সর্বশেষ সংবাদ
সিনেমার বস্তি থেকে বাস্তবের বস্তিতে!

সিনেমার বস্তি থেকে বাস্তবের বস্তিতে!

ডেস্ক: দুর্ধর্ষ এক কিশোর। অসম্ভব তেজোদ্দীপ্ত আর ভীষণ প্রত্যয়ী। রিও ডি জেনিরোর বস্তি এলাকায় মাদক আর অস্ত্র ব্যবসার নির্মম বাস্তবতায় বেড়ে উঠেছিল। ২০০২ সালে ব্রাজিলের ‘সিটি অব গড’ বা ‘ঈশ্বরের নগর’ চলচ্চিত্রের-এর নেগুইনহো চরিত্রে অভিনয় করে পায় দুনিয়াব্যাপী পরিচিতি। কিন্তু নিয়তির নির্মম বাস্তবতায় তাকে আবারও ফিরে যেতে হয়েছে মাদকের গ্রাসে বস্তির নির্মম জীবনেই। রুবেন্স সাবিনো নামের সেই কিশোরের বয়স এখন ৩৩। সাবিনোর ভাষায় তার বসবাস এখন ‘নরকে’।

গত সপ্তাহে ব্রাজিলের গণমাধ্যমে রুবেন্স সাবিনোকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এতে জানা যায় মাদকাসক্ত হয়ে এখন সাও পাওলোর বস্তি এলাকায় দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছে সিটি অব গডের এই মুখ্য চরিত্র। চলচ্চিত্রটির তুমুল দর্শকপ্রিয়তার কারণে সাবিনোর এই পরিণতি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে চলচ্চিত্রজগতেও। এএফপি এক প্রতিবেদনে এ বিষয়ে জানিয়েছে।

সিটি অব গড চলচ্চিত্র দিয়েই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি পান পরিচালক ফারনান্দো মাইরিলেস। দর্শকপ্রিয় এই চলচ্চিত্রটি চারটি ক্যাটাগরিতে অস্কার মনোনয়নও পেয়েছিল। সাবিনোর পরিণতি নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মাইরিলেসও।

অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফোলহা ডি সাও পাওলোকে মাইরিলেস বলেন,‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আমি আমার সব আবেগ দিয়েও এটা ঠেকাতে পারিনি।’

ব্রাজিলের গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবিতে দেখা যায়, সাবিনো এখন সাও পাওলোর দুর্ধর্ষ বস্তি এলাকা ‘ক্রাকোলান্ডিয়া’র রাস্তায় মাদকাসক্ত হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মাদক আর অপরাধের আখড়ায় পরিণত সাও পাওলোর এই এলাকাটি স্থানীয়ভাবে ‘ক্রাকোলান্ডিয়া’ বা ‘ক্র্যাকল্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত। গত সপ্তাহে ব্রাজিলের গ্লোবো টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবিনো বলেন, ‘ক্রাকোল্যান্ডিয়ার জীবন হলো এক টুকরো নরকের জীবন।’

রুবেন্স সাবিনোর এই পরিণতির জন্য চলচ্চিত্রজগৎ সংশ্লিষ্টরা শেষ পর্যন্ত মাদকাসক্তি আর তাঁর একরোখা জেদকেই দায়ী করেছেন। তবে, এর আগে একবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে সাবিনো বলেছিলেন, সিটি অব গড চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য ‘অভিনয়ের দিনগুলোর মূল খরচের বাইরে তাকে আর কিছুই দেওয়া হয়নি।’ এবার স্থানীয় গণমাধ্যমকে সাবিনো বলেছেন, এই নরকের জীবন থেকে মুক্তি পেতে পর্তুগালের লিসবনে চলে যেতে চান তিনি।

পরিচালক মাইরিলেস বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে সাবিনোকে পথে ফিরিয়ে আনার জন্য অনেকবারই তিনি চেষ্টা করেছেন। সিটি অব গড-এ অভিনয়ের পর সাবিনোকে একটা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র এবং স্কুলেও ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন মাইরিলেস ও তাঁর বন্ধুরা। কিন্তু শেষপর্যন্ত কোথাও টিকতে পারেন নি তিনি।

সাত বছর বয়স থেকে রাস্তায় রাস্তায় বেড়ে উঠেছে সাবিনো। সিটি অব গড পরিচালনার সময় মাইরিলেস বস্তি জীবনের বাস্তবতা তুলে ধরতে সাবিনোসহ এমন বেশ কিছু ছেলে-মেয়েকে তাঁর চলচ্চিত্রে অভিনয় করান। অবশ্য এর আগে ২০০০ সালে ‘ব্র্যাভা জেন্তে’ নামে একটি টিভি সিরিয়ালেও অভিনয় করেছিল সাবিনো। ২০০২ সালে সিটি অব গডের মাদক সরবরাহকারী নেগুইনহো চরিত্র সাবিনোকে দুনিয়াজোড়া খ্যাতি এনে দেয়। এর দশ বছর পর রুবেন্স সাবিনো এবং তাঁর সঙ্গী-সাথিদের জীবন বাস্তবতা নিয়ে তৈরি হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘সিটি অব গড: টেন ইয়ার্স লেটার’।

Leave a Reply