সর্বশেষ সংবাদ

কামারুজ্জামানে মৃত্যু পরোয়ানা কারাগারে

মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে পৌঁছেছে।

লাল কাপড়ে মোড়ানো মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারে এসে পৌঁছে। ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাব উদ্দিন আহমেদ মৃত্যু পরোয়ানাটি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী বলেন, আজই কামারুজ্জামানকে মৃত্যু পরোয়ানাটি পড়ে শোনানো হবে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় করাগারের জেলার নেসার আলম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ট্রাইব্যুনালের মৃত্যু পরোয়ানার কপি আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে। পরোয়ানার কপিতে যে সব আদেশ উল্লেখ আছে তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ পরোয়ানা জারি করেন।

দুপুর ১টার দিকে একটি সাদা রংয়ের মাইক্রোবাসে করে মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি নিয়ে রওয়ানা দেন ট্রাইব্যুনালেরডেপুটি রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) আফতাব উদ্দিন আহমেদসহ চারজন। মৃত্যু পরোয়ানাটি লাল কাপড়ে মোড়ানো ও সিলগালা করা ছিল। তাদের কাছে ব্রাউন কালারের কাগজে মোড়ানো আরেকটি প্যাকেট ছিল।

মৃত্যু পরোয়ানা ও পূর্ণাঙ্গ রায়ের তিনটি কপি ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পৌঁছানো হয়।

বুধবার মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়। প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাসহ চারজন বিচারপতির স্বাক্ষর শেষে বুধবার দুপুরে ৫৭৭ পৃষ্ঠার রায়ের কপি প্রকাশ করা হয়।

নিয়মানুযায়ী কামারুজ্জামান ১৫ দিন সময় পাবেন রিভিউ করার জন্য। যদি এই সময়ের মধ্যে কামারুজ্জামান রিভিউ করেন তাহলে রিভিউ নিষ্পত্তি হওয়ার পর রায় কার্যকর করতে পারবে সরকার।

আর তিনি যদি রিভিউ না করেন তবে সরকারকে রায় কার্যকর করতে ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে আপিল বিভাগ বলেছেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া কাদের মোল্লার রিভিউয়ের আবেদনের রায়ে এ সব কথা উল্লেখ করেছিলেন আপিল বিভাগ।

রায়ে আরও বলা হয়েছে, আপিল বিভাগ রুলসে রিভিউ দায়েরের ক্ষেত্রে যে সময়সীমার কথা বলা হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালস আইনের অধীনে রায়ের রিভিউর ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। এক্ষেত্রে ১৫ দিনের সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রিভিউ আবেদন নিষ্পত্তি হবে।

রায়ে আদালত বলেছেন, আপিল বিভাগের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে মৃত্যু পরোয়ানা জারির আদেশ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছলে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদনের সুযোগ দেবেন। একই সঙ্গে তাকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দিতে হবে। যদি কোনো রিভিউ অথবা প্রাণ ভিক্ষার আবেদন দায়ের করা হয়, তাহলে ওই আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না।

রিভিউয়ের রায় অনুযায়ী কামারুজ্জামানের আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের আনুমানিক ২০-২৫ দিন পর তা কার্যকর হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত বছরের ৩ নভেম্বর তৎকালীন জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ও বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ কামারুজ্জামানের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।

বেঞ্চের অপর তিন বিচারপতি হলেন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী।

কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সোহাগপুরে গণহত্যার দায়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ফাঁসির রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ। রায়ে জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা বিভক্ত রায় দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

একই সঙ্গে কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে আনীত গোলাম মোস্তফাকে হত্যার অভিযোগে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডাদেশ কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আপিল বিভাগ। বিচারপতিদের সর্বসম্মতিক্রমে এ দণ্ড দেয়া হয়েছে।

গত বছরের ৬ জুন ট্রাইব্যুনাল-২ এর দেওয়া ফাঁসির আদেশ থেকে খালাস চেয়ে আপিল করেন কামারুজ্জামান। আপিলে ২৫৬৪টি মূল ডকুমেন্ট, ১২৪টি গ্রাউন্ডসহ সর্বমোট ১০৫ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট জমা দেয়া হয়েছে।

এর আগে গত ৯ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ কামারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। তার বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা ৭টি অভিযোগের মধ্যে ৫টিই সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল। এ ছাড়া বাকি দুটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে তাকে খালাস দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ১৩ জুলাই কামারুজ্জামানকে হাইকোর্ট এলাকা থেকে একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ২ আগস্ট তাকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গ্রেফতার দেখানো হয়।

সূত্রঃ দ্যা রিপোর্ট

Leave a Reply