সর্বশেষ সংবাদ
বরিশালে ৩০ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ : মাঝারি ভূমিকম্পে লাশের দখলে যেতে পারে নগরী

বরিশালে ৩০ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ : মাঝারি ভূমিকম্পে লাশের দখলে যেতে পারে নগরী

স্টাফ রিপোর্টার : ভূমিকম্পসহ নানা কারণে বরিশালের বিভিন্ন স্থানের ভবন ঝুঁকির মুখে রয়েছে। মাঝারি ধরণের ভূমিকম্পেই বরিশালে ভেঙে পড়তে পারে অসংখ্য ভবন। পরিণত হতে পারে নেপালের মত মৃত্যুপুরিতে। সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) তথ্যমতে, নগরীতে এমন ভবনের সংখ্যা রয়েছে ৩০টি। এর মধ্যে কোন কোনটা এরই মধ্যে হেলে পড়েছে। কোনটায় আবার সৃস্টি হয়েছে ফাটলের। অবশ্য এ নিয়ে টনক নড়ছে না বিসিসি, ফায়ার সার্ভিস কিংবা পরিবেশ অধিদপ্তরের। ফলে চরম ঝুঁকিতেই কাটাচ্ছেন নগরীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা। বিসিসির প্রধান প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহিৃত করে বেশ কয়েকবার নোটিশও দেয়া হয়েছে। তবে আর কোন অগ্রগতি হয়নি। শনিবার বেলা ১২টা ১১ মিনিটে আকস্মিক বরিশালে ভূকম্পন হয় বলে জানান, আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক প্রণব কুমার রায়। ওই ঘটনায় গোটা নগরীতে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে নানা কারণে বেশ কিছু ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে যা ভূমিকম্পে যে কোন সময় ধ্বসে পড়তে পারে। বিসিসি বিভিন্ন সময় এর তালিকা করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বিসিসি’র প্রধান প্রকৌশলীর ব্যক্তিগত সহকারী ইমরান আহমেদ জানান, ২০১৩ সালের শেষের দিকে প্রকৌশল শাখা নগরীর ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের একটি তালিকা প্রস্তুত করে। তাতে হেলে পড়া, প্রাচীন-জরাজীর্ণ, ফাটল, পরিত্যক্তসহ নানা কারণে ৩০টি ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহিৃত করা হয়। এগুলো হচ্ছে নগরীর বগুড়া রোডে ২টি, আনসার ভিডিপি ভবন সংলগ্ন ১টি, শেবাচিম হাসপাতালের সম্মুখে ২টি, নবগ্রাম রোডে ১টি। এসব ভবন মালিককে নোটিশও দেয়া হয়েছে। বিসিসির করা তালিকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে কাউনিয়া জানুকি সিংহ রোডে মতি লস্করের বাড়ি, পূর্ব বগুড়া রোডের রবিন্দ্র নাথ সেনের ভবন, আগরপুর রোডের মনু মিয়ার বাড়ি, সার্কুলার রোডের সৈয়দ মনসুর আহমেদের ভবন, কাউনিয়া প্রধান সড়কের সিরাজ মহল, ইশ্বর বসু রোডের সৈয়দ মঞ্জিল, হাসপাতাল রোডের মান্নান মৃধার ভবন, কালুশাহ সড়কের জালাল আহমেদের ভবন, নবগ্রাম রোডের হাতেম আলী কলেজের হোস্টেল, মেডিকেল কলেজ লেনের ণিকা ভবন, বিএম কলেজের সুরেন্দ্র ভবন ছাত্রাবাস, বগুড়া রোডের সালাম চেয়ারম্যানের পুরাতন ভবন, হাজী ইসরাইলের বিল্ডিং, হাতেম আলী কলেজের বিজ্ঞান ভবন, নগর ভবনের পিছনের সাবেক হাজতখানা, সদর উপজেলা পরিষদের পুরাতন ভবন, সদর রোডের সৈয়দ ভবন, কাউনিয়া প্রধান সড়কের বেনী লাল গুহের বাড়ি, রূপাতলীর নলছিটি পাজা, কাটপট্টি রোডের মিলাত ফার্মেসী, একই এলাকার চন্দ্রিকা ব্রাদার্স, আহম্মদ কথ স্টোর্স, জুম্মান ব্রাদার্স, অমৃত ভবন, সৈয়দ কামাল হোসেন রুবেলের ভবন, বেলায়েত হোসেনের ভবন, সৈয়দ জুম্মানের ভবন, চিত্ত সাহার ভবন, চকবাজার রোডের সাধনা ঔষধালয়, ফজলুল হক এভিনিউ রোডের গোল্ডেন টাওয়ারসহ ৪টি ভবন। বিসিসির প্রধান পরিকল্পনা কর্মকতা নন্দিতা বসু অবশ্য বলেন, কারণ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তালিকা তৈরি হয় না। যখনই কোন ইস্যু আসে তখন তালিকা করা হয়। হেলে পড়া, ফাটল দেখা দেয়া কিংবা প্রাচীন হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের এমন একটি তালিকা করা হয়েছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে কিনা তাও জানা নেই। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বরিশাল সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, নগরীর কিংবা বরিশালে ভূমিকম্প ঝুঁকিতে থাকা ভবনগুলো নিয়ে তারা এখনও কোন কাজ করেননি। শিঘ্রই তারা একটি তালিকা করবেন। পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক সুকুমার বিশ্বাস বলেন, নগরীতে ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয় বিসিসি। এজন্য ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহিৃতও করবে বিসিসি। তিনি বলেন, ভূমিকম্পের মত ঘটনা ঘটলেই এসব বিষয়ে হৈচৈ পড়ে। এরপর আর খবর থাকে না। তবে বহুতল ভবনের েেত্র পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন নিতে হয়। বিসিসির ওই তালিকায় এমন ভবন থাকলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ব্যপারে বাসযোগ্য বরিশাল নগরী বাস্তবায়নে সামাজিক উদ্যোগ কমিটির সদস্য সচিব কাজী এনায়েত হোসেন শিপলু বলেন, দুর্যোগ এলেই সরকারি দপ্তরগুলোর টনক নড়ে। কিন্তু তার আগে নগরীর এই ৩০টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ চিহিৃত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা না নেয়া সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ব্যর্থতা বলে তিনি জানান।

সূত্রঃআজকের বার্তা

Leave a Reply