সর্বশেষ সংবাদ
বরগুনায় ভূমিকম্পে দেবে গেছে বিদ্যালয় ভবন

বরগুনায় ভূমিকম্পে দেবে গেছে বিদ্যালয় ভবন

মোঃ আসাদুজ্জামান,
বরগুনা জেলা প্রতিনিধি:

ভূমিকম্পে একাংশ দেবে গেছে বরগুনা সদর উপজেলার উত্তর হেউলিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে মাঠে।আগে থেকেই জরাজীর্ণ বিদ্যালয় ভবন। সেখানে ঝুঁকি নিয়ে চলত পাঠদান। গত শনিবারের ভূমিক¤েপ একতলা ভবনটির এক পাশ দেবে গেছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে মাঠে।বরগুনা সদর উপজেলার উত্তর হেউলিবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। এ বিদ্যালয়ে ১৩৭ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে।গত মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রভাতি পালার ৪০ জন খুদে শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের মাঠে টানানো শামিয়ানার নিচে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। সকাল থেকে ছিল ঝাঁজাল রোদ, তারপর থেমে থেমে গুঁড়ি বৃষ্টি। শিশুরা ঘাম আর বৃষ্টিতে ভিজে একাকার। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান বলে,বৃষ্টি আর রৌদের মধ্যে পরীক্ষা দিচ্ছি। ম্যাঘ ডাকলে ভয় করে, তখন কিছু ল্যাখতে পারি না।ভূমিকম্পেএকতলা ভবনটির উত্তর পাশ দেবে গেছে, সেদিকে দুটি কক্ষ।

একতলা এ ভবনে চারটি কক্ষ। ভবনের কলাম ও দেয়ালের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরায় ভবনটি এখন পুরোপুরি ব্যবহারের অনুপযোগী। ভবনের দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। বৃষ্টির সময় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় পুরো ছাদ নাজুক হয়ে গেছে। ভূমিকম্পেকলামের বিভিন্ন অংশে বড় ফাটল দেখা যায়।স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি)প্রকৌশলী জানান, ২০০৫ সালে এলজিইডির অর্থায়নে প্রায় ছয় লাখ টাকা ব্যয়ে উত্তর হেউলিবুনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একতলা ওই ভবনটি নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বিদ্যালয় ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে।বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত বছর এলজিইডির একজন প্রকৌশলী ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসে ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী ঘোষণা করেন। কিন্তু আর্থিক সংগতি না থাকায় এই ভবনেই এত দিন পাঠদান করা হয়েছে। এখন শিক্ষার্থীদের মাঠে ও পাশের একটি বাড়ির বারান্দা ভাড়া নিয়ে পড়ানো হচ্ছে।সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুরজাহান বেগম বলেন,২৫ এপ্রিল আমি বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করেছি। ভবন ব্যবহারের অযোগ্য হওয়ায় শিক্ষার্থীদের অন্যত্র পাঠদান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির বরগুনা সদর উপজেলা কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি আগে থেকেই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এবার ভূমিক¤েপ ফাটল ধরেছে ও দেবে গেছে। ভবনটি পরিদর্শন করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

Leave a Reply