সর্বশেষ সংবাদ
ভোলার চরফ্যাশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ

ভোলার চরফ্যাশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ

চরফ্যাশন প্রতিনিধি ॥ ভোলা চরফ্যাশন উপজেলা ডিজেল, কেরোসিন, পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। তেল পরিবহনকারী লরী মালিকদের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে পাইকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়িরা বেচাকেনা বন্ধ রাখায় গৃহস্থলী কর্মকান্ড, যানবাহন ও জেলেযান (নৌকা/ট্রলার) চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বাজারে ডিজেল না থাকায় বেকার হয়ে পরেছে দক্ষিণের মাছঘাটের ১০ হাজারের বেশী জেলে। দ্রুত সংকট নিরসন করে বিপর্যয় এড়াতে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন উপজেলা জ্বালানি তেল ব্যবসায়িদের সংগঠন। উপজেলা জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত অভিযোগ করেন, গত ৮দিন ধরে চরফ্যাশনের খুচরা ও পাইকারী পর্যায়ে ডিজেল কেরোসিন ও পেট্রোলের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কোন কারণ ছাড়াই জ্বালানী সরবরাহের সাথে সংশ্লিষ্ট লরী মালিকদের আকষ্মিক মূল্যবৃদ্ধি ফলে ব্যবসায়িরা বর্ধিতমূল্যে জ্বালানী রাখতে অস্বীকার করায় এ সংকট সৃষ্টি হয়। সরবরাহ মূল্য নিয়ে লরী মালিক ও জ্বালানী ব্যবসায়িদের মধ্যে সপ্তাহকালের বাড়াবাড়ির ফলে গতকাল পর্যন্ত গোটা উপজেলা জ্বালানী শূন্য হয়ে পরেছে। ইয়াছিন আরাফাত আরো জানান, লরী মালিকরা বরিশালের বিভিন্ন ডিলারদের থেকে জ্বালানী তেল সরবরাহ নিয়ে চরফ্যাশনের বাজারে যোগান দিয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতি ব্যারেল ডিজেল ১৩ হাজার ৩০০ টাকা, কেরোসিন ১৩ হাজার ৪০০ টাকা ও পেট্রোল ১৮ হাজার ৮০০ টাকা দমে সরবরাহ দেয়া হতো। কিন্ত ৮দিন আগে লরী মালিকরা ব্যারেল প্রতি ডিজেল ৪০০ টাকা, করোসিন ৪০০ টাকা এবং পেট্রোল ৭০০ টাকা বাড়িয়ে মূল্য নির্ধারন করে। ফলে জ্বালানী ব্যবসায়িরা অযৌক্তিক এই বর্ধিত মূল্যে জ্বালানী নিতে অস্বীকার করে আসছে। মূল্যবৃদ্ধির কথা স্বীকার করে চরফ্যাশনে ডিজেল সরবরাহে নিয়োজিত  মেসার্ম মিয়াজী ট্রেডার্সের মালিক হারুন মিয়াজী জানান, আগে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমদামে জ্বালানী সরবরাহ দেওয়া হতো। এখন সরকার নির্ধারিত দামেই সরবরাহ দেয়ার কথা বলায় ব্যবসায়িরা জ্বালানী নিতে অস্বীকার করছে। ফলে পর্যাপ্ত জ্বালানীর মজুদ থাকার পরও বাজারে শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।  ব্যবসায়িদের সূত্র জানায়, চরফ্যাশনে প্রতিদিন ৫০ হাজার লিটার ডিজেল/কেরসিন ও ১৫ হাজার লিটার পেট্রোলের চাহিদা  রয়েছে। এ সময়ে ডিজেল এবং কেরসিলের বড় অংশ যাচ্ছে মাছঘাটের ইঞ্জিন চালিত নৌকা ও ট্রলারে। সরবরাহ বন্ধ থাকায় উপকূলের মাছঘাটগুলোর কয়েকশ’ নৌকা ট্রলার অচল হয়ে পরেছে। ফলে বেকার হয়ে পরেছে ১০ হাজারের বেশী জেলে। জ্বালানী নিয়ে সংকট প্রসঙ্গে উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন আখন বলেন, সংকট নিরসনের জন্য জ্বালানী ব্যবসায়িরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। দ্রুত বিষয়টি নিরসনের জন্য বিকেলে লরী মালিকদের ডাকা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রেজাউল করিম জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply