সর্বশেষ সংবাদ
আমতলীতে চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি তরমুজচাষিরা

আমতলীতে চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি তরমুজচাষিরা

আব্দুল্লাহ আল নোমান সংবাদদাতা আমতলী ।।
বরগুনার উপজেলার আমতলী কৃষকের ক্ষেত থেকে তরমুজ কাঁটা চলছে। এ তরমুজ ট্রলার ও ট্রাক ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন বাজারে যা”ছে। ট্রাক ও ট্রলার প্রতি বিভিন্ন পয়েন্টে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫শ টাকা চাঁদা আদায় করছে চাদাবাজরা।আমতলী উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে ৪ হাজার ৭শ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এতথ্য উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। সব চেয়ে বেশী চাষাবাদ হয়েছে আঠারোগাছিয়া, হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, আমতলী সদর ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নের ৩০ থেকে ৩৫ টি পয়েন্টে চাদাঁবাজরা টাকা আদায় করছে । চাঁদাবাজরা চাঁদা আদায়ের বিভিন্ন কৌশল নিয়ে থাকে। এরা বিভিন্ন হ্যাল্ডেলিং শ্রমিক ইউনিয়ন, ট্যান্সপোর্ট নামের সাইনবোর্ড টানিয়ে দেদারসে চাঁদা আদায় করছে। অভিযোগ রয়েছে প্রতি পয়েন্টে ট্রাক ও ট্রলার প্রতি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করছে। চাঁদা আদায়ের কয়েকটি কৌশল রয়েছে। ক্ষেত থেকে ট্রলি দিয়ে তরমুজ রাস্তা ও ট্রলারঘাট পর্যন্ত পৌছে দিতে একটি চাঁদা তারপর ট্রলার এবং ট্রাক বোঝাই পরে আরেক ধাপ চাঁদা এবং মহাসড়কে ট্রাক উঠলে আরেক ধাপ চাঁদা দিতে হয়। এভাবে ৩/৪ ধাপে চাদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা ও পরিবাহন খরচ দ্বিগুন হওয়াতে কৃষক তরমুজের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না। উপজেলার কয়েকটি চাঁদা আদায় পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় হচ্ছে। রাওঘা গ্রামের কৃষক আনোয়ার জানান, তিন হাজার তরমুজ ট্রাক বোঝাই করে মাগুরার উদ্দেশ্য যাওয়ার সময় তিন জাগায় চাঁদা দিতে হয়েছে। মধ্যচন্দ্রা গ্রামের আলম মিয়া জানান ইউনিয়ন ও ট্যান্সপোর্ট নাম দিয়ে চাঁদা নেয়া হয়। তিনি আরো জানান এভাবে চাঁদা আদায় হলে কৃষক আর তরমুজ চাষ করবে না। একই গ্রামের কৃষক বধু মৃধা বলেন প্রতি বছর অনেক কৃষক তরমুজ ক্ষেত থেকে ওঠার আগেই মহাজনদের কাছে ক্ষেত বিক্রি করে দেয়। এভাবে চাঁদা নেয়া হলে মহাজনরা আর আসবে না। হলদিয়া ইউনিয়নের কালীগঞ্জ ব্রীজ এলাকার বাবুল হাওলাদার তার ক্ষেতের তরমুজ বিক্রি করে। ওই তরমুজ কাটার পুর্বেই চাদাবাজরা চাদাঁ দাবী ১ লাক্ষ ১০ দশ হাজার টাকা করে। এ চাঁদা না দেয়ায় রাতের আধারে তার ক্ষেতের তরমুজ কেটে ফেলেছে। গত ১১ এপ্রিল উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামের কৃষক ফকু হাওলাদার তরমুজ বিক্রির চাদাঁ না দেয়াতে তার স্ত্রী আকলিমা বেগম (৫০), ছেলে হেলালকে (৩০) কুপিয়ে আহত করে চাদাঁবাজরা। এভাবেই চলছে আমতলী উপজেলার তরমুজ খেতে চাঁদাবাজী। এ ঘটনায় আমতলী থানায় মামলা হয়েছে। অনেক কৃষক চাঁদাবাজদের ভয়ে নিরবে চাঁদা দিয়ে যাচ্ছে। জোলেখা ¯ুইজ সংলগ্ন এলাকার হিরন মোল্লা জানান লেবার খরচ ও বাজার খাজনা বাবদ ৪০০ থেকে ৫০০ শত টাকা চাঁদা নেয়া হচ্ছে। অফিস বাজারের জাকির মাদবর জানান হলদিয়া ট্রান্সপোর্ট বাবদ ২০০, লোড পয়েন্টে খরচ ২০০ ও চালান খরচ বাবদ ২০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। বরিশাল বিভাগীয় (হলদিয়া ও চাওড়া) ট্রান্সপোর্ট সভাপতি মোঃ জহির“ল ইসলাম টেলিশন তালুকদারের মুঠো ফোনে (জানান ট্রান্সপোর্ট বাবদ ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা আদায় করার কথা স্বীকার করে বলেন । আমতলী থানা ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা সুকুমার রায় জানান এলাকায় কোন চাদাবাজী নেই।

 

Leave a Reply