সর্বশেষ সংবাদ

নিষেধাজ্ঞার ২৩ দিনেও সরকারি সাহায্য পায়নি ভোলার জেলেরা

ভোলা প্রতিনিধি : সরকার ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নদ-নদীতে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। নিষেধাজ্ঞার এই দুই মাস সরকারি সাহায্য পাওয়ার কথা জেলেদের। কিন্তু ওই সাহায্য গত ২৩ দিনেও তা তাদের হাতে পৌঁছেনি। আর এতে জেলেরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

জেলার ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন জেলে পল্লীগুলোতে সরজমিন ঘুরে জেলেদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য পাওয়া যায়।

সদর উপজেলার জেলেপল্লীর করিম, সেন্টু ও শহিদ জানান, ‘গত মৌসুমে নদীতে ভাল মাছ পাইনি। মহাজনের কাছে অনেক টাকা দেনা আছি। এনজিওর কিস্তির টাকাও পরিশোধ হয় নাই ঠিক মতোন। দেনার ভয়ে পলাইয়া পলাইয়া বেড়াই। দুই মাস ধইরা নদীতে সরকার মাছ ধরা নিষেধ করছে। এহন দুই বেলা ঠিক মতোন ভাত খাইতে পারি না। সরকার প্রতি বছর আমাগোরে সাহায্য করে। কিন্তু এই বছর এহনো সাহায্য পাই নাই।’

দৌলতখান উপজেলার জেলে আফছার উদ্দিন, নিয়ামত, আবদুল লতিফ জানান, ‘ধার-দেনা কইরা সংসার চালাই। এনজিওর কিস্তির টাকা দিতে পারছি না। এদিকে সরকারি সাহায্য এহনোও পাই নাই।’

তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমহনী জেলেপল্লীর জসিম, হাফিজ ও লিটন জানান, ‘স্যার, টাকার লইগা কয়দিন বাড়িত যাই না। বাড়ি গেলে ব্যাংকের অফিসারেরা কিস্তির টাকার লইগা ধরবো। মহাজন এহন আমাগোরে জিগায় না। বউ মোবাইল করছিল ঘরে চাল নাই। এহন পলাইয়া কামলার কাম কইরা বাড়িতে চালের টাকা পাঠাই। সরকারি সাহায্য পাইলে এত কষ্ট করোন লাগত না।’

জেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, ভোলার সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় সরকারি তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা রয়েছে ৫২ হাজার ১৫০ জন। নিষেধাজ্ঞার এই দুই মাস জেলেদের পরিবারকে সরকারিভাবে ৪০ কেজি চাল বিতরণ করা হয়। এ বছরও একই পরিমাণ চাল বিতরণ করা হবে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রতিষ কুমার মণ্ডল জানান, ‘আমরা জেলেদের সাহায্যের জন্য ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন করেছি। ইতোমধ্যে আমরা একটি চিঠি পেয়েছি। আশা করি কয়েকদিনের মধ্যে এ বছরও জেলেদের পরিবারকে সরকারিভাবে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ৪০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হবে।’

Leave a Reply