সর্বশেষ সংবাদ

ভোলায় আলুর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

ভোলা সংবাদদাতাঃ ভোলায় কৃষকদের ঘরে ঘরে এখন আনন্দ-উল্লাস। ঘরে বসে নেই কেউ। কৃষান-কৃষানী, ছোট-বড় সকলে ক্ষেত থেকে আলু তুলায় ব্যস্ত। বিস্তীর্ন ফসলের ক্ষেতে বাম্পার ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষক ও পাইকারদের। বিগত বছরের লোকসান পুষিয়ে এবার যেমন বাজার দাম পাচ্ছেন তেমনি হেক্টর প্রতি উৎপাদন বৃদ্ধি হওয়ার ফলে লাভবান হচ্ছেন তারা।  এতে করে আগামীতে আলু উৎপাদন আরো বেশি আগ্রহ বেড়েছে চাষীদের।

কৃষকরা বলছেন,  উন্নত বীজ ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারের আলুর ফলন বিগত কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগ ও চাষিরা জানিয়েছে, এ বছর লক্ষমাত্রার অধিক আলুর আবাদ হলেও মৌসুমের শুরুতে শীতের সময় হঠাৎ বৃষ্টি ও ক্ষেতে রোগসহ  পোকার আক্রমনে বিপর্যয় মুখে পড়েছিলো ভোলার আলু চাষীরা। কিন্তু সেই বিপর্যয় কাটিয়ে ফলন ভাল হওয়ায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে তারা। আলুর বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষীদের ঘরে ঘরে বইছে আনন্দের বন্যা। তারা এখন বুনছে স্বপ্নের জাল।

ভোলা সদরের চর আনন্দ এলাকার কৃষক কবির হোসেন বলেন, গত বছর আলুর বীজ নষ্ট থাকায় তার প্রায় দুই লাখ টাকার লোকসান হয়েছে। এ বছর মৌসুমের শুরুতে হঠাৎ বৃষ্টি হওয়াতে প্রথম দিকে ক্ষেতে কিছু সমস্য দেখা দেয়। কিন্তু পরবর্তীতে ফলন ভাল হয়।

কৃষক ফারুক ও  শাহ আলম বলেন, গত বছর আলু চাষ করে লোকসান হয়েছিল, কিন্তু এবার এনজিও থেকে ঋন নিয়ে আলু চাষ করেও দুশ্চিন্তায় ছিলাম, তবে এখন  আমরা খুশি। ফলনও অনেক ভালো আবার বাজার দামও অনেক ভালো।

ইলিশা গ্রামের আলু চাষী নুরে আলম বলেন,  এবার আলু উৎপাদনে দুই লাখ টাকা খরচ হলেও চার লাখ টাকার আলু বিক্রি করেছি। আলু চাষি ছিদ্দিক বলেন,গত বছর এক মন আলু বিক্রি হয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা। কিন্তু এ বছর এখনই বিক্রি হচ্ছে মন প্রতি ৩৫০ টাকা দরে।

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, অনেকেই দাম বেশি পাওয়ার আশায় ভোলা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছে। আবার অনেকে ভোলা কোল্ড ষ্টোরে আলু মজুদ করে রাখছে। ভোলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের  উপ-পরিচালক রামেন্দ্র নাথ বাড়ৈ বলেন, এ বছর আবহওয়া অনুকূলে থাকায় ভোলায় ভাল ফলন হয়েছে।   জেলায় এ মৌসুমে আলু লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো পাঁচ হাজার ২৬৮ হেক্টর। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আবাদ হয়েছে ছয় হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে।  আর উৎপাদন হয়েছে এক লাখ ৩৫ হাজার ৩৬০ মেট্রিক টন আলু। গত বছর হেক্টর প্রতি উৎপাদন হয়েছিল ২২ মেট্রিক টন। কিন্তু এবার ফলন পাওয়া গেছে হেক্টর প্রতি ২৩ মেট্রিক টন।

Leave a Reply