সর্বশেষ সংবাদ
ব্যাংকে চেক জালিয়াতি: টাকা আত্মসাৎ

ব্যাংকে চেক জালিয়াতি: টাকা আত্মসাৎ

অগ্রণী ব্যাংক পটুয়াখালীর দশমিনা শাখায় চেক জালিয়াতি করে গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, উপজেলার নলখোলা বাজারস্থ্য অগ্রণী ব্যাংক লিমিডেট দশমিনা শাখায় মোঃ আঃ রাজ্জাক নামে সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৫৫১০ এ চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি ৭৫ হাজার টাকা জমা রাখে। পরে ১৭ মে মোঃ আঃ রাজ্জাক ৫ হাজার টাকা উত্তোলন করতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তার সঞ্চয়ী হিসাবে চাহিদাকৃত টাকা নেই বলে জানান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগে কর্তৃপক্ষ ব্যাংক তারল্য বিবরণী (ব্যাংক এস্টেটমেন্ট) দেয়।

ব্যাংকের তারল্য বিবরণীতে জানা গেছে, পূর্বে অগ্রণী ব্যাংক কার্যালয়ে ভুক্তভোগীর হারিয়ে যাওয়া চেক বই (০১ওয়াই৩১৭৫৪২১-৩০) পাতা ০১ওয়াই ৩১৭৫৪২৪ ব্যবহার করে ১৫ এপ্রিল ৪০ হাজার টাকা ও ০১ওয়াই ৩১৭৫৪২৫ দিয়ে ২০ এপ্রিল ৩৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে জালিয়াত চক্র। পূর্বে চেক বই হারিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করলে কর্তৃপক্ষ ০১এক্স৬০১৪৩৫১-৬০ নং পাতার চেক বই ইস্যু করে ও ওই বইয়ের ০১এক্স৬০১৪৩৫১-৫ মোট পাঁচটি পাতা ভুক্তভোগী যথাযথ ব্যবহার করে বলেও জানায়।

এ ঘটনায় অগ্রণী ব্যাংক দশমিনা শাখার ব্যবস্থাপক মোঃ আমির হোসাইন বলেন, গ্রাহক মোঃ আঃ রাজ্জাক অগ্রণী ব্যাংক বরগুনা জোনাল হেড আঃ খালেক মোল্লার আত্মীয় হওয়ার সুবাদে ০১ওয়াই৩১৭৫৪২১-৩০ পাতার চেক বই হারিয়ে যাওয়া অভিযোগ করে ২০১২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর ০১এক্স৬০১৪৩৫১-৬০ পাতার চেক বই ইস্যু করিয়ে নেয়। কিন্তু ২০১৪ সালের ১০ মার্চ, ১০ এপ্রিল, ১৫ জুন, ২০১৫ সালের ১৫ এপ্রিল এবং ২০ এপ্রিল পূর্বের বইয়ের পাতায় নিজে টাকা উত্তোলন করে। এছাড়াও ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল নতুন ইস্যুকৃত চেক বইয়ের ০১এক্স৬০১৪৩৫৫ নং পাতা দিয়ে নিজে টাকা উত্তোলন করায় পূর্বের বইটিও তার কাছে আছে বলে প্রতিয়মান হয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানায়, ব্যাংকের চেক বই হারিয়ে গেলে থানায় সাধারণ ডায়েরী করণ ও তৃতীয় পক্ষের সনাক্তকরণ নিশ্চিত না হয়ে নতুন বই ইস্যু বিধিসম্মত নয়। এছাড়াও বিশেষ ক্ষেত্রে দৈনিক প্রত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির বিধানও রয়েছে। মোঃ আঃ রাজ্জাকের ক্ষেত্রে বিধি লঘ্নিত হয়েছে।

উল্লেখ্য উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামের শামছুল হক জোমাদ্দারের ছেলে মোঃ কবির হোসেন এর জনতা ব্যাংক দশমিনা শাখার সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৩৫৮০ এ জমাকৃত ১২ লাখ ৮২ হাজার ৭’শ ৬৬ টাকা থেকে জনৈক মোঃ জহির নামের বিপরীতে ২০১৩ সালের ১৪ আগষ্ট এসবি-১০/এফজি ৮৫৫১৩৮৯ নং ভূয়া চেক পাতা দিয়ে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করে নেয় ব্যাংকের দায়িত্বরত কর্মকর্তা। এ ঘটনায় ব্যাংকের কর্মকর্তা/কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

Leave a Reply