সর্বশেষ সংবাদ

স্কুলের ছাদে ডিস ব্যবসা

সৈয়দ মেহেদী হাসান 

একদিকে তিনি সরকারী কর্মচারী, অপরদিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি। সেই সুবাদে স্কুলের ছাদ ও রুম ভাড়া দিয়ে দিয়েছেন। তাও আবার ডিস ব্যবসার জন্য। ডিসের যন্ত্রপাতি রাখা আছে দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির রুমে। রাতে ডিসে দেখানো হয় অশ্লীল ভিডিও। বছরের পর বছর এই ছাদ ভাড়া ও স্কুলটি ব্যবসার সূত্র হিসেবে কাজে খাটাচ্ছেন শাহজাহান মৃধা। ঘটনাটি ঘটেছে নলছিটি উপজেলার জুরকাঠি জেড.এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। এ ব্যাপারে কোন ধরনের ভ্রক্ষেপ নেই শিক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তাদের। ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বলছেন, বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল বহন করার শর্তে এ ভাড়া দেয়া হয়েছে। আর ভাড়াটিয়া ডিস ব্যবসায়ী খোকন জানিয়েছে, ডিসের কার্যক্রম বর্তমানে বন্ধ আছে। তবে স্থ’ানীয় ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্কুলটি ব্যবহার করে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। নিয়মিত কক্ষটিতে বসে বখাটেদের আড্ডা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার জুরকাঠির জেড.এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে ম্যানেজিং কমিটির পদ আগলে রেখেছে শাহজাহান মৃধা। মৃধা সাহেব এদিকে বরিশাল শের-ই-বংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজির কার্ডিয়াক। সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে বিধানমতে কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ না করতে পারলেও তিনি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বলে দাবী করেন। জেড.এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকলেও তা নিরসনে কোন পদক্ষেপ না নিয়ে ব্যবসায়ীক কাজে খাটাচ্ছে বিদ্যালয়। শিক্ষক-কর্মচারীদের দৈন্যদশার কথা বুঝিয়ে বিদ্যালয়ের ছাদটি ভাড়া দিয়ে দেন। সেই সাথে সিঁড়ির রুমের দ্বিতীয় তলা সংস্কার করে দেয়। অভিযোগ রয়েছে, স্কুলটির ছাদ ও রুম বাবদ ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম নেয় সভাপতি। এছাড়া চুক্তি হয় সমস্ত বিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ বিল বহন করবে ডিস ব্যবসায়ী খোকন। সে অনুসারে দীর্ঘ দেড় বছর চলে আসছিল। তবে অগ্রিম টাকা গ্রহনের কথা চাপিয়ে রেখে বিদ্যুৎ বিলের কথা সবাইকে জানায়। অপর একটি সূত্র জানিয়েছে খোকন স্থানীয় হারুন মেম্বর এর পুত্র। খোকন নিজেকে “ক্ষমতাবান” দাবী করে জানায়, পিতাঃ স্কুলের ম্যাানেজিং কমিটির সদস্য। এলাকায় একটু প্রভাব খাটাতে না পারলে এলাকায় থাকি কেন? তবে বর্তমানে স্কুলে বসানো ডিসের মেশিন বন্ধ আছে দাবী করে জানায় বরিশাল নতুন বাজারের বিডিসিএন ক্যাবলের স্বত্ত্বাধিকারী সমির এর কাছ থেকে লাইন এনে নলছিটিতে এখন চালাচ্ছি। মাঝে মাঝে বন্ধ মেশিন চালালেও নিয়মিত চালাই না। তবে বিদ্যুৎ বিল দেই। প্রশ্ন করা হলে স্কুল ঘরে এটা রাখা উচিত নয় বলে স্বীকার করে খোকন। অপরদিকে সভাপতি শাহজাহান মৃধা ভাড়া দেয়ার কথা অস্বীকার করে জানায়, বিদ্যুৎ বিলের চুক্তিতে ডিস ব্যবসা করতে দেয়া হয়েছে। এছাড়া মাসিক কোন টাকা আদায় করা হয় না। সরকারী চাকুরী করে নির্বাচিত প্রতিনিধি হওয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নের কোন উত্তর না দিয়ে জানায় বিদ্যালয়ে ডিস মেশিন স্থাপন অবৈধ। মেশিন সরানোর ব্যবস্থা করছি বলে আশ্বাস দেয়ার একদিন পরে খোকন মোবাইলে প্রতিবেদককে জানায়, মেশিন অপসারণ করা হয়েছে। তবে পরের দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মেশিন পূর্বাবস্থায় আছে। আর স্থানীয়রা পুনরায় অভিযোগ করে, বরিশালের লাইনের পাশাপাশি স্কুলে স্থাপন করা মেশিনটিও নিয়মিত চালানো হয়।

Leave a Reply