সর্বশেষ সংবাদ

‘আমি মায়ের কাছে যাবো’

বরিশাল ওয়াচ ডেস্কঃ ‘আমি মায়ের কাছে যাব’। ‘আমি মায়ের কাছে যাব’। ঘাতকের ভয়াল থাবা থেকে বাঁচতে এভাবেই চিৎকার করেছিল ১০ বছরের শিশু রাসেল।

বাবা বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে কর্মচারীর কোলে প্রাণের সন্ধানে ঝাপিয়ে পড়েছিল।পালাতে চেয়েছে। কিন্তু রক্তাক্ত করিডোর আর নর পশুদের থাবা তাকেও ছাড়েনি। ভীতও কাতর কণ্ঠে শিশুটি বলেছে, ‘আমি মায়ের কাছে যাব’।

মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিল শিশুটি ‘আমাকে হাসু আপার কাছে পাঠিয়ে দিন’।

কিন্তু যারা জাতির পিতার হত্যাকারী, তাদের হৃদয়ে কি সন্তানের মায়া জাগে? তাই তো পরিবারারের আর সবার মতো মৃত্যুই পরিণতি হয়েছে শিশু রাসেলের ভাগ্যেও। মায়ের কাছে যাবার মিনতি করলেও ‘মা বেঁচে নেই’!

কি অসম্ভব যন্ত্রণা! মায়ের লাশ দেখে বড় বোনের কাছে যাবার মিনতি করেছিল। মিনতি করেছিল একটু বেঁচে থাকার। কিন্তু নিষ্ঠুর, নরাধম ও ইতিহাসের পশুরা বাঁচতে দেয়নি শিশুটিকে।বুলেটের আঘাতে বুক চিড়েছে তারও! ক্ষতি-বিক্ষত করেছে বাংলাদেশের স্বপ্নেরসঙ্গে তাকেও।

কি অপরাধ ছিল এই শিশুটির? নির্মমতার চরম পর্যায়ে সেদিন খুন হতে হয়েছিল তাকেও। বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের কথাই বলছি।১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালো রাতে পিতা বঙ্গবন্ধু এবং পরিবারের অন্য  সদস্যদের সঙ্গে শহীদ হন রাসেল। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। শেখ রাসেল আজ বেঁচে থাকলে হতেন ৪৭ বছরের যুবক।

জন্ম, শিক্ষা ও বেড়ে ওঠা:
শেখ রাসেল ১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর তৎকালীন পর্ব পাকিস্তানের ঢাকা অঞ্চলের ধানমন্ডি ৩২ নম্বর বঙ্গবন্ধু ভবনে  জন্মগ্রহণ করেন।

১৯৭৫ সালে শেখ রাসেল ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ছিলেন।

পাঁচভাই-বোনের মধ্যে রাসেল সবার ছোট। ভাই-বোনের মধ্যে অন্যরা হলেন বাংলাদেশেরবর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (রাসেলের প্রিয় হাসু আপা), ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর অন্যতম সংগঠক শেখ কামাল, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা শেখ জামাল এবং শেখ রেহানা।

হত্যাকাণ্ড:
১৯৭৫সালের ১৫ আগস্ট ভোরে একদল বিপদগামী সেনা কর্মকর্তা ট্যাঙ্ক দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাসভবন ঘিরে ফেলে। শেখ মুজিব, তার পরিবার এবং তার ব্যক্তিগত কর্মচারীদের সঙ্গে শেখ রাসেলকেও হত্যা করে। শেখ মুজিবের নির্দেশে রাসেলকে নিয়ে পালানোর সময় ব্যাক্তিগত কর্মচারীসহ রাসেলকে ওই সব সেনা কর্মকর্তারা আটক করে।

আতঙ্কিত হয়ে শিশু রাসেল কান্না জড়িতকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘আমি মায়ের কাছে যাব’। পরবর্তীতে মায়ের লাশ দেখার পর অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে মিনতি করেছিলেন ‘আমাকে হাসু আপার (শেখ হাসিনা) কাছেপাঠিয়ে দিন’।

‘আমি মায়ের কাছে যাবো’ – শেখ রাসেল

‘আমি মায়ের কাছে যাব’ এটিই ছিল মৃত্যুর আগে শেখ রাসেলের শেষ কথা।

আরএ কথা দিয়েই উপন্যাস লিখেছেন নওশের আলী হিরা। তার বইতে ফুটিয়েছেন রাসেল সহ জাতির পিতার পরিবারের সবাইকে পরিবারের হত্যার বেদনার্ত বিবরণ। ১৫ আগস্ট১৯৭৫, বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে বর্বর খুনিচক্রের নির্মম বুলেটে নিহত হন১০ বছরের শিশু রাসেল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের পর মায়ের সঙ্গে তার বন্দিজীবন, বড় হয়ে ওঠা, তার স্কুল জীবনের কথা এ গ্রন্থে উল্লেখিত হয়েছে। ১৫আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা, বঙ্গবন্ধুসহ নিহতদের দাফনের বর্ণনা নিখুঁতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে এতে।

স্মৃতিচিহ্ন:
বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলেকে স্মৃতির আয়নায় চির অম্লান রাখতে এ দেশের মানুষ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। এরমধ্যে কুড়িগ্রামে শহীদ শেখ রাসেল স্মৃতি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যা নাগেশ্বরীর হেলিপ্যাড-এ শিশু শিক্ষার অনন্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাসেলের স্মৃতির স্বাক্ষ্য দেয়।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় শেখ রাসেল স্মৃতি সংস্থা। যেটা বন্যাবাড়ী, জোয়ারিয়ায় প্রতিষ্ঠিত।

এছাড়া ঢাকায় শেখ রাসেল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদ। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, যা বাংলাদেশের প্রিমিয়ার লীগ ভিত্তিক ফুটবল ক্লাব।

শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র:
শেখ রাসেলের নামে প্রতিষ্ঠিত শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র। যা দেশের অন্যতম সেরা ক্রীড়া সংগঠন। এটি বাংলাদেশের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল ক্লাব। ১৯৯৫সালে পাইওনিয়ার ফুটবল লীগে খেলার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ক্লাবটি।

Leave a Reply