সর্বশেষ সংবাদ
সাগর গিলছে কুয়াকাটার নারিকেল বাগান

সাগর গিলছে কুয়াকাটার নারিকেল বাগান

ডেস্ক ॥ পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সৌন্দর্য বর্ধণকারী নারিকেল বাগান ক্রমশই সাগরের ঢেউয়ের তাণ্ডবে সৈকতের বালু সরে হারিয়ে যেতে বসেছে। ধীরে ধীরে সাগরের পেটে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নারকেল বাগান। প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য্যের সঙ্গে বনজপ্রেমী ফয়েজ মিয়া এ নারিকেল বাগানটি গড়ে তুলেন। ফলে কুয়াকাটা আরো বাড়তি সাজে সজ্জিত হয়। দর্শনার্থী ও পর্যটকদের কাছে এটি ছিল অন্যতম আকর্ষণ। দীর্ঘ সৈকতকে সারি সারি নারিকেল গাছগুলো বালু আকড়ে ধরে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সেই নারিকেল বাগান এখন সাগরে ঢেউয়ের তাণ্ডবে ধক্ষংস হয়ে যাচ্ছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রচণ্ড ঢেউয়ের দাপটে অব্যাহত বালুক্ষয়ে এ বাগানটি ধীরে ধীরে বিলীন হতে থাকে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে জোয়ারের পানি অস্বভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। ঢেউয়ের ঝাপটায় বালু ক্ষয়ে সৈকত ঘেঁষা এ বাগানটির চিত্র একেবারেই পাল্টে যায়। আগামী দুই-তিন বছরে মধ্যে এর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না। এক্ষেত্রে একটি গ্রোয়েন বাঁধ নির্মাণ করা হলে নারিকেল বাগানসহ সম্ভাবনাময় পর্যটন কেন্দ্র রক্ষা করা সম্ভব হবে বলে অভিজ্ঞমহল মনে করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃক্ষপ্রেমী ফয়েজ মিয়া ১৯৬০ সালে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষা ১৯৭ একর সরকারি জমি ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে বাগানটি করেছিলেন। তখন এটির নামকরণ করা হয় “ফার্মস অ্যান্ড ফার্মস”। এ বাগানটিতে শুধু নারিকেল গাছ নয়। পেয়ারা, কাজু বাদাম, লেবু, কূল, গর্জনসহ বিভিন্ন জাতের ফলদ ও ঔষুধি গাছ লাগানো হয়েছিল। নারিকেল গাছ পরিমাণে বেশি থাকায় এটি নারিকেল বাগান নামে পরিচিতি পায়। এদিকে বৃক্ষপ্রেমী ফয়েজ মিয়ার বাগানের অবশিষ্টাংশ সংরক্ষণ ও সমুদ্র পাড়ের বনাঞ্চল রক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ উদ্যোগের দাবি জানান পর্যটকসহ স্থানীয়রা। শধষধঢ়ধৎধ- ঢ়রপ(৫)–ঈড়পড়হঁঃ-ঞৎবব- শঁধশধঃধ–১২-০৭-২০১৫ ফয়েজ মিয়ার বাগানের বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার জানান, আমরা সমুদ্র পাড়ে বাস করি। ঝড় বন্যা আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। সাগর পাড়ে গাছপালা থাকায় বন্যার সময় বাতাসের চাপ কম লাগে। এ বাগানটিতে এক সময় প্রচুর গাছপালা ছিল। এখন তা সাগরে বিলীন হয়ে গেছে। বাগানটি সকাল সন্ধ্যা নানা জাতের পাখির কলরবে মুখোরিত থাকত। গহীন বনে প্রবেশ করতে বন্য হিংস্র প্রাণী ও অজগরের ভয় ছিল। জোছনা রাতে গাছে গাছে বানরের লাফালাফি, শেয়ালের ডাকাডাকি আর লুকোচুরি দৃশ্য এখন আর নেই। এসব অতীত হয়ে গেছে। কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি এএম মিজানুর রহমান বুলেট জানান, সাগরের অব্যাহত ভাঙনের কারণে ওইসব গাছগুলো একেবারেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এগুলো রক্ষার জন্য এখন পর্যন্ত কেউ উদ্যোগ নেয়নি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (কলাপাড়া) প্রকৌশলী মো.আবুল খায়ের জানান, বিচ পরিদর্শন করা হয়েছে। কুয়াকাটার বিচ রক্ষায় একটি ডিজাইন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে এক কিলোমিটার এরিয়ায় এ ডিজাইনের কাজ পরীক্ষামূলকভাবে করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

Leave a Reply