সর্বশেষ সংবাদ
সাদিক নৈপুন্যে টেনশনে হিরনপন্থীরা

সাদিক নৈপুন্যে টেনশনে হিরনপন্থীরা

হেলাল উদ্দিন : বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ধুমকেতুর মত আবির্ভূত হয়েছেন হাসানাত পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর বলতে গেলে অভিভাবক ও নেতৃত্ব শূন্য বরিশাল জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বৈঠা ধরেছে তিনি। শুধু আওয়ামী লীগ নয়, যুব, ছাত্র তথা অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলো তার বলিষ্ঠ ও যোগ্য নেতৃত্বে স্ব-মূলে সবর। এক কথায় বরিশাল ২০ দলের আদ্য প্রান্ত তার তারুণ্য নেতৃত্বে চাঙ্গা। তার বিষয়ে নেতা-কর্মীদের এক কথায় মূল্যায়ন এমন এক নেতার নেতৃত্বের প্রত্যাশায় ছিলেন তারা। এদিকে সাদেকের এই যোগ্য নেতৃত্বে মহা দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে মরহুম হিরন তথা জেবুন্নছা আফরোজ পন্থী নেতাকর্মীরা। শুধু নেতা-কর্মী নয়, মহানগরের কমিটি গঠন প্রশ্নে টেনশনে আছেন কমিটিতে শীর্ষপদ প্রত্যাশীরাও। বিশেষ করে সম্প্রতি নগরীর ৩০টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত ইফতারপার্টিতে নেতা-কর্মীসহ সর্বস্তরের জনস্রোত ও সফল আয়োজন দেখে পাহাড় সমান রাজনৈতিক টেনশন ভর করেছে হিরন ও জেবুনেচ্ছাপন্থী শিবিরে। এই টেনশনের মূল কারন গঠনের দ্বারপ্রান্তে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি। ২০১২ সালে সর্বশেষ গঠন হওয়া কমিটিতে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন শওকত হোসেন হিরন আর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন এ্যাড: আফজালুল করিম। হিরনের মৃত্যুর পর গত বছর থেকে সম্পাদক নির্ভর এক সদস্য বিশিষ্ট নি®প্রাণ কমিটিতে রুপ নেয় মহানগর আওয়ামী লীগের মত গুরুত্বপূর্ন এই কমিটি। হিরন গত হওয়ার পর তার হাতে গঠন করা ৩০টি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতারা কৃতজ্ঞতা ও সহমর্মিতার প্রশ্নে তার সহধর্মীনি ও বর্তমান সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজের নেতৃত্ব মেনে নেয়ার সিদ্ধান্তে এক ধরনের ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলো। তার প্রমানও দিয়েছিলেন তারা, সংসদ নির্বাচনে নিরলস শ্রম দিয়ে প্রথম বারেরমত রাজনীতির মাঠ বিচরণ করা জেবুন্নেছা আফরোজকে নির্বাচিত করার মাধ্যমে। কিন্তু যোগ্য নেতৃত্ব ও চাওয়া-পাওয়ার হিসাবে পরক্ষনেই প্রত্যাশার গড়মিল হতে শুরু করে নেতাকর্মীদের হিসাবের বহিতে। হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছিল তারা। ঠিক সেই মুহূর্তে আলোক বর্তিকা নিয়ে বরিশাল আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে প্রবেশ করেন সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ। যোগ্য ও ত্যাগী নেতৃত্বে বিমোহিত করেন জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের। পরিবর্তিত রাজনীতির অতীত ইতিহাসকে আরেকবার আলিঙ্গন করে সাদিক পানে নিজেদের সমর্পিত করে মহানগরের নেতারা। তবে সাদিক গন্তব্যে প্রথমে নেতাকর্মীদের এ যাত্রা ছিলো কারো গোপনে কারো প্রকাশ্যে। কিন্তু দিনে দিনে সাদিকের যোগ্য ও আতিথিয়েতা পরায়ন নেতৃত্বে রাজনীতির বাস্তব ভূবনের ডাকে সাড়া দেয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সমস্ত নেতারা। প্রকাশ্যে সাদিক টানে একত্রিত হয় তারা। যার প্রমান মহানগর আওয়ামী লীগের আয়োজনে সদ্য আয়োজন করা ইফতারপার্টি। ৩০টি ওয়ার্ডের নেতারা সাদিকের প্রতি তাদের সমর্থন ও ভালবাসার জানান দিতে আয়োজন করে ঐ ইফতার পার্টির। যাতে প্রধান অতিথি করা হয় সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহকে। ইফতার পার্টিতে যোগদান করা নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষেরা জানিয়েছে রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক মিলিয়ে বরিশালের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় ইফতারপার্টি। যাতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের সমাগম হয়েছিলো। তবে তারা আশ্চর্য্য প্রকাশ করে বলেন এত বড় আয়োজনে একটু অব্যবস্থাপনা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে অবাক হওয়ার কিছু ছিলো না। কিন্তু সেটা হয়নি। পুরোপুরি সফলভাবে শেষ হয়েছিলো ঐ অনুষ্ঠান যা সত্যিই অবিশ্বাস্য। তারা বলেন আমরা বিশ্বাস করি সাদিকের প্রতি সর্বস্তরের নেতা-কর্মীদের ভালবাসা ও তার নেতৃত্ব মেনে নেয়ার বাস্তব প্রতিফলন এই আয়োজন। কারন ভক্তি, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা থাকলেই কেবল সবকিছু সুন্দর সফল হয়ে ধরা দেয়। তারা বলেন ইফতার পার্টিতে নগরীর সমস্ত ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ তথা সহযোগী দলগুলোর নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন বলে দেয় তারা সাদিক আব্দুল্লাহর নেতৃত্ব আন্তরিক ভাবে গ্রহন করেছে। বরিশাল আওয়ামী লীগের বর্তমান ও ভবিষ্যত উজ্জ্বলতর নেতৃত্বের জন্য আমরা মহানগরের কমিটিতে গুরুত্বপূর্ন পদে সাদিক আব্দুল্লাহকে চাই। দলীয় নেত্রী নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা পূরন করবেন আশা করি। এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন সেরনিয়াবাত বলেন আমার ভাষায় সাদিক ভাই বরিশাল আওয়ামী লীগের জন্য আশীর্বাদ। দলের প্রয়োজনে তিনি নিজ দায়িত্বে দলের ভার নিয়ে যেভাবে আমাদের পাশে এসে দাড়িয়েছেন রাজনীতিতে তার প্রশংসা করার ভাষা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন নেতৃত্ব দেয়ার জন্য পদ নয় চাই যোগ্যতা। তবে নিন্দুকের মুখ বন্ধ করতে ও বরিশাল ২০ দলের স্বার্থে আমরা মহানগরের গুরুত্বপূর্ন পদে তাকে চাই। গতকাল অবশ্য স্থানীয় একটি পত্রিকায় দেয়া সাক্ষাৎকারে সাদিক আবদুল্লাহ বলেছিলেন ৩০টি ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীরা আমাকে মহানগরের সাধারণ সম্পাদক পদে দেখতে চায়। সব বিষয়ে জানতে চাইলে মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড: আফজালুল করিম বলেন, আমি দলের বর্তমান সম্পাদক অথচ মহানগর আওয়ামীলগের আয়োজনে যে ইফতার পার্টি করা হলো সে সম্পর্কে আমি কিছুই জানতাম না। যা হাস্যকর বটে। মহানগর আওয়ামীলীগ মানে আমি এবং ম্যাডাম জেবুন্নেছা। একটি গ্র“প মহানগরের রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ খুঁজছে। এটা দলের নেতাকর্মীদর একত্রিকরনের কোন লক্ষনতো নয়ই বরং এতে সৃষ্ট হতে পারে বিশৃঙ্খলতা। এ প্রচেষ্টাকে তিনি হীন মানসিতকার রাজনীতি বলে মন্তব্য করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন নেত্রী যতদিন চাইবে ততদিন আমি মহানগর আওয়ামীলীগের সম্পাদক পদে থাকব। মহানগরের ৩০টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের আয়োজন করা ঐ ইফতার পার্টি ও তাদের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক ভাবে টেনশনের কিছু নয় বলে জানান তিনি

Leave a Reply