সর্বশেষ সংবাদ
লঞ্চের ঈদ স্পেশাল সার্ভিসঃবাড়তি সাড়ে ৩ কোটি টাকা যাবে লঞ্চ মালিকদের পকেটে !

লঞ্চের ঈদ স্পেশাল সার্ভিসঃবাড়তি সাড়ে ৩ কোটি টাকা যাবে লঞ্চ মালিকদের পকেটে !

হেলাল উদ্দিন:ঈদে ঢাকা-বরিশাল লঞ্চ রুটে ৩ কোটি টাকারও বেশী বাড়তি ভাড়া আদায় হবে। স্পেশাল সার্ভিসের মাধ্যমে লঞ্চ মালিকরা যাত্রীদের কাছ থেকে এ টাকা আদায় করবে। তবে মালিকদের দাবী তারা ঈদ উপলক্ষ্যে যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে তা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কম।তথ্য মতে প্রতি বছর ঈদে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দক্ষিণাঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ আসে পরিবার পরিজনের সাথে ঈদ করার জন্য। এসব যাত্রীদের বেশীর ভাগই লঞ্চের যাত্রী। ঢাকা-বরিশাল লঞ্চ রুটে যাতায়াত নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দের হওয়ায় বেশীর ভাগ যাত্রী এ রুটেই আসে। লঞ্চ মালিক সমিতি প্রতি ঈদেই স্পেশাল সার্ভিস চালু করে। এবছরও ব্যতিক্রম করেনি তারা। মালিক সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল ১৪ জুলাই থেকে শুরু হয়েছে স্পেশাল সার্ভিস। ঢাকা থেকে শুরু হওয়া এ সার্ভিস ২৮ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। মাঝখানে ঈদের দিন ও তার পরের দিন বন্ধ থাকবে  এ সার্ভিস। সার্ভিসে প্রতিদিন ১৩টি লঞ্চ চলাচল করবে। আর এর  মাধ্যমেই যাত্রী সেবার নামে লঞ্চ মালিকরা হাতিয়ে নেবে বাড়তি ৩ কোটি টাকা। এছাড়া দালাল সিন্ডিকেট তো রয়েছেই। হিসেবে অনুসারে ঈদের আগের ৪ দিন স্পেশাল সার্ভিসে প্রতিদিন ১৩টি লঞ্চ ঢাকা থেকে আসবে। প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৩ হাজার যাত্রী আসলে ১৩টি লঞ্চে দিনে ৩৯ হাজার এবং ৪ দিনে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার যাত্রী আসবে। সংশ্লিষ্টদের ধারনা ঈদের উপচে পড়া ভিড়ে যাত্রীর এ সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে। লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ এ বছর ডেকে ২৫০ টাকা, একক কেবিন ১ হাজার টাকা, ডাবল ২ হাজার এবং এসি কেবিনের ক্ষেত্রে এককে ১শ’ এবং ডাবলে ২শ’ টাকা বাড়তি ধার্য্য করেছে। অথচ সারা বছর ডেকে দেড়শ থেকে ২শ’ টাকায় এবং কেবিনে ৯শ’ টাকা ও ১৭শ’ টাকায় যাত্রী বহন করেছে তারা। এছাড়া সোফায়ও ৫শ’ টাকার পরিবর্তে ১শ’ টাকা বাড়িয়ে ৬শ’ টাকা করেছে। অথচ  সারা বছর এ রুটে মানুষ ডেকে ২০০ টাকায়  একক কেবিনে ৮ শ  এবং ডাবল কেবিনে  ১৬ শ টাকায়  যাতায়াত করে।   সে হিসাবে ডেকে ৫০ টাকা  এবং কেবিনে ২শ ও ৪শ টাকা বাড়তি নেয়া হবে ঈদ সার্ভিসে।  ডেকের ২ লাখ যাত্রী প্রতি ৫০ টাকা বাড়তি ভাড়া হিসাবে ১ কোটি টাকা শুধু ডেকের যাত্রীদের কাছ থেকেই আদায় করা হবে ঈদের আগে। এছাড়া প্রতিটি লঞ্চে গড়ে ৮০/১০০টি একক ও ডাবল কেবিন রয়েছে। একক ২শ টাকা ও ডাবল ৪শ টাকা বাড়তি হিসাবে প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকা ৪ দিনে বাড়তি পাচ্ছে লঞ্চ মালিকরা। অর্থ্যাৎ ঈদের আগে ৪ দিনের স্পেশাল সার্ভিসে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা বাড়তি ভাড়া পকেটে যাচ্ছে লঞ্চ মালিকদের। অনুরূপ ভাবে ঈদের পর ৮ দিন স্পেশাল সার্ভিসে আরো বাড়তি  নূনতম ২ কোটি টাকা আদায়  করা হবে যাত্রীদের কাছ থেকে। সংশ্লিষ্টদের মতে ঈদ পূর্ব ও পরবর্তী ঢাকা-বরিশাল লঞ্চ রুটে যাত্রীদের আসা-যাওয়ার প্রদত্ত হিসাব ছাড়িয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি ভাড়া আদায় সাড়ে ৩ কোটির অনেক বেশী ছাড়িয়ে যাবে। জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় লঞ্চ মালিক সমিতির সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু জানান, ঢাকায় বৈঠকের মাধ্যমে ভাড়া নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ডেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়া ২৫২ টাকা । আমরা এবার ২৫০ টাকা নিচ্ছি। এছাড়া সাড়া বছর দেড় থেকে ২শ টাকায় যাত্রী আনা নেয়া করি। ঈদে আমাদের শ্রমিকদের বোনাসসহ ডাবল ট্রিপে  বাড়তি খরচ রয়েছে। তাই যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেবার প্রশ্নই আসেনা। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন আরো দু একটি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হবে ।যাত্রীদের চাপ বেশী হলে তাও ছেড়ে দেয়া হবে।এছাড়া অপর প্রান্তেও (বরিশালে)দু একটি লঞ্চ রাখা হবে।

Leave a Reply