সর্বশেষ সংবাদ

সিরিজ বোমা হামলার কলঙ্কময় দিন আজ

বরিশাল ওয়াচ ডেস্কঃ ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। সকাল ১০টা। বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ। আবার ঘটে বিস্ফোরণ। কিছুক্ষণ পর খবর মেলে দেশের ৬৩ জেলায় চার শহরও বোমা হামলা চালানো হয়েছে। ১৭ আগস্টের পর একের পর এক আত্মঘাতী হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশ, সরকারি- বেসরকারি কর্মকর্তাসহ ৩৩ জন মারা যান, আহত হন ৪ শতাধিক। ১৪ নভেম্বর ঝালকাঠি আদালতে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল রহমান নিহত হন। জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদশে (জেএমবি) বোমা হামলা চালিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অস্তিত্বের জানান দেয়। আজ সেই ভয়াল সিরিজ বোমা হামলার ৯ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সূত্রে জানাগেছে, এ ঘটনায় ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় মামলা হয় ১৬১টি। এগুলোর মধ্যে এখনো ৫৯টির বিচারকাজ ঝুলে আছে। এসব মামলায় ৭ শতাধিক জঙ্গিকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে ১০২টি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এতে মোট ২৪৭ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১১৮ জনের যাবজ্জীবন এবং ৯৯ জনকে দেওয়া হয়েছে নানা মেয়াদে কারাদণ্ড। খালাস পেয়েছেন ১১৮ জন এবং জামিনে রয়েছেন আরও ৩৫ জন। পলাতক রয়েছেন ৫৩ জঙ্গি। আর এখনো বিচারাধীন আছে ৫৯টি মামলা। এমনকি সাক্ষীর অভাবে থমকে আছে অনেক মামলার বিচার কার্যক্রমও। ৬ জঙ্গির ফাঁসি: ঝালকাঠিতে বিচারক সোহেল আহমেদ চৌধুরী ও জগন্নাথ পাড়ে হত্যার ঘটনা দেশব্যাপী সবচেয়ে বেশি আলোড়ন তোলে। দুই বিচারক হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২১ মার্চ মামুন, সুলতান হোসেন খান, শায়খ আবদুর রহমান, আবদুল আউয়াল, আতাউর রহমান সানি, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, শাকিল আহমেদ ওরফে মোল্যা ওমর (মৃত) ও মেহেদীসহ ৮ জনকে আসামি করে চার্জশিট দাখিল করা হয়। ২০০৬ সালের ৩০ মে মামলার রায়ে শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম বাংলাভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, মাসুম, খালিদ, সাইফুল্লাহসহ মোট ৭ জনকে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ তাদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়। জেএমবির জঙ্গিরা অন্য সংগঠনে: ২০০৭ সালে শীর্ষস্থানীয় ছয় নেতার ফাঁসি কার্যকরের পর জেএমবি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক সদস্য গোপনে আরেক সংগঠন জামায়াতুল মুসলেমিনে যোগ দিয়েছেন। কেউ কেউ যোগ দিয়েছেন জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে। গত বছরের মার্চের দিকে নতুন জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের তৎপরতার কথা প্রকাশ পাওয়ার পর সংগঠনটির ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ে। জানাগেছে, ২০০৮ সালের ১৫ নভেম্বর রাজধানীর মিরপুর থেকে জেএমবির কথিত সামরিক কমান্ডার মো. হানিফ গ্রেপ্তার হন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান- বন্ধু এজাজের মাধ্যমে তাঁরা তিনজন জেএমবি থেকে জামায়াতুল মুসলেমিনে যোগ দেন। অবশ্য এজাজ পরে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেন। ৎ জেএমবির প্রতিষ্ঠাকালীন শুরা সদস্য শাহেদ বিন হাফিজও এখন জামায়াতুল মুসলেমিনে আছেন। সর্বশেষ গ্রেপ্তার হওয়া ও বর্তমানে ডিবির হেফাজতে রিমান্ডে থাকা তিন জঙ্গি সামিন মাহফুজ, জাহিদুর রহমান ও ইসমাইল হোসেনও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তাঁরা শুরুতে জেএমবিতে ছিলেন, পরে জামায়াতুল মুসলেমিনে যোগ দেন। সূত্রে জানাগেছে, জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে হুজি, হিজবুত তাহরির, হিজবুত তাওহিদ, ইসলাম ও মুসলিম, জয়েস–ই-মোহাম্মদ, আল্লাহ’র দল, হিজবুল মুজাহিদিন, লস্কর-ই- তৈয়বা, তাসাইফ মহল ও আনসারুল্লা বাংলা টিমসহ বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের ওপর আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম জানান- জেএমবির অনেক সদস্য জামায়াতুল মুসলেমিন ও আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া বিভিন্ন জঙ্গিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁরা এমন তথ্য পেয়েছেন।

Leave a Reply