সর্বশেষ সংবাদ
তিন দিনেও নবজাতকের পরিচয় মেলেনি

তিন দিনেও নবজাতকের পরিচয় মেলেনি

মাত্র ছয় ঘণ্টা বয়সে শ্বাসকষ্ট রোগের কথা বলে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এক শিশুকে। নবজাতক হওয়ায় রেজিস্ট্রারে ‘কহিনুরের ছেলে’ পরিচয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন অজ্ঞাতপরিচয় দুই নারী।

কিছুক্ষণ পর ওষুধ আনার কথা বলে নবজাতককে রেখে পালিয়ে যান তারা। এতে তিনদিন ধরে পটুয়াখালী হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সেবিকাদের তত্ত্বাবধানে রয়েছে শিশুটি।

বাচ্চাটি বর্তমানে শ্বাসকষ্ট রোগে ভুগছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পটুয়াখালী থেকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম)  হাসপাতালে পাঠানোর চিন্তা করছে চিকিৎসকরা।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত ব্রাদার রতন জানান, রোববার (১৭ মে) রাত ১টার দিকে পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এক নবজাতককে নিয়ে আসেন বরগুনা জেলার আমতলী থানার খেকুয়ানী গ্রামের নুর ইসলামের স্ত্রী কহিনুর বেগম।

বাচ্চাটির বয়স জরুরি বিভাগের রেজিস্ট্রারে লেখা হয় ছয় ঘণ্টা। নামের স্থানে লেখা হয় ‘কহিনুরের ছেলে’। জন্মের পর বাচ্চাটি অসুস্থ বোধ করছে- এ কথা বলে ভর্তি করা হয় তাকে।

এদিকে শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বরত একাধিক সেবিকা  জানান, ঘটনার সময় জরুরি বিভাগ থেকে তাৎক্ষণিক বাচ্চাটি শিশু ওয়ার্ডে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার কাগজপত্র দেখে বাচ্চার সঙ্গে থাকা দুই নারীকে কিছু ওষুধ কিনে আনতে বলা হয়। ওষুধ কিনতে যাওয়ার পর ওই দুই নারী আর ফিরে আসেন নি।

প্রত্যক্ষদর্শী শিশু ওয়ার্ডের অন্য রোগীর অভিভাবক আম্বিয়া ও রাশেদা  জানান, দুইজন নারী বাচ্চাটি নিয়ে শিশু ওয়ার্ডে এসে সেবিকাদের মাধ্যমে টিউব বক্সে রেখে ওষুধ কেনার কথা বলে হাসপাতালের বাইরে চলে যাস। এরপর আর তাদের দেখা যায়নি।

হাসপাতালে দায়িত্বরত চিকিৎসক (জুনিয়র কনসালটেন্ট শিশু) মোস্তাফিজুর রহমান  জানান, দুই কেজি ওজনের ছেলে বাচ্চাটি বর্তমানে শ্বাসকষ্ট জনিত রোগে আক্রান্ত। উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে তাকে বরিশালে পাঠানো হতে পারে।

পটুয়াখালী হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম  জানান, বাচ্চাটির সুচিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে সমাজ সেবা অধিদপ্তরসহ স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে।

Leave a Reply