সর্বশেষ সংবাদ
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীতে চিংড়ির রেণু শিকার

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীতে চিংড়ির রেণু শিকার

ডেস্ক || নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে পটুয়াখালীর উপকূলীয় নদী-পাড়ে অবাধে শিকার করা হচ্ছে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু পোনা। অবৈধভাবে এসব রেণু পোনা ধরতে গিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।

রেণু পোনা শিকারিরা বলছেন, কর্মস্থানের অভাবে পেটের তাগিদে বাধ্য হয়েই এ কাজ করছেন তারা। বিশেষজ্ঞের মতে, এভাবে চলতে থাকলে হুমকির মুখে পড়বে জীব মৎস্য সম্পদ। তবে মৎস্য বিভাগ বলছে, পোনা শিকার বন্ধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা।

সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা ছাড়াও পটুয়াখালীর মহিপুর, আলীপুর ও গলাচিপাসহ ২০টি নদীর তীর থেকে প্রতিদিন রেণু পোণা শিকার করছে শিকারিরা।

মশারি ও বেহুন্দি জাল দিয়ে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু শিকার করতে গিয়ে ধ্বংস করছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ও জলজ প্রাণী। মৎস্য বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই রেণু পোনা শিকার করা হচ্ছে। তবে শিকারিরা বলছে, পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে এ কাজ করছে।

তারা বলেন, আমরা শুনেছি সরকার রেণু ধরা নিষেধ করেছে। কিন্তু তারপরও পেটের দায়ে আমাদের এ কাজ করতে হয়ে। এ রেণু যদি আমরা না ধরি তাহলে আমাদের অনেক কষ্টে সংসার চালাতে হবে।

বিশেষজ্ঞের মতে, রেণু পোনা ধ্বংসে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে অনেক প্রজাতির মাছই বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য বিভাগের ডিন ও প্রফেসর ড. মো. সুলতান আহমেদ বলেন, চিংড়ি পোনা ধরতে গিয়ে একটা চিংড়ি পোনার সঙ্গে অন্যান্য মাছের পোনাও আসছে। এজন্য কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে কোনো ভাবেই জেলেরা এই কাজ না করতে পারে। কারণ এতে করে আমাদের পরিবেশ ও জীব-বৈচিত্র্য হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।’

তবে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলছেন, রেণু পোণা শিকার বন্ধে সব ধরনের পদক্ষেপে নিয়েছেন তারা।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা(ভারপ্রাপ্ত) মো. আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা বিভিন্ন সময় সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। যারা এ ধরনের কাজ করে তারা যেন এ কাজ না করে সেজন্য নিষেধ করা হয়।’

দীর্ঘদিন আগে মৎস্য বিভাগের এক জরিপে দেখা গেছে, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, হাতিয়া ও সন্দ্বীপের ৬ লাখ মানুষ প্রতিবছর প্রায় ৩২ কোটি ৫৭ লাখ রেণু পোনা আহরণ করেন।

Leave a Reply