সর্বশেষ সংবাদ
পটুয়াখালীতে পানির সংকট।।  বিপর্যস্ত জনজীবন

পটুয়াখালীতে পানির সংকট।। বিপর্যস্ত জনজীবন

গরম পড়লেই পটুয়াখালী পৌর শহরে পানির সংকট শুরু হয়। সব এলাকায় পানির জন্য হাহাকার পড়ে যায়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

জানা গেছে, পটুয়াখালী পৌর শহরে ২০০৪ সালে ডানিডার অর্থায়নে লক্ষাধিক মানুষের নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের জন্য শহরের বিভিন্ন স্থানে পাঁচটি গভীর নলকূপ বসানো হয়। ওই নলকূপগুলো দিয়ে শহরবাসীর পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পৌর ভবন কমপ্লেক্সের মধ্যে একটি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) অফিসের বিপরীতে একটি ওভারহেড পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়। এ ট্যাংকে পানির মোট ধারণক্ষমতা ১২ হাজার লিটার। ওই বছর থেকেই পানি সরবরাহ শুরু হয়। উত্তোলিত ওই পানি দিয়ে প্রায় দুই হাজার ৫০০ পরিবারের চাহিদা মেটানোর কথা। কিন্তু এর বিপরীতে প্রায় দ্বিগুণ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। নতুন নলকূপ ও ওভারহেড ট্যাংক না বসিয়ে পানি সংযোগ অব্যাহত রাখায় পানি সংকটে পড়েছে পৌরবাসী। ফলে গত প্রায় দুই বছর পর্যন্ত পৌরবাসীর পানির চাহিদা মেটাতে পারছে না পৌরসভা। অন্যদিকে বাড়তি বিড়ম্বনা হিসেবে পৌরসভার সরবরাহকৃত পানি থেকে পোকা ও ময়লা আসা শুরু হয়েছে। দুই মাস থেকে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শহরের বেশির ভাগ এলাকাতেই পানি মিলছে না। আবার কখনো সকাল ৮টা থেকে রাত ১০টা কিংবা পরদিন সকাল পর্যন্ত পানি সরবরাহ থাকছে না।

সবুজবাগ এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পৌরসভার পানি এখন দুর্লভ হয়ে গেছে। নিয়মিত পানি না পাওয়ায় গেরস্তালি কাজসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এ ছাড়াও যতটুকু পানি পাওয়া যায় তা আবার পোকা ও ময়লামিশ্রিত।’ এমন অভিযোগ সবুজবাগসহ শহরের কলেজ রোড, ২ নম্বর বাঁধঘাট এলাকার বাসিন্দাদেরও। এসব এলাকায় সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এদিকে উন্নয়নের নামে শহরের বেশ কয়েকটি বড় বড় জলাশয় ভরাট করায় বর্তমানে পানি সংকট আরো প্রকট হয়েছে। শহরের জিয়া সড়ক এলাকার আনিসুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পেছনের বড় পুকুরটি স্থানীয় মানুষের পানির চাহিদা মেটাতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখত। কিন্তু পুকুরটি ভরাট করায় পানির জন্য হাহাকার চলে এলাকায়। বিকল্প পানিও মানুষ পাচ্ছে না।’

পৌরসভার একটি সূত্র পানি সংকটের কথা স্বীকার করে জানায়, গরম শুরু হলে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সঙ্গে বিদুৎ বিভ্রাটের কারণে পানির পাম্প চালাতেও সমস্যা হয়। এ ছাড়াও প্রতিদিনই পানির নতুন নতুন সংযোগ দেওয়ায় বাড়তি চাপ সামাল দিতে হচ্ছে। এসব কারণে শহরের কিছু কিছু এলাকায় দুপুরের সময় পানির সমস্যা দেখা দেয়। তবে নতুন করে দুটি পানির ওভারহেড ট্যাংক ও গভীর নলকূপ বাসানোর প্রক্রিয়া চলছে। চলমান এ কাজ শেষ হলে পানির সরবরাহে সমস্যা থাকবে না।

তবে পটুয়াখালী পৌরসভার পানি সরবরাহ শাখার প্রকৌশলী আনোয়ার শাদাত বলেন, ‘সমস্যা ছিল এখন আর সমস্যা নেই। সব এলাকায় এখন নিয়মিত পানি পাচ্ছে পৌরবাসী।’

Leave a Reply