সর্বশেষ সংবাদ
‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’

‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’

বরিশাল ওয়াচ ডেস্কঃবাঙালির কাছে মার্চ মাস ফিরে আসে গনগনে স্মৃতি নিয়ে প্রতিবছর। আর এ কারণেই কবি উচ্চারণ করেন এই পঙক্তি—

বলতে পারো বীর বাঙালির স্বপ্ন বেশি কার চে’

বীর বাঙালি জেগে উঠে একাত্তরের মার্চে।

প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান গণপরিষদের সাধারণ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করার পর পূর্ববাংলার ছাত্র সমাজ প্রথম স্লোগান তুলে, ‘বীর বাঙালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। বিক্ষুব্ধ ছাত্রদের দাবির মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে কর্মসূচি ঘোষণা করেন তার মধ্যে ছিল ২ ও ৩ তারিখে তৎকালীন পাকিস্তানে সর্বাত্মক হরতাল। আর ৪ দিনের মাথায় ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভার ঘোষণ দেওয়া হয়।

আর সেদিনই দুই যুগের নিরবচ্ছিন্ন আন্দোলনের হাত ধরে ঘোষিত হয়েছিল বাঙালির মুক্তি সনদের অমর কাব্য , ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’।

মূলত ইয়াহিয়া খানের ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়ে যায় উত্তাল মার্চ, যা এক পর্যায়ে গণহত্যা এবং প্রতিবাদে মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়।

সকল ষড়যন্ত্র ভেস্তে দিয়ে যাতে নির্বাচিত গণপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয় সে দাবিটাও সবখানে খুব জোরালো ছিল। কিন্তু তাতে কোনো ফল হয়নি। প্রত্যেককে ছয় দফা এবং ১১ দফা বাস্তবায়নে যে কোনো আত্মত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়। সে দিন ইয়াহিয়ার ঘোষণার কারণে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। আন্তর্জাতিক একাদশ ও বিসিসিপি একাদশের মধ্যেকার টেস্ট ম্যাচ পণ্ড হয়ে যায়। ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় নামে মিছিলের ঢল। একই ধারা বয়ে যায় দেশের অন্যান্য শহরগুলোতেও।

সিলেট মেডিকেল কলেজের ছাত্ররা ক্লাস বর্জন করে নেমে আসে রাস্তায়। খুলনা শহীদ মিনার এবং যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হতে থাকে প্রতিবাদী জনতা। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গা থেকে মিছিল নিয়ে মুক্তিকামী জনতা হোটেল পূর্বাণীর সামনে জড়ো হয়। বঙ্গবন্ধু ক্রুদ্ধ জনতাকে শান্ত করতে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সঙ্গে সঙ্গে জানিয়ে দেয়া হলো ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জনসভা হবে। সেখানে তিনি তাঁর বক্তব্য রাখবেন। বাঙালি জাতি নতুন স্বপ্নে বুক বাঁধল।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ছয় দফা দাবি পেশ করেন। ছয় দফা ম্যান্ডেট নিয়ে পাকিস্তানে ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের রাজনৈতিক দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভ করে আওয়ামী লীগ। পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তার উত্তরণ ঘটে। জনগণ প্রত্যাশা করেছিল নির্বাচিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে পূর্ব পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার ইতিহাসের গতি পাল্টাবেন। পাকিস্তানের শাসকবর্গ, কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং কিছু সামরিক কর্মকর্তা ষড়যন্ত্রের গ্রন্থিগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত করেন যেন শাসনক্ষমতা কোনোক্রমে বাঙালির হস্তগত না হয়। পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ তা সঠিকভাবে অনুধাবন করেন।

সূত্র : ইন্টারনেট

Leave a Reply