সর্বশেষ সংবাদ
স্বজনদের অপেক্ষা, তদন্ত কমিটি গঠন

স্বজনদের অপেক্ষা, তদন্ত কমিটি গঠন

জীবন-জীবিকার তাগিদে কলাকলী চর থেকে প্রতিদিন মনপুরা উপজেলা সদরে চলে আসেন শত শত মানুষ। এসব মানুষকে জীবনের ঝূঁকি নিয়ে নৌ পথেই আসতে হয়। উত্তাল মেঘনা বুকে পাড়ি জমাতে তাদের একমাত্র ভরসা ইঞ্জিন চালিত ট্রলার।

অন্যদিনের মত বৃহস্পতিবারও তাদের ছুটতে হয়েছে উপজেলা সদরের দিকে। কিন্তু সর্বনাশা ঝড় কেড়ে নিয়েছে ১০টি প্রাণ।

ট্রলার ডুবির ঘটনায় কেউ হারিয়েছেন বাবা, কেউ মা, কেউবা সন্তান আর পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে। স্বজনহারা এসব পরিবারে এখন চলছে শোকের মাতম। কান্না আর আহাজারিতে যেন ভারী হয়ে উঠেছে মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম।
দুর্ঘটনার পর থেকে শুক্রবার

ভোর পর্যন্ত ১০ লাশ উদ্ধার হলেও এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছে অন্তত ২০জন। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধ‍ানে মেঘনা পাড়ে নির্ঘূম রাত কাটিয়েছে স্বজনরা।

তাদের বিশ্বাস, তারা জীবিত ফিরে আসবেন। আর এ আশাতেই চোখ-মুখে আতংক আর বিপুল আগ্রহ তাদের।

এদিকে, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলারটি উদ্ধার হলেও এখনও উদ্ধার হয়নি নিখোঁজরা।তবে পুলিশ ও কোস্টগার্ডের বেশ কিছু টিম উদ্ধার অভিযান চালালেও বৈরি আবহাওয়ার কারণে উদ্ধার কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতেও কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে গঠিত একটি টিম উদ্ধার কাজে অংশ নিতে পারেনি। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে ওই টিম ফের গভীর রাতে মনপুরার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। pic-04

অভিযানে অংশ নেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান জানান, মনপুরার মেঘনার বিভিন্ন পয়েন্টে উদ্ধার কাজ চলছে। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উদ্ধার কাজ তদারকি এবং নিখোঁজ ও নিহতের খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর থেকে হাজিরহাট ও কলাতলীর চর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে মেঘনা পাড়ে ভিড় জমাচ্ছেন স্বজনরা। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কেউ কেউ ট্রলার নিয়ে নিখোজদের সন্ধ্যান চালিয়ে যাচ্ছেন। নিহত ও নিখোজদের পরিবারে চলছে স্বজনহারা মাতম।

কোস্টগার্ড দক্ষিণ জোনের অপারেশন অফিসার লে. মো: খালিদ জানান, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলার ও এর ১৭ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে কোস্টগার্ড। বাকি নিখোজদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের টিম কাজ করছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক মো: সেলিম রেজা বলেন, নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাতœক চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। নিহত পরিবারের প্রত্যেকে ২০ হাজার করে টাকা দেয়া হবে।

উল্লেখ্য,বৃহস্পতিবার দুপুরে কলাতলীর চর থেকে মনপুরা আসার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে শতাধিক যাত্রী নিয়ে নাইম মাঝির একটি ট্রলার ডুবে যায়। এ ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ২০জন। স্থানীয়রা ১০টি লাশ উদ্ধার করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেতে ৬টি লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

এদিকে শুক্রবার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে প্রশাসন। কমিটি এরইমধ্যে কাজ শুরু করেছে।

Leave a Reply