সর্বশেষ সংবাদ

কলাপাড়ায় মাটি কাটা ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিকদের বিক্ষোভ

কলাপাড়া পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মাটি কাটা ৫ শতাধিক নারী-পুরুষ শ্রমিকরা কাজের এককালীন টাকা আদায়ের দাবিতে বিক্ষোভ করেছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা মুসলিম এইড’র বিশ্ব খাদ্য কর্মসুচী: দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব সহনশীর্ষক প্রকল্প ই আর ও ই আর প্লাস প্রজেক্টের আওতায় ওইসব হতদরিদ্র শ্রমিকরা রবিবার দুপুরে পৌরশহরে মিছিল শেষে কলাপাড়া প্রেসক্লাব ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। তারা অবিলম্বে তাদের নায্য পাওয়ানা আদায়ের জন্য লিখিত দাবী জানান। এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে বিক্ষোপকারীরা শান্ত হয়।

বিক্ষোভকারীদের লিখিত অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের কাজের এককালীন ২০ হাজার টাকা প্রদানের কথা থাকলেও তা প্রদান করা হয়নি। অথচ ওই ইউনিয়নে ৮৫০ জন শ্রমিক কাজ করেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৬টি ইউ জার্ছের ৩১ গ্রুপের সদস্যদের মধ্যে থেকে কিছু সংখ্যক লোককে টাকা দেওয়ার জন্য তালিকা করা হয়েছে। তালিকা থেকে বাদ পরা শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। তাদের দাবী অনিয়মের মধ্যদিয়ে তালিকা করে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। মুসলিম এইড অফিস সূত্রে জানা গেছে, , বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী: দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রভাব সহন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নে ৮০০ জন, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নে ৮৫০ জন ও ধুলাসার ইউনিয়নে ৮৫০ জন নারী-পুরুষ শ্রমিক ই আর প্রজেক্টে কাজ করেছে। তাদের প্রত্যেককে মাসে ৪টি ট্রেনিং শেষে ৬ শ’ ৫২ টাকা ৫০ পয়সা ও সাড়ে ২২ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ৩৪০জন শ্রমিককে ই আর প্রাস প্রজেক্টের মাধ্যমে এককালীন ১২ হাজার ও বৃত্তি বাবদ ৬ হাজার টাকা প্রদানের জন্য তালিকা করা হয়েছে।

ধুলাসার ইউনিয়নের বেতকাটা পাড়ার ৪ নং ইউজার্ছ কমিটির সভাপতি রাখাইন মালা মাতুব্বর জানান, আমার গ্রুপে ১৭০ জন সদস্য গত দুই বছর ধরে এ প্রজেক্টে কাজ করেছে। আমাদের সকলের কাজের হিসাবের আইডি কার্ড অফিসের লোকেরা নিয়া গেছে। তারা যে টাকা দেওয়ার কথা বলেছে তা পরিশোধ করে নাই। একই ইউনিয়নের ২ নং ইউজার্ছ কমিটির সভাপতি মো. ফিরোজ জানান,প্রজেক্ট শেষ হয়ে গেলেও প্রকল্প থেকে এক মাসের ট্রেনিংয়ের টাকা, সদস্যদের জমাকৃত ৩২শ থেকে ৪২শ টাকা ও বৃত্তির টাকা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো.খালেকুজ্জামান জামান খলিফা জানান, মুসলিম এইড সংস্থা ৮৫০ জন লোক দিয়ে মাটি কাটার কাজ করিয়েছে। তারা কাজের শেষে প্রত্যেক শ্রমিককে ১৮ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলেছে। কিন্তু এখন মাত্র ৩৪০ জন শ্রমিককে টাকা দেয়ার তালিকা করায় বঞ্চিত শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছে। মুসলিম এইড উপজেলা কোর্ডিনেটর নাছিমুল হক জানান, মুসলিম এইড প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী। এল জি ই ডি থেকে যত তাড়াতাড়ি প্রশিক্ষনের টাকা পাওয়া যাবে শ্রমিকদের নিকট তা দ্রুত পৌছে দেয়া হবে। উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আবদুল মোতালেব তালুকদার জানান, শ্রমিকদের নায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত করা হবে না। যদি কোন অনিয়ম করা হয় তাহলে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply