সর্বশেষ সংবাদ
শেবাচিমে ঈদে চিকিৎসায় থাকবে ৫১ চিকিৎসক! চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা

শেবাচিমে ঈদে চিকিৎসায় থাকবে ৫১ চিকিৎসক! চিকিৎসা সেবা ভেঙ্গে পড়ার আশঙ্কা

সাঈদ বারীঃ ঈদ উপলক্ষে শেবাচিমের চিকিৎসা-সেবা ভেঙ্গে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।সিংহভাগ চিকিৎসক ঈদের ছুটিতে যাওয়ায় মাত্র ৫১ জন চিকিৎসক দিয়ে ঈদের তিনদিন চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে শেবাচিম কতৃপক্ষ।যার করনে চিকিৎসা সেবা বঞ্চিত হতে হবে বা নামমাত্র চিকিৎসা পেয়ে সন্তস্ট থাকতে হবে বিভাগের জনসাধারণকে।জানা যায় আট শতাধিক চিকিৎসক-নার্স এর স্থলে ঈদের তিন দিন সহস্রাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা প্রদানে দায়িত্ব পান করবেন মাত্র দুই’শ জন চিকিৎসক এবং নার্স। যার মধ্যে চিকিৎসক থাকবেন মাত্র ৫১ জন।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার সরকারী অফিসের শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আজ থেকে ঈদের ছুটি শুরু হলেও গতকাল বৃহস্পতিবারই প্রায় ফাঁকা ছিল হাসপাতাল।
বুধবার পবিত্র শব-ই-কদর উপলক্ষে হাসপাতাল বন্ধের সুবাধে ছুটির একদিন আগেই কর্মস্থল থেকে চলে গেছে অনেক চিকিৎসক।
অন্যদিকে একাধিক রোগীর স্বজনরা বরিশাল লাইভকে জানান ঈদে হাসপাতালে রোগীর চাপ কমাতে ঈদকে সামনে রেখে হাসপাতালে চলছে রোগীর ছাড়পত্র দেয়ার প্রতিযোগিতা। প্রতিদিন দুইশর বেশি রোগীর ছাড়পত্র দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। এদের সকলকেই ঈদের এক সপ্তাহ পরে পূনরায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য শুপারিশ করছেন চিকিৎসকরা। এখন রোগীকে ছাড়পত্র দিয়ে বিদায় করা হলে ঈদে রোগীর চাপ কম থাকবে।আর সীমিত চিকিৎসক দিয়ে অল্প সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা দিতে সমস্যা হবে না। এমনটি ভেবেই বিদায় করা হচ্ছে রোগীদের।
তবে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দাবী যেসব রোগীরা সুস্থ শুধু মাত্র তাদের নাম কাটা হচ্ছে। তাছাড়া অনেক রোগীই পরিবারের সাথে ঈদ করার সুবাধে স্বেচ্ছায় নাম কাটিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছে।
হাসপাতালের প্রশাসনিক বিভাগ থেকে জানা যায় জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক এবং নার্সদের ডিউটি রোস্টার ( কর্মতালিকা সংবলিত রেজিস্টার) করা হয়েছে। ঈদের তিন দিন হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ২০১ জন চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করবেতার জদিও এটা প্রয়োজনের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল বলে দাবী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এছাড়া প্রসাশনিকসহ অন্যান্য বিভাগে ঈদের তিন দিন রোগীর চিকিৎসা সেবা দেয়ার জন্য ২০ জনের বেশি রেজিষ্ট্রারের মধ্যে দায়িত্বে থাকবেন মাত্র ৪ জন রেজিষ্ট্রার। দেড়শ জনের বেশি সহকারী রেজিষ্ট্রার, ইন্ডোর মেডিকেল অফিসার এবং ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসারদের মধ্যে থাকবেন মাত্র ৩৬ জন এবং ১৭৭ জন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের মধ্যে থাকবেন মাত্র ১৫ জন। এছাড়া চার শতাধিক নার্সের মাঝে দায়িত্বে থাকবেন বিভিন্ন ধর্মের মাত্র ১৫০ জন। এর পাশাপাশি প্রশাসনিক ও চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম মনিটরিং এর জন্য শুধু মাত্র হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম একাই দায়িত্ব পালন করবেন।
অপরদিকে হাসপাতালের সহস্রাধিক রোগীর জন্য সামান্য সংখ্যক (৫১ জন) চিকিৎসক ও নার্স দিয়ে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া সম্ভব নয় বলে দাবী করেছেন হাসপাতালের সংশ্লিষ্টরা। তাই ঈদের মধ্যে রোগীর চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়বে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করা শর্তে হাসপাতালের এক রেজিস্টার জানান, ঈদ দেখে রোগ থেমে থাকে না। তাই ঈদের মৌসুমেও প্রতিদিন প্রায় দুইশর মত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন এক হাজারের মত রোগী হাসপাতালে ভর্তি থেকে চিকিৎসা গ্রহন করবে। তাই চিকিৎসক এবং নার্স এর সংখ্যা আরো বাড়ানো উচিৎ ছিলো।
বিপুল সংখ্যক চিকিৎসকের ছুটি সংক্রান্ত ব্যাপারে জানতে চাইলে শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. মু. কামরুল হাসান সেলিম বরিশাল লাইভকে জানান, হিন্দু এবং অন্যান্য ধর্মের চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি অনেক মুসলমান চিকিৎসকদের ছুটিও বাতিল করা হয়েছে। এদের ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার পরে ছুটি দেয়া হবে।
তিনি আরো বলেন, যাদের ছুটি দেয়া হয়েছে তার মধ্যে নগরীর মধ্যে যেসব চিকিৎসকের বাড়ি তাদেরকে কমপক্ষে একবার হলেও হাসপাতালে এসে রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের জন্য নির্দেশ করা হয়েছে।
এর পাশাপাশি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকদের ঈদের ছুটিতে একবার করে হলেও ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তাই ঈদের ছুটিতে রোগীদের চিকিৎসা সেবায় কোন প্রকার সমস্যায় পড়তে হবে না বলেও দাবী করেন পরিচালক। এক্ষেত্রেও চিকিৎসাসেবা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়, জারা(চিকিৎসক) দায়িত্তে থাকা অবস্থায়ই ওয়ার্ডে আসতে প্রায়ই অনীহা প্রকাশ করে তারা কি ছুটি বিসর্জন দিয়ে হাসপাতালে তথা ওয়ার্ডে আসবে? তবে বৃহত্তর বরিশাল বিভাগের জনসাধারনের অন্যতম নাগরিক অধিকার চিকিৎসাসেবার কথা বিবেচনা করবে শেবাচিমের চিকিৎসকরা এই কামনা করছেন বরিশালবাসী।

Leave a Reply