৎপাতে অতিষ্ঠ তারা।

তবে জেলে নিরাপত্তায় কোস্টগার্ডের অভিযানের কথা জানিয়ে কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার মো. নজরুল ইসলাম মিনা বলেন, মৌসুমের শুরু দস্যুদের উপদ্রব বেড়েছে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই কোস্টগার্ড বিভিন্ন মৎস্যঘাট ও নদীতে অভিযানে চালাচ্ছে।

দস্যুরা যাতে অস্ত্রসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে নদীতে নামতে না পারে সেজন্য মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে চেক করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই কোস্টগার্ড ১১ দস্যুসহ বেশ কিছু আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছে। এছাড়াও জলসীমায় সার্বক্ষণিক নৌ টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

টোকেন কার্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমরা পাইনি, যদি অভিযোগ পাই তাহলে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বরিশাল ওয়াচ ডট কমকে বলেন, দস্যু নির্মূলে বিগত মৌসুমে পুলিশ যেমনি অভিযান চালিয়েছে, ঠিক এ বছর আরো কঠোর অভিযানে চালাবে। কোনো দস্যুই ডাকাতি করে রক্ষা পাবে না।

Leave a Reply