সর্বশেষ সংবাদ
জামায়াত-শিবিরের নয়া চক্রান্তের জালে ধরা দিচ্ছে বরিশাল ছাত্রলীগ!

জামায়াত-শিবিরের নয়া চক্রান্তের জালে ধরা দিচ্ছে বরিশাল ছাত্রলীগ!

হেলাল উদ্দিন  জামায়াত-শিবিরের নয়া চক্রান্তের জালে ধরা দিচ্ছে বরিশাল ছাত্রলীগ। গত কয়েক মাস ধরে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় ছাত্রশিবিরের লোকজন ছাত্রলীগে যোগ দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে এ যোগদান প্রক্রিয়ায় থাকছে গোপনীয়তা। ছাত্র শিবিরের ছেলেরা কৌশলে যোগদানের বিষয়টি গোপন রেখে মিলে যাচ্ছে ছাত্রলীগে। আর ছাত্রলীগ নেতারা বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ছাত্রশিবিরের ছেলেদের নিয়ে নিচ্ছে দলে। এ ক্ষেত্রে ছাত্রলীগ নেতাদের আর্থিকসহ নানা সুবিধা দেয়া হচ্ছে বলে বিভিন্ন উপজেলা থেকে খবর পাওয়া গেছে। জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের কয়েকটি সূত্র থেকে জানা গেছে, সরকারের জামায়াত-শিবির বিরোধী কঠোর অবস্থানের কারনে সর্বশেষ উপায় হিসাবে এ পন্থা অবলম্বন করেছে দলটির হাইকমান্ড। সূত্রটি জানিয়েছে শুধু ছাত্রলীগে যোগদান নয় সাংবাদিকতা ও আইন পেশায়ও নিযুক্ত হওয়ার জন্য জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের বলা হয়েছে হাইকমান্ড থেকে। কয়েকমাস আগে জামায়াত-শিবিরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক করে ঐ সিদ্ধান্ত গ্রহন করে নেতা-কর্মীদের দিক নির্দেশনা দিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দেন। এর প্রমানও মিলেছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া খবরে। গত কয়েকদিন আগে বেসরকারী কয়েকটি টিভি চ্যানেলে এ সংক্রান্ত কয়েকটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি আলোচনা হয়েছে টকশোতেও। যে আলোচনায় উঠে এসেছে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ তথা ছাত্রলীগে যোগদান করার বিষয়টি। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশিষ্ট আলোচকরা এবং সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের সকল নের্তৃত্ব স্থানীয় নেতাদের। বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া গেছে এমন খবর। তবে এ বিভাগের জামায়াত-শিবিরের নেতারা একটু কৌশলী হয়েছে ক্ষমতাসীন দলে যোগদানের বিষয়ে। তারা অনেকটা গোপনে সেরেছেন এই কাজ। এ প্রক্রিয়ায় দলের নিচের সারির নেতা-কর্মীরা ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সাথে প্রথমে সখ্যতা গড়ে তোলে। পরে তাদের একটু দুর্বলতা উপলব্ধি করে সুযোগ বুঝে দলে যোগ দিয়ে ফেলে। তবে বিষয়টি মিডিয়ায় যেন জানাজানি না হয় সে বিষয়ে ছিলো কড়া নজরদারী। এভাবে চলছে বরিশালে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতি। জানা গেছে অন্য কোন দুটি উদ্দেশ্যে এ কাজ করছে স্বাধীনতা বিরোধী এ দলটি। প্রথমত তারা ক্ষমতাসীন দলে প্রবেশ করছে বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য। আর অন্যটি হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলে নিজেদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে দলের ভিতরে কোন্দল সৃষ্টি করা। গত কয়েকদিন ধরে বরিশাল জামায়াত-শিবিরের কয়েক শীর্ষ নেতাদের সাথে কৌশলে আলাপকালে পাওয়া গেছে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য। তারা বলেন সরকারের সাথে লড়াই করার চেষ্টা করেছি আমরা। কিন্তু বারবার ব্যর্থ হয়েছি। তাই সর্বশেষ কৌশল হিসাবে আমাদের হাইকমান্ড এ সিদ্ধান্ত গ্রহন করেছে। আমরা সে মোতাবেক কাজ করছি। ইতিমধ্যে বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় আমাদের নেতাকর্মীরা ক্ষমতাসীন দলে প্রবেশ করেছে। তারা আরো বলেন শুধু ক্ষমতাসীন দলে প্রবেশ নয় আমাদের কাছে আরো দুটি অপশন দেয়া হয়েছে। সাংবাদিকতা এবং আইন পেশায় যোগ দেয়া। কারন হিসাবে তারা বলেন এ দুটি পেশায় থাকলে সরকারি দমন নীপিড়ন থেকে মুক্ত থাকা যায়। এছাড়া ব্যবসায়ী পেশায়ও যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। সবক্ষেত্রেই দল সব ধরনের সহযোগীতা করবে। এভাবে থেকেই পরিস্থিতি পরিবর্তিত না হওয়া পর্যন্ত আপাতত দল পরিচালনা করার জন্য বলা হয়েছে। তবে জামায়াত-শিবিরের দলে যোগ দেয়ার বিষয়ে তেমন কোন তথ্য নেই বলে জানান বিভিন্ন জেলার ক্ষমতাসীনদলের নেতারা। জানতে চাইলে বরিশাল জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত বলেন বরিশাল জেলার কোন উপজেলায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তিনি বলেন আমাদের দলে অন্য যে কোন দলের লোকজন আসতে পারে শুধু জামায়াত-শিবির ছাড়া। এরপরও যদি উপজেলা পর্যায়ের নেতারা শিবিরের সামান্যতম কর্মীদের দলে অর্থিক বা কোন কারনে নেয় আর সেটা আমরা জানতে পারলে ঐ কমিটির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক বলেন, আমি এখনো এ বিষয়ে কিছু জানিনা। তবে অবশ্যই আমি উপজেলা পর্যায়ে খোঁজখবর নেব। তিনি বলেন জামায়াত-শিবিরের কাউকে ছাত্রলীগে নেয়া যাবে না। আমাদের কোন নেতাকর্মী এর সাথে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply