সর্বশেষ সংবাদ

বরিশালে ভিজিডি তালিকা তৈরিতে অনিয়ম

মেহেন্দিগঞ্জ  উপজেলা  প্রতিনিধি: জেলার মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার দুস্থ নারীদের জন্য ভিজিডি কার্ডের তালিকা তৈরিতে নিয়মনীতি মানছেন না ইউনিয়ন ভিজিডি উপকারভোগী বাছাই কমিটি। নামের তালিকা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও মেম্বররা টাকা নেওয়ার জন্য বিলম্ব করছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মোহাম্মদ জাকী বলেছেন, টাকা নেওয়ার বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিয়ম অনুযায়ী অতিদরিদ্র পরিবারের প্রধান, যার অন্য কোনো আয়ের উৎস্য নেই এবং যাদের জমি ০.১৫ শতকের নিচে তারাই ভিজিডি কার্ড পাওয়ার যোগ্য। অথচ বেশির ভাগ ইউপি সদস্য ও এক শ্রেণীর দালাল আর্থিক লাভবান হয়ে ভিজিডি উপকারভোগী বাছাই করে তাদের নাম তালিকাভুক্ত করার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে নয় সদস্য বিশিষ্ট ভিজিডি বাছাই কমিটি থাকলেও তারা এর শর্ত মানছেন না। এ ছাড়া প্রতিটি ওয়ার্ডের জন্য পৃথক পৃথক চার সদস্য বিশিষ্ট ক্ষুদ্র দল গঠন করার বিধান থাকলেও কেউ পরিপত্র মাফিক তালিকা তৈরি করেন না বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে একজন সরকারি কর্মকর্তা ও ভিজিডি কার্যক্রমে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধির নাম কাগজে-কলমে থাকলে বাস্তবে তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

ইউপি সদস্য ফাতেমা বেগম জানান, তারা সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ক্ষুদ্র দলের প্রধান, তা তারা জানে না। এ ক্ষুদ্র দলটি প্রতিটি গ্রামবাসীর উপস্থিতিতে জনসভার মাধ্যমে সকলকে অবহিত করবেন এবং ছক অনুযায়ী ভিজিডি মহিলা বাছাই করে প্রাথমিক তালিকা তৈরি এবং বরাদ্দ করা কার্ডের সংখ্যা ব্যাখ্যা করবেন। বাস্তবে এ নিয়ম কোনো ইউনিয়নেই মানা হচ্ছে না।

তিনি জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আমাদের নাম দিতে বলেন, আমরা দেই। এ জন্য ইউপি সদস্যরা তাদের খেয়াল খুশিমত তালিকা প্রস্তুত করায় বাদ পড়ছেন প্রকৃত দুস্থরা।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার অফিস থেকে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে তিন হাজার ২১৯টি কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চর গোপালপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা মৃত শহীদের স্ত্রী সাহের বানু আক্ষেপ করে জানান, আমার স্বামী দুই বছর আগে মারা গেছেন। চেয়ারম্যান আমাকে বিধবা ভাতার কার্ড দেবে বললেও আজ পর্যন্ত তা আমার ভাগ্যে জোটেনি। আমি ভিজিডি কার্ডের জন্য মেম্বারের কাছে গেলে দুই হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে না পারায় কার্ডও দেয়নি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাহরিন আফরোজ এ প্রসঙ্গে জানান, ১০ নভেম্বরের মধ্যে ভিজিডি কার্ড বিতরণের কথা থাকলেও সময়মত তালিকা দিতে পারেনি ইউপি চেয়ারম্যানরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদ মোহাম্মদ জাকী জানান, আমি এ ব্যাপারে খবর রাখছি। অনেকে টাকা নিয়ে উপকারভোগী বাছাই করছে- এমন কথাও শুনেছি। পূর্ণাঙ্গ তালিকা হাতে পেলে যাচাই-বাছাই করে তবেই অনুমোদন দেওয়া হবে। অনিয়মের বিষয় প্রমাণিত হলে ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।

Leave a Reply