সর্বশেষ সংবাদ
৪৯ বছরেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়ামে !!!

৪৯ বছরেও আন্তর্জাতিক ম্যাচ মাঠে গড়ায়নি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়ামে !!!

প্রতিষ্ঠার ৪৯ বছর পরেও অবহেলিত রয়ে গেছে দেশের তৃতীয় বৃহত্তম বরিশালের শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়াম। অত্যাধুনিক মানের অবকাঠামো ও ক্রীড়া প্রেমী থাকার পরেও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার অভাবে আন্তর্জাতিক কোন খেলা গড়াচ্ছে না কীর্তনখোলা নদীর তীর ঘেঁষে গড়ে উঠা এ স্টেডিয়ামে।

বরিশাল জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা সূত্র জানায়, ১৯৬৬ সালে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মাহফুজুর রহমানের উদ্যোগে ২৯ একর ২৫ শতাংশ জমির ওপর বরিশাল স্টেডিয়াম নির্মাণ করা হয়। ১৯৭০ সালে স্টেডিয়ামটি বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে ঘিরে দেয়া হয়। ওই
সময় দু’হাজার দর্শকের জন্য গ্যালারিও নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে সেখানে স্থানীয় ফুটবল ও ক্রিকেট লিগের খেলা চলতে থাকে। বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে ঘোষণা দেয়ার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিকট আবেদন জানানো হয়। বরিশাল স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক ভেন্যুতে রূপ দিতে ২৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা ব্যয় করে নির্মাণ করা হয় ৩৫ হাজার দর্শক গ্যালারি, পাঁচতলা প্যাভিলিয়ন ও মিডিয়া সেন্টার, ফ্লাড লাইট, স্টেডিয়ামের প্রধান গেট,
পাবলিক টয়লেট, সংযোগ সড়ক। ২০০৬ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হয় বরিশাল স্টেডিয়ামের আধুনিকায়নের কাজ। এরপর থেকে অলস পড়ে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন দেশের তৃতীয় বৃহত্তম স্টেডিয়ামটি।

২০০৯ সালে বরিশাল স্টেডিয়ামে ৫টি সেন্ট্রাল উইকেট ও ৪টি প্রাকটিস উইকেট এবং আউট ফিল্ড ঠিক করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। সিদ্ধান্ত গ্রহণের দীর্ঘ ৯ মাস পর ওই বছরের অক্টোবর মাসে বরিশাল স্টেডিয়ামে তড়িঘড়ি করে ৩টি সেন্ট্রাল ও
৪টি প্রাকটিস উইকেট তৈরি করা হয়। এরপর আউট ফিল্ড ঠিক করার জন্য ওই সময় কিছু মাটি ফেলা হলেও মাঠ সংস্কার হয়নি। এভাবে দীর্ঘদিন ফেলে রাখার পর ২০১০ সালে তৈরি করা হয় আউট ফিল্ড। কিন্তু বিপুল টাকা ব্যয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন করা হলেও আজ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক কোন খেলার আলো দেখেনি বরিশালবাসী।

ক্ষুব্ধ ক্রীড়ামোদীরা জানান, মানসম্মত আবাসিক হোটেল ও উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা না থাকার দোহাই দিয়ে বরিশাল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনার উদ্যোগ নিচ্ছে না স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পূর্বে বরিশালে বিমান যোগাযোগ না থাকলেও বর্তমানে তা চালু
রয়েছে। এছাড়া বরিশাল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক কোনো খেলা আয়োজনে আরেকটি মূল বাধা ছিল আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন আবাসিক হোটেল। তবে বর্তমানে স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় একটি আন্তর্জাতিক মানের আবাসিক হোটেলের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এ ছাড়া নগরীর সাহেবের গোরস্তান এলাকায় দশতলা বিশিষ্ট একটি তিন তারকা আবাসিক হোটেলও নির্মাণ করা হয়েছে।

ক্রীড়ামোদীরা জানান, বরিশালের কাছে আন্তর্জাতিক মানের একটি স্টেডিয়াম থাকা সত্ত্বেও জাতীয় লিগে বরিশালের লোকাল ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার হয় ঢাকা ফতুল্লা স্টেডিয়াম। যে কারণে সমস্ত বাংলাদেশ ক্রিকেটের বর্তমান স্বর্ণালী সময়ে যখন আনন্দে ভাসে তখন বরিশালবাসী একটি অতৃপ্ত বেদনায় কাতরাচ্ছে।

বরিশালের প্রাক্তন ক্রিকেটার ও জেলা ক্রিকেট আহবায়ক কমিটির সদস্য ইব্রাহিম কামাল জানান, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার অভাবে আন্তর্জাতিক মানের খেলা বরিশালে হচ্ছে না। বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের খেলা হলে তৃণমূল খেলোয়ারা আরো বেশি উপকৃত হতো। নতুন নতুন খেলোয়ারের সৃষ্টি হতো।

বরিশাল জেলা ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ফজলে রাব্বী মাহামুদ  জানান, বরিশালে যদি আন্তজার্তিক খেলা অনুষ্ঠিত হয়, তবে তা দেখে জুনিয়র খেলোয়াররা উদ্ভুদ হবে, প্রেরণা পাবে। তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগ হওয়ার পরও বরিশাল স্টেডিয়াম নানাভাবে অবহেলিত। আর এ অবহেলার কারণেই বরিশাল থেকে খেলোয়ার বের হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় ক্রিয়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর হোসেন আলো জানান, বরিশালে আবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও পাঁচ তারকা মানের বা তিন তারকা মানের হোটেল নেই। সরকারিভাবে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত না করা পর্যন্ত আন্তর্জাতিক খেলা আয়োজন করা যাচ্ছে না।

Leave a Reply