সর্বশেষ সংবাদ

বাড়ছে শীতের প্রকোপ নগরীর চারিদিকে শীতবস্ত্র কেনার ধুম

সাঈদ বারীঃষড় ঋতুর সোনার বাংলায় ঋতুচক্রে এখনও শীতকাল পুরোপুরি না এলেও ধীরে ধীরে শীতের প্রকোপ বাড়ছে। সেই সাথে বাড়ছে শীতবস্ত্র কেনাকাটার ধুম। শীতে হিমেল পরশ থেকে বাঁচতে সব বয়সের শ্রেণী পেশার মানুষের ভিড় বাড়ছে নগরীর শীতবস্ত্র বিক্রির মার্কেটগুলোতে। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্তদের পদচারণায় মহসিন মার্কেট, জেলা পরিষদ পুকুর পাড় এবং ফুটপাতগুলোতে।

আর একই সাথে সাথে শীত মৌসূমের শুরুতেই জমে উঠেছে বরিশালের পুরনো শীত বস্ত্রের দোকান গুলো । প্রতিনিয়ত পুরনো শীত বস্ত্রের দোকানগুলোতে বাড়ছে ক্রেতার সংখ্যা । বিভিন্ন রকম শীত বস্ত্রের সমাহার নগরীর মহসিন মার্কেট, সিটি মার্কেট ও ফজলুল হক এভিনিউর জেলা পরিষদ পুকুর পাড় এবং ফুটপাতগুলোতে। পুরনো শীত বস্ত্রের গাইড খুলে তা আয়রণ করে সাজিয়ে

রাখা হয়েছে দোকানগুলোতে। মহসিন মার্কেটে দোকান রয়েছে প্রায় আড়াইশ’র মত। বেশীরভাগ দোকানেই শীতবস্ত্র হিসেবে শোভা পাচ্ছে বিদেশী পুরানো জ্যাকেট, কম্বল, চাঁদর, কার্ডিগ্যান ও সোয়েটার। বাকী দোকানীরা গার্মেন্টস আইটেমের পোশাকের পসরা সাজিয়েছে বসেছে। বিপনিবিতানগুলোতে যারা গরমের সময় গার্মেন্টস আইটেমের ব্যবসা করতেন তারাও এখন পুরনো শীতবস্ত্রের ব্যবসা করছেন। মহসিন মার্কেটের  জুম্মান ট্রেডার্সর মালিক  আনোয়ার হোসেন জানান, গার্মেন্টস আইটেমের চেয়ে শীতবস্ত্রে লাভ বেশী থাকায় তারা এ সময় শীতবস্ত্রের ব্যবসা করেন। আবার এ মৌসুমে গার্মেন্টসের অন্য আইটেম বিক্রি হয় না বললেই চলে। বিক্রি বেড়ে যায় একচেটিয়া শীত বস্ত্রের। তাই সকল ব্যবসায়ীরা ঝুঁকে পড়েন শীতবস্ত্রের ব্যবসার দিকে। মহসিন মার্কেট ও সিটি মার্কেটসহ শীতবস্ত্রের জন্য উল্লেখযোগ্য মার্কেটগুলোতে পুরনো পোষাকের কদর বেশি। বরিশালের ব্যবসায়ীরা পুরনো শীতবস্ত্রের এ গাইড চট্টগ্রাম থেকে ক্রয় করেন। ব্যাবসায়ীরা জানান, জ্যাকেটের গাইডের দাম পড়ে ১৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা। সোয়েটারের গাইডের দাম ১০ হাজার টাকা থেকে ১৫ হাজার টাকার মধ্যে। এ সকল গাইড এমনভাবে আটকানো থাকে তাতে কি রকম মাল পড়বে তা বোঝার কোন উপায় থাকে না ব্যবসায়ীদের। কারণ আগে থেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে জ্যাকেট, সোয়াটার, কোর্ট ও কম্বলের গাইড তৈরী করে রাখা হয়। ভাগ্যের উপর নির্ভর করে এখানের ব্যবসায়ীরা ঐ সকল গাইড ক্রয় করেন। যে সকল ব্যবসায়ীর একার পে গাইড কেনা সম্ভব হয় না তারা ২/৩ জন মিলে গাইড ক্রয় করে তা ভাগ করে নেন। শীত মৌসুমেই এ মার্কেটটি বেশী জমজমাট থাকে। এখানে ধনী পরিবার থেকে শুরু করে নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্র্রেণীর লোকজন শীতবস্ত্র কিনতে আসে। এখন সকাল ৯টা থেকে রাত ১১ টা অবধি এখানের ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন । কনকনে শীত পড়ার সাথে সাথে এখানে গত ২/৩ দিন যাবত জমজমাট বেঁচাকেনা হচ্ছে। ক্রেতারা জানান, ১শ’ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার  টাকার মধ্যে এখানে সুন্দর সুন্দর  শীতবস্ত্র পাওয়া যায়।রবিবার  মহসিন মার্কেটে কথাহয় শীত বস্ত্রের ক্রেতা জর্ডন রোডের এমএস জামান মনোজে’র সাথে তিনি বলেন, এবার ভালো ভালো আইটেমের শীত বস্ত্র এসেছে তবে দাম হাকছে গতবারের চেয়ে দ্বিগুন । তার মতে গত বছর যে জ্যাকেট ৫ শত টাকায় ক্রয় করেছি তা এবার ৮ থেকে ১ হাজার টাকা হাকছে । গরিবের ক্রয় মতার বাইরে চলেগেছে পুরোনো শীত বস্ত্রও ।
তবে ব্যবসায়ীরা জানান, দাম নির্ভর করে ক্রেতার পছন্দের উপর। তাছাড়া গাইডে যে সকল ভাল জ্যাকেট, সোয়েটার, কোর্ট ও কম্বল পাওয়া যায় তার দাম তুলনামূলক বেশীই হয়। ঐ ভাল পোশাকগুলো থেকেই তাদের ব্যবসা বের করতে হয়। তাছাড়া ক্রেতার পছন্দের উপর নির্ভর করেও অনেক সময় দামটা একটু বেশী হাঁকিয়ে বসেন বিক্রেতারা। তারপর দরদাম করে ক্রেতার কিনতে হয়। এসব পোশাকের পাশাপাশি মহসিন মার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে হরেক রকমের কম্বল। ৩শ’ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার টাকা মূল্যের কম্বল রয়েছে এ মার্কেটে। কমদামী কম্বলগুলো পুরনো গাইড হিসেবে কিনে আনা হয়। গাইডের বাইরে থাকা নতুন কম্বলের দাম একটু বেশি। পুরনো শীতবস্ত্রের জন্য নগরীতে মহসিন ও সিটি মার্কেটের বেশ পরিচিতি রয়েছে। তাছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এদের কাছ থেকে পোশাক নিয়ে কেউ সড়কের পাশে আবার কেউ ভ্যানগাড়িতে করে বিক্রি করছে। শীত বাড়ার সাথে সাথে নগরীর বিভিন্ন পাড়ায় পাড়ায় পর্যন্ত এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা শীতবস্ত্র বিক্রি করতে পসরা সাজিয়ে বসেন। রবিবার মহসিন ও সিটি মার্কেট ছিল শীত বস্ত্র ক্রেতা দের দখলে। তাদের বেঁচাকেনাও ছিল জমজমাট। তবে ক্রেতারা বলছেন, গতবছরের তুলনায় কাপড়ের দাম এবার একটু চড়া। গতবার বাচ্চাদের যে কাপড় ৬০-৭০ টাকার মধ্যে ছিল তা এবার ৯০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বড়দের যে কাপড় ১২০-১৩০ টাকায় ছিল এবার তা বিক্রি হচ্ছে ১৭০-২০০ টাকায়। বাচ্চাদের শীতের পায়জামা ১০০(কমপক্ষে) টাকা, সোয়েটার সেট ৩৫০ টাকা, হাতা লম্বা গেঞ্জি, ব্লেজার ২৫০ টাকা টাকা থেকে ৪শ’ টাকা, কানটুপি ৬০- টাকা থেকে ৭০ টাকা, মোজা ৫০ টাকা, বড়দের সোয়েটার ৪শ’৫০ টাকা থেকে ৮শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বহুমুখী সিটি মার্কেটের দোকানদার ইয়ামিন। জেলা পরিষদ পুকুর পারের শীত পোশাকের দোকানদার  আঃ রইছ জানান, ঠান্ডা শুরু হওয়ায় ওই মার্কেটে  ট্রাউজার গেঞ্জি, লেডিস সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে। একই স্থানের অন্য  দোকানদার রুবেল  জানান, এক দুই দিন হলো ঠান্ডা পড়ছে। তাই বেচাকেনা শুরু হয়েছে পুরোদমে। আরো বেশি ঠান্ডা না পড়লে বেচাকেনা আরো জমবে। বরিশাল সদর উপজেলার চরামদ্দি গ্রামের আব্দুল সালাম গতকাল মহসিন মার্কেটে আসেন শীতের পোশাক কিনতে। তিনি জানান, তার দু’টি সন্তান ও নিজেদের জন্য সোয়েটার কিনবেন। মারিয়া নামে আরেক ক্রেতা ও বাজারে আসেন শীতের পোশাক কিনতে। তিনি জানান, তার ছেলের জন্য প্যান্ট ও সোয়েটার কিনেছেন। পুরাতন কাপড় কেনার সময় কথা হয় বাবুগঞ্জের  চুন্নু হাওলাদারের সাথে।এ  সময় তিনি বলেন, প্রতি বছরই শহরে আসি পরিবারের ছেলেমেয়েদের জন্যে অল্প দামে শীতের কাপড় কিনতে। কম দামে এতো ভালো কাপড় আর কোথাও পাওয়া যায় না। তবে এবার দাম একটু চড়া। ব্যবসায়ীরা দামে ছাড় দিচ্ছে না। তবু থেমে নেই শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের শীতবস্ত্র কেনার আগাম প্রস্তুতি ।

 

Leave a Reply