সর্বশেষ সংবাদ
শেবাচিমের নতুন ভবন নির্মানের কাজ নিয়ে জটিলতা  পূনঃ দরপত্র আহবান ॥ কাজ শেষ করতে হবে  এক বছরের মধ্যে

শেবাচিমের নতুন ভবন নির্মানের কাজ নিয়ে জটিলতা পূনঃ দরপত্র আহবান ॥ কাজ শেষ করতে হবে এক বছরের মধ্যে

হেলাল উদ্দিন: নানা জটিলতায় বন্ধ থাকা শেরই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের  নতুন ভবনের নির্মান কাজ সমাম্প করার জন্য পূনঃ দরপত্রের আহবান  করা হয়েছে। গত ৭  জুন বরিশাল গনপূর্ত বিভাগ  এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ  প্রকাশ করে।  গনপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহম্মদ জাকির হোসেন বলেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশিত হবে। তিনি বলেন ভবন নির্মান কাজ শেষ করা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদীর জন্য মোট ২১ কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। কিন্তু এখন ১০ কোটি টাকা বরাদ্ধ আছে। কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে এক বছরের সময় দেয়া হবে।  ২০০৭ সালের ৭ অক্টোবর ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে শেবাচিম হাসপাতালের পাশে ৭ তলা বিশিষ্ট ৫০০ শয্যার নতুন ভবন নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে গণপূর্ত বিভাগ। আযাদ কনস্ট্রাকশন ও ঢাকা মার্কেন্টাইল কর্পোরেশন নামে দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ কাজ পায়। পরে ৫ কোটি টাকা কমিয়ে ২৫ কোটি টাকায় ৫তলা ভবন নির্মাণের জন্য কার্যাদেশ দেয়া হয়। কাজ শুরুর পর ২৭ মাসের মধ্যে ভবন হস্তান্তরের জন্য নির্দেশনা দেয়া হয় ওই কার্যাদেশে। কিন্তু সামান্য কাজ করে ১১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা উত্তোলন করে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। পরে বিভিন্ন অভিযোগে গণপূর্ত বিভাগ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দুটিকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়। এ আদেশের বিপক্ষে ২০১২ সালের ২১ নভেম্বর উচ্চাদালতে রিট করে তারা। এরপর বন্ধ হয়ে যায় ভবনের নির্মান কাজ। গণপূর্ত বিভাগের দাবী কাজ স্থগিত হওয়ার আগে ৬০ ভাগ কাজ শেষ করেছিল ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান দুটি। সর্বশেষ গত ২ মাস পূর্বে উচ্চাদালতের অতিরিক্ত এ্যার্টনী জেনারেলকে মামলার স্বত্ব প্রদান করে গণপূর্ত বিভাগ। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত মামলার বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতে সালিশ প্রস্তাব দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এর পর সালিশের মাধ্যমেই সমাধান হয় ঐ জটিলতা। ১৯৬৮ সালে  ৫০০ শয্যার  শেবাচিম হাসপাতাল  প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু বিভাগের ৬ জেলা থেকে প্রতিদিন সহস্রাধিক রোগী ভর্তি হয় এ হাসপাতালে। এ ছাড়া বহিঃবিভাগেও প্রতিদিন গড়ে ৩শ’ রোগী চিকিৎসাসেবা গ্রহন করে। ফলে রোগীর জটে চরমভাবে বিঘিœত হতে থাকে এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা। নতুন হাসপাতাল নির্মানের খবর শুনে স্বস্তি ফিরেছিল বিভাগের ২৪ লাখ মানুষের মধ্যে। কিন্তু ৫ বছরেও হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় চরম হতাশা বিরাজ করছে  এখানকার মানুষের মধ্যে।

Leave a Reply