সর্বশেষ সংবাদ
মির্জাগঞ্জে এডিপির কাজ শুরুর আগেই শেষ

মির্জাগঞ্জে এডিপির কাজ শুরুর আগেই শেষ

মির্জাগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ পটুয়াখালীর জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল(এডিপি’র) বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ শুরুর আগেই কাজ শেষ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত অর্থ বছরে সম্পন্ন উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প নতুন করে প্রকল্প দেখিয়ে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের কাঞ্চন তালুকদারের বাড়ি সংলগ্ন খালের ওপর লোহার আয়রন ব্রীজ, চত্রা ওলামা মঞ্জিলের সামনে আয়রন ব্রীজ নতুন অর্থ বছরে উত্তোলন দেখিয়ে চন্দ্রকান্দা গ্রামের মাওলানা মান্নানের দরবারে সামনে,কাঞ্চন মিরার বাড়ির সামনে ও লাল মিয়ার বাড়ির সামনে লোহার আয়রন ব্রীজ স্থাপন করার জন্য প্রকল্প দেখানো হয়েছে। এদিকে মির্জাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মোতাহার মল্লিকের বাড়ির সামনে খালে বাধঁ নির্মান প্রকল্প দেখানো হয়েছে। অথচ এ বাধঁটি গত বছর নির্মান করা হয়। গত ২৭ মে কাজগুলো সম্পন্নের জন্য কার্যাদেশ দিয়েছে উপজেলা প্রকৌশলী এলজিইডি বিভাগ। অথচ এ ব্রীজগুলো গত অর্থ বছরেই পূনঃ নির্মান করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে মির্জাগঞ্জ উপজেলার এডিপির বিশেষ বরাদ্ধ ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা এবং সাধারন কোঠায় ৩৭ লক্ষ টাকাসহ মোট ২ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ পাওয়া যায়। এর মধ্যে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকার পত্রিকায় দরপত্র আহবান করা হয়। এ থেকে সরকারি রাজস্ব আয় হয় ৮ লক্ষাধিক টাকা। বাকি টাকার দরপত্র আহবান করে সিপিজির মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ করার ফলে সরকার ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বাকি টাকা স্থানীয় চেয়ারম্যান ও মেম্মাররা সিপিজির মাধ্যমে ভূয়া প্রকল্প দেখিয়ে আত্মসাৎ করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে। বাকী ১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা দরপত্র আহবান না করে গত ৩০ এপ্রিল মাসের মাসিক সভায় প্রকল্প কমিটি কর্তৃক ৪৮টি প্রকল্পের বিপরীতে ৮৭ লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। বাকী ৫০ লক্ষ টাকার প্রকল্প কোটেশনের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে বলে এলজিইডি প্রকৌশলী জানান। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ সুলতান হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, প্রকল্পে অনিয়ম হতে পারে। ৫০ লক্ষ টাকা কোর্টেশনের মাধ্যমে দেয়া হয়েছে। তবে তিনি কোটেশনের কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অভিযুক্ত প্রকল্পগুলোর অর্থ ছাড় দেয়া হবে না। দেউলী সুবিদখালী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম মৃধা জানান, আসলে ওই ব্রিজগুলো আগেই করা হয়েছে এখনও টাকা দেয়া হয়নি। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকল্প অনুমোদন করা হলেও এডিপির অর্থ দেরিতে পাওয়ায় এ সমস্যা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান খান মোঃ আবু বক্কর ছিদ্দিকী’র সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কোন প্রকল্পে অনিয়ম হলে যাচাই বাছাই করে ভূয়া প্রকল্প বাতিল করা হবে।

Leave a Reply