সর্বশেষ সংবাদ
ভোলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা

ভোলায় ইউনিয়ন স্বাস্থ্য সেবার বেহাল দশা

এম. আর. মামুন. ভোলা ॥ দরিদ্র মানুষের দোড় গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌছে দেওয়ার লক্ষে করা ভোলার “ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র” গুলো থেকে কোন সেবাই পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। এমনকি কর্মস্থলে পাওয়া যাচ্ছে না সম্প্রতি নিয়োগ দেওয়া এম বি বি এস ডাক্তারদেরও। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তদারকীর অভাবে ভেস্তে যেতে বসেছে সরকারের এই মহৎ উদ্দেশ্যেটি। নিয়মানুযায়ি একটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে চারজন সেবা প্রদানকারীর থাকার কথা রয়েছে। গত ০৮/০৬/১৫ ইং (সোমবার) সরেজমিনে আলীনগর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, বেলা ১২টা পর্যন্ত একজনকেও দেখা যায়নি। সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি। জয়তুন নেছা (৬৫) নামক এক বৃদ্ধা কেঁদে কেঁদে অভিযোগ করেন, ‘বাবা আমি আইজ চাইর-পাচ দিন যাবৎ আইতাছি যাইতাছি আমারে একটা ঔষধও  দেয়না, আইলে ভেটকি মারে ধমকাইয়া পাডাইয়া দেয়। আমার কি ওষুদ কিন্না খাওনের টেহা আছে। হাইট্টা আওনের শক্তিও নাই হের পরও পত্তেক দিন কষ্ট কর্ইররা আই। আইজও আইলাম দেহেনত কেহই নাই। আইজও ওষুদ না নিয়া বাড়িত যাইতো হইবো।’ এ ব্যাপারে ভোলার সিভিল সার্জন ডা: ফরিদ আহাম্মদ এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি  জানান, এ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্র গুলো আমরা পরিচালনা করিনা এগুলো পরিবার পরিকল্পনা অধীদপ্তরের আন্ডারে তারা বলতে পারবে। তবে যে এমবিবিএস ডা: নিয়োগ দেয়া হয়েছে তাদের কেউ কেউ অন্যত্র বদলী হয়ে গেছে। আর যারা আছেন তারা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ঘাটতি থাকায় সপ্তাহে তিন দিন সদর হাসপাতালে এবং বাকি তিন দিন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করছেন। এবিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা ভোলার উপ-পরিচালক মাহমুদুল হক আজাদ জানান, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র আজকে খোলা থাকার কথা। তবে আপনারা যা দেখেছেন তাই রিপোর্ট করেন তারপর রিপোর্টের ভিত্তিতে ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান। মেডিকেল অফিসার (এমবিবিএস চিকিৎসক) অত্র ইউনিয়নে যোগদান করার পর অন্যত্র বদলি হয়েছেন , যখন ছিলেন তখনও স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে অর্থাৎ কর্মস্থলে মাঝে মাঝে এসে ঘুরে যেতেন। এরপর উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তারও একই অবস্থা খোঁজ নিয়ে তাকেও পাওয়া যায়নি। সরকারি বিধি মোতাবেক সকাল ৮টা থেকে একটানা দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত রুগিদের সেবা প্রদান করার বিধান থাকলেও বেলা ১২টায় কোন কোন স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রের দরজায় তালা ঝুলতে দেখা গেছে। আসলে ওইদিন তারা স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে আসেননি। এভাবেই তারা ফাকি দিচ্ছেন সরকারকে আর এই ফাকির প্রভাব পরছে পুরো ইউনিয়নের সাধারণ রুগিদের ওপর। যেসব কেন্দ্রগুলো সচল আছে সেগুলোতে দেখা গেছে, মেডিকেল অফিসাররা একই ভাবে অনুপস্থিত থাকেন। কিছু কিছু কেন্দ্রে একজন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা একটি ইউনিয়নের সকল ধরনের রোগির চিকিৎসা প্রদান করে আসছেন এবং ওষধ বিতরণ করছেন, রুগির চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়। শুধুমাত্র একজন পরিবার কল্যান পরিদর্শিকা বা পরিদর্শক দিয়ে গোটা ইউনিয়নের স্বাস্থ্য সেবা যদি গ্রামের প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌছে দেয়া সম্ভব হয় তবে কেন সরকারের এত লোকবল? অনেক রোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকার আমাদের সুবিধার জন্য স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র খুলছে কিন্তু এখানে নিয়মিত ডাক্তার পাইনা তাই সামান্য কিছু হইলেই আমাগো ভোলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়। আরেক রোগি অভিযোগ করে বলেন, একটু খানি কাটা ছেড়া বা সামান্য ডায়রিয়া হলে আমরা এই স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্রে আসি। এসে দেখি কখনো তালা ঝুলে আবার কখনো একজন আছেন কোন রকমে ওষধ দিচ্ছে ভুল দিচ্ছে নাকি সঠিক আল্লাহ পাক জানে। অনেক সময় দেখা যায়, গ্রামের কোয়াক ডাক্তারদের ( গ্রাম্য ডাক্তার) চিকিৎসা নিয়ে সমস্যার সমাধানতো হয়ইনা বরং চড়া মূল্যও দিতে হয়। ওষধ কিনলেও হাতে ধরিয়েদেন এমন নকল ঔষধ যা খেয়ে রুগির রোগতো সারেইনা বরং জীবন পড়ে যায় হুমকির মুখে সেই সাথে সময় অর্থ সবই খোয়াতে হয়। একই অবস্থা জেলার অধিকাংশ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের।

Leave a Reply