সর্বশেষ সংবাদ
লালমোহনে খাল দখলের কোন প্রতিকার নেই ॥ নিরব কর্তৃপক্ষ

লালমোহনে খাল দখলের কোন প্রতিকার নেই ॥ নিরব কর্তৃপক্ষ

নাঈমুল ইসলাম, লালমোহন ॥ লালমোহনের গজারিয়া ও কর্তারহাটে খাল দখলের কোন প্রতিকার নেই। চোখের সামনে খালগুলো দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন প্রতিহত তো দূরের কথা খোঁজই নিচ্ছে না। আর এ সুযোগে সরকারী দলের কতিপয় নেতারা খালগুলো দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে চলেছে। লালমোহন পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার চার পাশেই খাল দখলের বড় স্থান। এখানে বেশির ভাগ খালই বেহাত হয়ে যাচ্ছে। গজারিয়া বাজারের পূর্ব পাশে প্রধান সড়কের পাশে রাতারাতি ঘর তুলে খাল দখল করা হয়েছে। গত ১৫/২০ দিন ধরে ওই খাল দখলের উৎসব শুরু করেছে সরকারী দলের কতিপয় নেতারা। এদের মধ্যে পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সম্পাদক  হাসনাইন পঞ্চায়েত, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাসান মাষ্টার, ৮নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্পাদক লিটন বেপারী, আবুল কালাম, আঃ রশিদ, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সম্পাদক জলিল প্রফেসরসহ বেশ কয়েকজন রয়েছে। গজারিয়া শিমুল তলী এলাকায় খালের অর্ধেক দখল করে আরসিসি পিলার নির্মাণ করে দখল করেছে ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিক বেপারী ও জলিল প্রফেসর। একইভাবে গজারিয়া উত্তর বাজার ব্রিজ সংলগ্ন খালে পিলারসহ অবৈধভাবে ঘর নির্মাণ করেছে আনিচল হক কুট্টি মিঝি, জাকির পাটোয়ারী, সফিউল্যাহ, মোক্তার পঞ্চায়েত, হোসেন মিঝি, স্বপন মৃধা, মানিক মাঝি প্রমূখ। এভাবে গজারিয়ার হাই স্কুল রোড, গার্লস স্কুল রোড, উত্তর মাথা, পশ্চিম মাথা সব খানেই খাল দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে। অন্যদিকে কর্তারহাট বাজারের ব্রীজের উত্তর পাশে খালে বাঁশ দিয়ে ঘর তৈরি করেছে মন্নান মেকার, আঃ রহিম, মুক্তার, মারুফ মিয়া। খালগুলো এভাবে দখল চললেও কর্তৃপক্ষের মাথা ব্যাথা নেই। খাল দখলের ফলে খালের নাভ্যতা হারাতে বসেছে। খালের গতিপথ বন্ধ হয়ে পানিশূণ্য হয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তা হলে ওই ইউনিয়নে ফসল উৎপাদনে মারাত্মক অসুবিধার সৃষ্টি হবে। খালগুলো দখল হলেও কোন বিভাগই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারছে না। অভিযানও দেখা মিলছেনা কোন বিভাগের। নাম মাত্র দু-একটি স্থানে দায়সারা নোটিশ দিয়েই কার্যত দায়িত্ব শেষ করার চেষ্টা করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। যার ফলে বরাবরই খাল দখলের নেপথ্য নায়করা রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। দখলকারীদের প্রভাবের কারণে তাদের রুখতে অসহায়ত্ব দেখা যাচ্ছে। এ বিষয়ে ভোলার পরিবেশ আন্দোলনের সাথে জড়িত মোবাশ্বের উল্যাহ চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের দায়ীত্বহীনতার কারণে ভূমিদস্যুরা এ সুযোগ পাচ্ছে। খালগুলো রক্ষা করার দায়ীত্ব প্রশাসনের। দখলকারী ভূমিদস্যুরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না। প্রশাসন যথাযথ আইনের প্রতি দায়ীত্বশীল হলে ভূমিদস্যুরা এভাবে খাল দখল করতে পারে না। লালমোহন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোঃ জাকির হোসেন বলেন, এ খালগুলো উপজেলা প্রশাসনের আওতাধীন নয়। এগুলো জেলা পরিষদ বা পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন। দখল মুক্তে তারা সহযোগিতা না চাইলে আমাদের কিছুই করার নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লালমোহনের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামানের কাছে জানতে চাইলে তিনি খাল দখলের বিষয়ে অভিযান চালানোর কথা বলেছেন। কিন্তু গত ১ সপ্তাহেও কোন অভিযান চোখে পড়েনি। এমনকি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেউ ওই স্থানে গিয়ে বাধাও দেননি।

Leave a Reply