সর্বশেষ সংবাদ
অবশেষে কার্যকর হল কামারুজ্জামানের ফাঁসি

অবশেষে কার্যকর হল কামারুজ্জামানের ফাঁসি

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে।

শনিবার রাত ১০টা ১ মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এর আগে, দুপুরে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী আদেশের কপি পড়ে শোনান ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী।

এ সময় কামারুজ্জামানকে সিনিয়র জেল সুপার বলেন, ‘আপনার প্রাণভিক্ষা চাওয়ার সময় শেষ হয়ে গেছে। কপি পড়ে শোনানোর আগে পর্যন্ত সময় ছিল। এখন আর নেই। আপনার পরিবারের সদস্যরা আসছেন। তাদের কাছে শেষ বিদায় নিন।’

শনিবার দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে ফাঁসি কার্যকরের আদেশের কপি নিয়ে কারাগারে পৌঁছান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এই আদেশ নিয়ে রওনা হন। তবে ওই রায়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর স্বাক্ষর না থাকায় সরাসরি কারাগারে যেতে পারেননি কর্মকর্তারা।

ফাঁসি কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে দুপুর থেকে কারাগার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। রাজধানী ঢাকা জুড়েই বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়।

কারাগার এলাকায় ৫৬ প্লাটুন পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ।

র‌্যাবের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই শামীম জানান, পুলিশের পাশাপাশি শতাধিক র‌্যাব সদস্য মোতায়েন রয়েছে কারাগারের আশপাশে।

বিকেল ৪টার দিকে কামারুজ্জামানের সঙ্গে শেষ দেখা করতে যান তার পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা। এ সময় কামারুজ্জামান বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি প্রাণ দেওয়ার কেউ নন, প্রাণ নেওয়ারও কেউ নন। তাই তার কাছে প্রাণভিক্ষা চাইনি। এই মুনাফিক সরকারের কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়ে লাভ নেই।’

সাক্ষাৎ শেষে কামারুজ্জামানের বড় ছেলে হাসান ইকবাল কারাগারের বাইরে এসে সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাবা, এটা আশা নিয়ে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়বেন যে, একদিন এ দেশে ইসলামের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে।’

কামারুজ্জামানের ছেলে আরো জানান, তার বাবার জানাজা শেরপুরে গ্রামের বাড়িতে অনুষ্ঠিত হবে।

কারাগার থেকে চলে যাওয়ার সময় কামারুজ্জামানের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা সবাই ‘ভি’ চিহ্ন দেখান।

সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাইকিং করে কারাগারের আশেপাশের দোকানপাট বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশ্ববর্তী নাজিম উদ্দিন রোডে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

রাত পৌনে ৯টায় কামারুজ্জামনকে গোসল করানো হয়। ৮টা ৫০ মিনিটে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।

রাত ৯টার পরে কামারুজ্জামানকে তওবা পড়ানো হয়। এর পরে তিনি দুই রাকাত নামাজ আদায় করেন।

এর আগে ফাঁসি কার্যকরের লক্ষ্যে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা কারাগারে যান।

রাত সাড়ে ৮টা ২৫ মিনিটে দিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের প্রতিনিধি হিসেবে উপ-কমিশনার শেখ নাজমুল আলম জনি কারাগারের ভেতরে যান।

একে একে কারাগারের ভেতরে যান- ঢাকা জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, ডিএমপির লালবাগ জোনের সহকারী কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহমেদ, কারা চিকিৎসক আহসান হাবীব, আইজি প্রিজন ইফতেখার উদ্দিন, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ফরমান আলী, সিভিল সার্জন আব্দুল খালেক মৃধা এবং ইমাম মনির হোসেন।

Leave a Reply