সর্বশেষ সংবাদ

যেসব ক্রিকেটারের সঙ্গে প্রেম করতেন অভিনেত্রীরা

লাইভ ডেস্ক: বহুদিন আগে থেকেই বিশেষ করে উপমহাদেশে চলছে এই ঘটনা।

সেই আশির দশকে শর্মিলা ঠাকুর-মনসুর আলি আর ইমরান খান-জিনাত আমান দিয়ে শুরু।

এরপর মিডিয়ায় এসেছে আরও বহু প্রেম কাহিনী।

অনেক আগে থেকেই হিন্দি সিনেমার অভিনেত্রী আর ক্রিকেটাররা ধরা পড়েছেন প্রেমের জালে।

শর্মিলা ঠাকুর-মনসুর আলি থেকে শুরু করে হালের আনুশকা শর্মা-বিরাট কোহলি।

ক্রিকেটার-নায়িকার প্রেমের ইনিংস চলছে এখনো। তাই নিয়েই আজকের এই আয়োজন…


ইমরান খান-জিনাত আমান

আশির দশকে বিনোদন জগতে আলোচিত ঘটনা ছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ইমরান খান এবং হিন্দি সিনেমার নায়িকা জিনাত আমানের প্রেম। ইমরান অক্সফোর্ডে শিক্ষিত সুদর্শন তরুণ।

আর জিনাত আমান মুক্তমনা আধুনিকা। দুজনেই সে সময়ের যৌন আবেদনের প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। তাদের প্রেম অবশ্য বিয়ে অবধি গড়ায়নি।


গ্যারি সোবার্স-অঞ্জু মহেন্দ্র

ষাটের দশকে ভারতে খেলতে আসেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি খেলোয়াড় গ্যারি সোবার্স। ভারতীয় অভিনেত্রী এবং টিভি তারকা অঞ্জু মহেন্দ্রর প্রেমে পড়েন তিনি।

তাদের প্রেম ছিল নিখাঁদ এবং তা বাগদান পর্যন্ত গড়ায় বলে আত্মজীবনীতে উল্লেখ করেছেন সোবার্স। কিন্তু অঞ্জুর মা-বাবা চাননি তাদের মেয়ের বিয়ে হোক কোনো কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষের সঙ্গে।

তাই শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ প্রেমের হাহাকার হৃদয়ে নিয়ে ফিরে যেতে হয় গ্যারি সোবার্সকে।


নিনা গুপ্তা-ভিভ রিচার্ডস

ওয়েস্ট ইন্ডিজের আরেক কিংবদন্তি ক্রিকেটার ভিভিয়ান রিচার্ডসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে আশির দশকে রীতিমতো হইচই ফেলে দেন অভিনেত্রী নিনা গুপ্তা।

বিবাহিত রিচার্ডসের প্রেমেই শুধু পড়েননি নিনা, মা হন তার সন্তানেরও।

রিচার্ডস অনেকদিন সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার না করলেও পরে নিনার মেয়ে মাসাবাকে নিজের সন্তান বলে স্বীকার করে নেন।



মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন-সংগীতা বিজলানি

ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আজহার উদ্দিন খেলার মাঠে প্রচুর ছক্কা পিটালেও সংগীতা বিজলানির গুগলিতে চিরদিনের জন্য কট অ্যান্ড বোল্ড হয়ে যান।

১৯৮০ সালের মিস ইন্ডিয়া সংগীতা ছিলেন সালমান খানের প্রেমিকা। আজহার উদ্দিন তখন বিবাহিত নওরিনের সঙ্গে। কিন্তু খেলার মাঠে দুজনের পরিচয় এমনই প্রেমে গড়ায় যে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ-বিচ্ছেদের পথ বেছে নেন আজহার।

ঘর ভাঙ্গার বদনাম মাথা পেতে নিয়েও সম্পর্ক ধরে রাখেন সংগীতা। তবে ২০১০ সালে দুজনের সম্পর্কে ভাঙ্গনের সুর বাজে এবং তারা বিচ্ছিন্নতার পথে হাঁটেন।


রবি শাস্ত্রী-অমৃতা সিং

সুদর্শন রবি শাস্ত্রী এবং নায়িকা অমৃতা সিংয়ের রোমান্স খুব বেশি দিন স্থায়ী না হলেও তা অনেক গুঞ্জনের জন্ম দেয়। দুজনের পরিচয় শারজাহর ক্রিকেট মাঠে। পরস্পরের দৃষ্টি বিনিময় এবং হাসি চোখে পড়ে অনেকেরই। মুম্বাইয়ের ছেলে রবি বেশ কিছুদিন প্রেম চালান অমৃতার সঙ্গে। কিন্তু প্রেম বেশি দিন টেকেনি তাদের।


সৌরভ গাঙ্গুলি-নাগমা:

কলকাতার দাদাবাবু সৌরভ টিভিতে যতই দাদাগিরি করুন না কেন দক্ষিণী নায়িকা নাগমার গুগলিতে তিনি আরেকটু হলেই হারাতে বসেছিলেন সংসার, ক্যারিয়ারও হয়ে পড়েছিল টালমাটাল।

বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সৌরভ কোনো মন্তব্য করতে রাজি না হলেও নাগমা কিন্তু স্বীকার করেছিলেন তাদের প্রেমের কথা। তবে শেষ পর্যন্ত সংসার এবং ক্যারিয়ার বাঁচাতে নাগমাকেই ‘আউট’ করেন সৌরভ।



রিনা রয়-মোহসিন খান

‘না]গিন’, ‘নসিব’, ‘জানি দুশমনে’র মতো হিট ছবিতে অভিনয় করে সুন্দরী রিনা রয় তখন বলিউডে বেশ ভালো অবস্থান গড়ে নিয়েছেন। এ সময় পাকিস্তানি ক্রিকেটার মোহসিন খানের প্রেমে পড়ে ক্যারিয়ারের বারোটা বাজিয়ে বিয়ে করেন তাকে।

১৯৮৩ সালে এই বিয়ে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি হয় দুদেশেই। মোহসিন এমনকি  বলিউডি সিনেমায় ক্যারিয়ার গড়ারও চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের বিয়েটা শেষ পর্যন্ত টেকেনি। পাকিস্তানে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারেননি নায়িকা রিনা। এই জুটির একমাত্র সন্তান বাস করছেন মুম্বাইয়ে মায়ের সঙ্গে।


শোয়েব আখতার-সোনালি বেন্দ্রে

রাওয়ালপিন্ডি এক্সপ্রেস চিরদিনের জন্য বোল্ড হয়েছিলেন সুন্দরী অভিনেত্রী সোনালি বেন্দ্রের প্রেমে। ভারত-পাকিস্তান সিরিজের সময় দুজনের দেখা হয়। শোয়েব আখতারের হৃদয় জয় করে নেয় সোনালির সৌন্দর্য। গণমাধ্যমে দুজনের রোমান্স নিয়ে বিস্তর লেখালেখি হয়। নিজেকে সোনালির ভক্ত বলে  স্বীকার করেন শোয়েব আখতার। তাদের প্রেম পরিণতি না পেলেও এখনও নিজের প্রিয় নায়িকা হিসেবে সোনালির নাম উচ্চারণ করেন শোয়েব।

দেবশ্রী রায়-সন্দীপ পাতিল
‘কাভি আজনাবি থে’ ছবিতে অভিনয়ের সময়ে কোলকাতার নায়িকা দেবশ্রী রায়ের প্রেমে পড়েন ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের খেলোয়াড় সন্দীপ পাতিল। দেবশ্রীর সঙ্গে তার প্রেম বেশ জমে ওঠে। দুজনে বিয়ের কথাও ভাবতে থাকেন। কিন্তু শেষতক বিয়েটা হয়নি।


ওয়াসিম আকরাম-সুস্মিতা সেন

ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে সুস্মিতা সেনের দেখা হয় ২০০৮ সালে একটি রিয়েলিটি শোর মঞ্চে। আকরাম অবশ্য তখন বিবাহিত ছিলেন। তার স্ত্রী হুমা মারা যান ২০০৯ সালে। সুস্মিতার ভাষ্যমতে আকরাম ও তিনি প্রায় ছমাস ডেট করেছেন। আকরাম নিজে এ বিষয়ে মুখ খোলেননি। তবে একথা ঠিক সেসময় পাকিস্তানের চেয়ে ভারতেই বেশি সময় কাটাতেন তিনি।


শর্মিলা ঠাকুর-মনসুর আলি

অভিনেত্রী-ক্রিকেটারের প্রেম মানেই ক্ষণস্থায়ী সম্পর্ক – একথা যারা মনে করেন তাদের মুখে ছাই দিয়ে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত প্রেমের মাঠে অটল ছিলেন টাইগার পতৌদি।

ঠাকুরবাড়ির মেয়ে, বাংলা ও হিন্দি ছবির সফল নায়িকা এবং পুরো ভারতের হার্টথ্রব শর্মিলা ঠাকুর যখন তার ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ভারতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মনসুর আলি খানের প্রেমে পড়েন তখন রীতিমতো ঝড় বয়ে যায় গণমাধ্যমে। তাদের প্রেম ছিল ষাটের দশকের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা।

এ প্রেম টিকবে না বলে অনেকেই সে সময় অভিমত দিয়েছিলেন। তবে পতৌদির নবাব মনসুর আলি ক্রিকেট মাঠের মতো প্রেমের ময়দানেও কি করে ক্রিজে টিকে থাকতে হয় তা জানতেন। ১৯৬৯ সালের ২৭ ডিসেম্বর বিয়ে করেন এ আলোচিত জুটি। তাদের দীর্ঘ বিবাহিত জীবন ছিল প্রেমের সেঞ্চুরিতে ভরপুর। সাইফ, সোহা এবং সাবা আলি খান – এ তিন সন্তানের জন্ম দেন এ দম্পতি। ২০১১ সালে মনসুর আলি খান পতৌদির মৃত্যু হয়।

এছাড়া জহির খান-ইশা সর্বানি, কিম শর্মা-যুবরাজ সিং, দিপিকা পাড়ুকোন-মাহেন্দ্র সিং ধোনি, সুরেশ রায়না-শ্রুতি হাসান, হরভাজন সিং-গীতা বসরা এবং হালের অন্য ক্রিকেট তারকা ও অভিনেত্রীদের প্রেম টি-টোয়েন্টি ম্যাচের কথা মনে করিয়ে দেয়।

আনুশকা শর্মা ও বিরাট কোহলি অবশ্য অনেকদিন ধরেই নিজেদের জুটি টিকিয়ে রেখেছেন, বিয়ের পিঁড়িতেও বসতে যাচ্ছেন তারা। এখন দেখা যাক তরুণ এ জুটির প্রেমের ইনিংস সেঞ্চুরি হাঁকাতে পারে কিনা।

Leave a Reply