সর্বশেষ সংবাদ
প্রসঙ্গ: বরিশালের দোকানে দোকানে ‘একদর’ লিখে বাড়তি লাভ

প্রসঙ্গ: বরিশালের দোকানে দোকানে ‘একদর’ লিখে বাড়তি লাভ

মোঃ সাঈদ বারীঃঅর্থদানে তৃপ্তি আছে। কষ্ট হয় তা হারালে বা কারো কাছে ঠকলে। দোকানে কিছু কিনে ঠকতে চান না কেউই। বোধ করি, এ কারণেই অধিকাংশেরই ঝোঁক থাকে ‘একদর’ দোকানের দিকে। এসব দোকানেও যদি দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয় মূল্যের বিস্তর ফাঁরাক থাকে! সেখানেও ঠকতে হচ্ছে বলে জানা যায়, তা হলে ক্রেতা সাধারণ তথা ভোক্তারা আস্থা রাখবে কোথায়?

ব্যবসায়ীরা লাভ করার জন্যই বিপণিবিতান সাজিয়ে বসেন। লাভের তো মাত্রা থাকতে হয়। সে কারণেই ভোক্তা অধিকার আইনে কতো শতাংশ লাভ করা যাবে তা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। ‘একদর’ দোকানে বিক্রির জন্য রাখা দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয়ের রসিদ দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত যখন খুঁজে পান অসঙ্গতি, বিধি না মানার নজির, তখন দোকানিকে অর্থদণ্ডাদেশের মধ্যদিয়ে মূলত সতর্ক করে দেন। আইনের প্রতি অন্যদেরও শ্রদ্ধাশীল হওয়ার তাগিদ ফুটে ওঠে। এরকম মোবাইল কোর্টের নজির বিভিন্ন জেলায় পাওয়া গেলোও বরিশালে সচারাচর দেখা যায় না। আর এই সুযোগে নগরীর বিভিন্ন নামি-বেনামি মার্কেটের প্রায় প্রতিটি দোকানেই চলছে একদরের নামে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। আর বস্রের চাহিদা মেটাতে বিক্রেতাদের কাছে একরকম জিম্মি ক্রেতারা। অবশ্য  মার্কেটের দোকানেই ‘একদর’ লেখা না কিন্তু যে দোকানে একদর লেখা নেই সেখানে চলে দাম হাকা-হাকির যুদ্ধ। সরেজমিনে নগরীর মহসিন মার্কেট ঘুরে দেখা যায় , যে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩৫০ টাকায় ঠিক সেই পণ্যটি বিক্রির জন্য ক্রেতার কাছে চাওয়া হচ্ছে ২০০০-২৫০০ টাকা।  যদি দেশের অন্যান্য জেলার মতো বরিশালেও  দ্রব্যসামগ্রীর ক্রয়ের রসিদ দেখে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের অর্থদণ্ড বা সাজা দেওয়া হতো তাহলে অন্যরা  বিধি ভেঙে বাড়তি লাভের ফাঁদ বন্ধ করে নিজেদের সুধরে নেবেন। কারন তা না হলে তারাও নিশ্চয় পরবর্তীতে জরিমানা থেকে রক্ষা পাবেন না।

উল্লেখ্য,আইনের শাসন নিশ্চিত করার কাজে সহায়তার জন্যই বোধ করি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কর্মপরিধি সম্প্রসারণের পাশাপাশি ক্ষমতাও বৃদ্ধি করা হয়েছে। কালের বিবর্তনে প্রয়োজনের তাগিদে নতুন নতুন আইনও প্রণয়ন করা হয়েছে, হচ্ছে। সকল আইন বয়ে আনুক সুন্দর সমাজ। সুবিধা ভোগ করুক সমাজের সকলে।

Leave a Reply