সর্বশেষ সংবাদ
তিন মাস ধরে আত্মগোপনে সরোয়ার

তিন মাস ধরে আত্মগোপনে সরোয়ার

খান রফিক: বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার তিন মাস ধরে নিরুদ্দেশ রয়েছেন। গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালনে ৫ জানুয়ারি তিনি বরিশাল ছিলেন। এর পর আর তাকে দেখা যায়নি। তিনি মাঠে না থাকায় আন্দোলন ছেড়ে অধিকাংশ নেতাই গা-ঢাকা দিয়েছেন। অবশ্য দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আত্মগোপনে থেকে সরোয়ারই আন্দোলন পরিচালনা করছেন।
বিএনপির টানা তিন মাসের আন্দোলনে মাত্র একদিন সরোয়ারকে প্রকাশ্যে দেখা গেছে। এখন তিনি আত্মগোপনে কোথায় আছেন, তা-ও কারও জানা নেই। নগরীর একাধিক ওয়ার্ডের নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আন্দোলনের শুরুতে সরোয়ার ভাই মাঠে আছেন- এমন গুজবে কয়েক দিন নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করা হয়। তার অনুপস্থিতিতে গা-ঢাকা দেন বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা শুরু করে নিচের সারির নেতারাও। এক পর্যায়ে রোটেশনের মাধ্যমে অঙ্গ সংগঠন দিয়ে দিনে দু-একটা ঝটিকা মিছিল করিয়ে আন্দোলনের জানান দেয়া হতো। সদর উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, বরিশালের রাজনীতি সরোয়ারনির্ভর। এ প্রসঙ্গে সরোয়ারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া গেছে। অবরোধের সময় তিনি যে বিশেষ মোবাইল ব্যবহার করেছেন সেটাও ধরেননি। এমনকি কোনো নেতাকর্মীও তার সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দিতে পারেননি।
উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, ৫ জানুয়ারির গণতন্ত্রের হত্যা দিবসে তিনি সদর উপজেলার বেলতলা কর্মসূচি করার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, ওই সময় সরোয়ার ভাই পার্শ্ববর্তী মতাসার এলাকায় কালো পতাকা মিছিল করেন। এরপর সর্বশেষ একটি ঘরোয়া সভায় তার সঙ্গে দেখা হয়েছিল। মেজবাহ বলেন, বরিশালেই তিনি (সরোয়ার) আত্মগোপনে ছিলেন। কিন্তু এখন কোথায় আছেন, তা তার জানা নেই।
মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, নেতা (সরোয়ার) মাঠে আছেন, মাঠে ছিলেন। তিনি আন্দোলন সংগ্রাম পরিচালনা করছেন। সরোয়ারকে দৃশ্যমান না দেখা প্রসঙ্গে নাসরিন বলেন, এটা বিএনপির কৌশল। এ ব্যাপারে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মনিরুজ্জামান ফারুক বলেন, সরোয়ার ভাইয়ের বিরুদ্ধে দুই থেকে তিনটি মামলা রয়েছে। তার বাসায় তল্লাশি চালানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। এসব কারণে প্রকাশ্যে কর্মীরা তাকে না দেখলেও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। তিনিই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

Leave a Reply