সর্বশেষ সংবাদ
জলাবদ্ধতা, সীমাহীন দুর্ভোগ।। আভ্যন্তরীণ নৌ- রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

জলাবদ্ধতা, সীমাহীন দুর্ভোগ।। আভ্যন্তরীণ নৌ- রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ

রাতের টানা ভারী বর্ষণে বরিশাল নগরীর প্রায় সকল স্থানেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান প্রধান সড়কগুলোতে হাটু সমান পানি থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যে হাটু সমান পানি ভেঙে যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন চাকুরীজীবী ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। জলাবদ্ধ নগরীতে তাদের পায়ে হেঁটেই গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

বিশেষ করে বুধবার রাতে ভারি বর্ণণে নগরীর প্রাণকেন্দ্র সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, পোর্ট রোড, লঞ্ছ ঘাট,বটতলা বাজার, ব্রাউন কম্পাউন্ড, কাকলীর মোড়, কাউনিয়া এলাকা এবং নাজির মহল্লায় জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এছাড়া নগরীর নিম্নাঞ্চল ৩ নং ওয়ার্ড ভাটিখানা বাজার, জোড় মসজিদ,কাউনিয়া থানা এলাকা, নিউ ভাটিখানা, ৪ নং ওয়ার্ড কাউনিয়া ব্রাঞ্চ রোড, কাউনিয়া পিছনের স্কুল, কাউনিয়া হাউজিং এলাকার বেশ কিছু অংশ,  ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর, রসুলপুর কলোনী এবং ২৪নং ওয়ার্ডের খ্রীষ্টান কলোনীও প্লাবিত হয়েছে।পাশাপাশি জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও বিপণী বিতান। বিশেষ করে নগরীর মহসিন মার্কেট ও সিটি সুপার মার্কেটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নগরবাসীর অভিযোগ, নগরীর খালগুলো উদ্ধারের নামে সিটি করপোরেশনের লোক দেখানো কর্মকাণ্ড আর অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণেই এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সিটি করপোরেশনের তৈরি ড্রেনে পানি নিষ্কাশনের যে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে তার অধিকাংশ মুখগুলো বন্ধ রয়েছে। এছাড়া সড়কের চেয়ে মুখগুলো অধিক উচু করায় সেখান থেকে পানি নামতে পারছে না। নগরীর ভাটিখানা এলাকার বাসিন্দা মোঃ কাইউম হাসান জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ বাবস্থা এবং নগরীর উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে দুর্নীতিপরায়ণতার কারনেই আজকে নগরবাসী পানি বন্দী প্রায়।

এছাড়া একই এলাকার হানিফ দফাদার জানান, একজন হিরনের অভাবে বরিশাল নগরী আজকে জলাবদ্ধতার নগরীতে পরিনত।

২৪নং ওয়ার্ডের খ্রীষ্টান কলোনী এলাকার বাসিন্দা আহম্মেদ আজিজ জানান, এলাকার প্রধান সড়কটি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় এখানকার বাসিন্দারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। কেউ বাসা থেকে বাইরে বের হতে পারছেন না।

নগরীর ৫নং ওয়ার্ডের পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান জানান, প্রবল বর্ষণে পুরো এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে।

এ ব্যাপারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রনজিৎ দত্ত , অতিবৃষ্টির কারণে নগরীতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। তবে বৃষ্টি থেমে গেলে পানি চলে যাবে। এছাড়া যেখানে ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ত্রুটি রয়েছে সেসব স্থান চিহিৃত করে সমাধানে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে ছোট লঞ্চ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এছাড়া ছোট ছোট নৌযানকে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র অবজার্ভার মিলন হাওলাদার জানান, বুধবার বেলা ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত ২১৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এ মওসুমের এটি সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।

Leave a Reply