সর্বশেষ সংবাদ

ভোলায় ৭০ গ্রাম প্লাবিত, দুর্ভোগে লাখো অসহায় মানুষ…

bhola

বরিশাল ওয়াচ ডেস্কঃ ভোলায় মেঘনার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদ সীমার উপর দিয়ে প্রভাবিত হচ্ছে।

গত তিন দিনের তুলনায় মঙ্গলবার মেঘনায় পানি ৪ দশমিক ২ মিটার উচ্চতায় বিপদ সীমার উপরে প্রভাবিত হচ্ছে। এতে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন নদী উপকূলবর্তী মানুষেরা।

মঙ্গলবার বিকেলে চতুর্থ দিনের মত জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে জেলার ৪ উপজেলার অন্তত ৭০ গ্রাম। এছাড়াও নির্মাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জনপদ এখনো পানির নিচে রয়েছে। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন লাখো মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে এসব এলাকার ঘর-বাড়ি, রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থাপনা। ভেসে গেছে পুকুর, মাছের ঘের ও ফসলি জমি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় মেঘনার অতি জোয়ারে ভোলা সদরের বাঁধের বাইরের ৩ গ্রাম, দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের ২০ গ্রাম, মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়া, উত্তার সাকুচিয়া, মনপুরা ও হাজিরহাট ইউনিয়নের ২০ গ্রাম, চরফ্যাশনের মুজিবনগর, আসলামপুর, হাজারীগঞ্জ, কুকরী-মুকরী, মাদ্রাজ ও ঢালচরের ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রাম এখন ৩/৪ফুট পানির নিচে।

স্বাভাবিকের চেয়ে অতি মাত্রায় বিপদ সীমায় নদীর পানি প্রভাবিত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সদরের বালিয়াকান্দি এলাকার কৃষক শাহে আলম বরিশাল ওয়াচ ডট কম কে বলেন, বাঁধের বাইরের অর্ধশতাধিক ঘর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে।

মনপুরার স্কুল শিক্ষক জুয়েল বরিশাল ওয়াচ ডট কম কে বলেন, জোয়ারের পানিতে মনপুরার ৪ ইউনিয়নের ১৫ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্লাবিত এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন।

দৌলতখানের সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন বরিশাল ওয়াচ ডট কম কে জানান, জোয়ারের চাপে বাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের ৫ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, মহাসেনে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত না করায় মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এছাড়াও বহু স্থানে নির্ধারিত সময়ে বাঁধ মেরামত না করায় জোয়ারের পানি এলেই জনপদ তলিয়ে যায়। আবার বাঁধ ভেঙেও নতুন নতুন এলাকার প্লাবিত হচ্ছে। প্লাবিত এলাকার মানুষের ঘরে চুলা জ্বলছে না। খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছে তারা।

ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল হেকিম বরিশাল ওয়াচ ডট কম কে বলেন, দিন দিন মেঘনার পানি আরো বেশি বিপদ সীমা অতিক্রম করছে। কিছুতেই বাঁধ রক্ষা করা যাচ্ছে না। জোয়ারের চাপ কমলে বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ শুরু হবে।

এসব বিষয়ে ভোলার জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজা বরিশাল ওয়াচ ডট কম কে বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের সাহায্য দেওয়া হবে।

এদিকে, এবার অতি জোয়ারের চাপে বিভিন্ন এলাকার শহর রক্ষা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। যেকোনো সময় তা বিধ্বস্ত হতে পারে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, ভোলা সদর, দৌলতখান ও চরফ্যাশন।

Leave a Reply