সর্বশেষ সংবাদ
উপলক্ষ ঈদ:১০ লাখ টাকায় বিক্রি নগরীর ফুটপাত

উপলক্ষ ঈদ:১০ লাখ টাকায় বিক্রি নগরীর ফুটপাত

হেলাল উদ্দিন  ঈদ উপলক্ষে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে নগরীর ফটুপাত। শুধু মাত্র ১৫ দিনের জন্য টাকা দিয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ফুটপাত কিনে নিয়েছে ব্যবসায়ীরা। আর এ টাকার অধিকাংশ গেছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা, বিসিসির কিছু অসাধু কর্মকর্তা, এমনকি পুলিশের পকেটেও। ফলে ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ত এ নগরী ফুটপাত দখলের মুখে  তীব্র যানজটের শহরে পরিণত হয়েছে । এ চিত্র এতই ভয়াবহ যে মেট্টোপলিটন ট্রাফিক পুলিশ হিমশিম খাচ্ছে যানজট নিরসনে। ফলে ভোগান্তি নিত্য সঙ্গী হচ্ছে নগরবাসী তথা ক্রেতাদের। তবে ব্যবসা নির্বিঘেœ করার জন্য ঘুষ দেয়ার ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ ওই সব ব্যবসায়ীরা। তবে কয়েকজন ব্যবসায়ী  নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, দোকান প্রতি ৭/১০ হাজার টাকা দিতে হয়েছে তাদের। কারা নিচ্ছে এ টাকা এমন প্রশ্নের জবাবে তারা জানান কিছু আওয়ামী লীগ নেতা, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বিসিসির কিছু কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যের কথা। সরেজমিনে নগরীর চকবাজার, গীর্জামহল্লা, ফজলুল হক এভিনিউ, লঞ্চঘাট, সিটি মার্কেট, মহসিন মার্কেট এমনকি সিটি কর্পোরেশনের আশপাশসহ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঈদ ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। এ সব সড়কে কমপক্ষে  ১শ’ দোকান দিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। এ সব ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেশির ভাগ মৌসুমী ব্যবসায়ী হলেও অনেকেই নিজেদের দোকান বর্ধিত করে ফুটপাত দখল করেছে। এছাড়া ভ্রাম্যমান (ভ্যান) ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দিনে ৫০/১০০ টাকা নিচ্ছে  ওই  চক্রটি। এ সব ছাড়াও টুকিটাকি চাঁদা দিতে হয় এ সব ব্যবসায়ীদের। মোট অংকের হিসাবে প্রায় ১০ লাখ টাকায় দাঁড়ায় নগরীর ফুটপাত বিক্রির অর্থ। বর্তমানে নগরীতে এ ধরনের ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী রয়েছে অন্তত ৩শ’ । নগরীতে ব্যবসায়ীদের এমন মেলে খুলে বসার চিত্রে সহজেই অনুমেয় পথচারীদের অবস্থান কোথায়, আর যানজটের চিত্রই বা কি? স্বাভাবিক সময়ে নগরীতে ১/২ ঘন্টা যানজট থাকলেও রোজার শুরু থেকে এর পরিমান গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৩/৪ ঘন্টায়। ফলে ঈদ কেনাকাটায় আনন্দের বদলে ভোগান্তিই বেশী পাচ্ছে নগরবাসী। জানতে চাইলে বিসিসির এক কর্মকর্তা  নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফুটপাত দখলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঈদ উপলক্ষে এরকম প্রতি বছরই হয়। বেশী কঠোর হয়ে এগুলো উচ্ছেদ করা হলে তা অমানবিক হবে। তবে এ কারনে যানজট হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, অল্প পরিসরে যতটুকু করা যায় ততটুকু করব। ফুটপাত বিক্রি করে টাকা নেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, বিসিসির কেউ এর সাথে জড়িত নেই, তবে আওয়ামী লীগের কিছু লোক এর সাথে জড়িত আছে বলে আমি শুনেছি। মেট্টো ট্রাফিকের  এসি মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন  , ঈদকে কেন্দ্র করে ফুটপাত কিংবা ব্যবসায়ী নিয়ে কোন ধরনের চাঁদাবাজীর খবর পেলে আমরা কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেব। ফুটপাত দখলের ফলে যানজট বেড়ে যাচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যানজট নিরসনে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহন করেছি। আশা করছি শেষ পর্যন্ত যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হব।

Leave a Reply