সর্বশেষ সংবাদ

ভারতকে কাঁপিয়েই হারলো টাইগাররা

মাত্র এক রানে হেরে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর থেকে এক ম্যাচ হাতে রেখে বিদায় নিল সেমিফাইনালে উঠার স্বপ্ন দেখানো মাশরাফিবাহিনী। নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৬ রান সংগ্রহ করে। জবাবে, ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রানে থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঘুরে দাঁড়িয়ে আর সেমিফাইনালের আশা জিইয়ে রাখতে ভারতের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে (২৩ মার্চ) টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। বাংলাদেশ সময় রাত আটটায় শুরু হয় ম্যাচটি।

টিম ইন্ডিয়ার হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন ২১ ম্যাচ খেলা শিখর ধাওয়ান এবং ৫৮ ম্যাচ খেলা রোহিত শর্মা। তাসকিন না থাকায় টাইগারদের হয়ে বোলিং শুরু করেন দলপতি মাশরাফি। প্রথম ওভারে মাশরাফি ৫ রান দিলেও দ্বিতীয় ওভারে শুভাগত হোম দেন ৪ রান। আল আমিনের করা পরের ওভার থেকে ভারতীয় ওপেনাররা নেন আরও ৮ রান। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে আসেন মুস্তাফিজ, সে ওভারে খরচ হয় ৬ রান। পঞ্চম ওভারে সাকিব খরচ করেন আরও ৪ রান।

মুস্তাফিজের করা ষষ্ঠ ওভারে টিম ইন্ডিয়ার ওপেনাররা তুলে নেন ১৫ রান। তবে, ষষ্ঠ ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন রোহিত শর্মাকে। সাব্বিরের হাতে ধরা পড়ার আগে রোহিত এক চার ও এক ছক্কায় ১৬ বলে করেন ১৮ রান।

পাওয়ার প্লে’তে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় এক উইকেটে ৪২ রান।

মুস্তাফিজের পর ভারত শিবিরে আঘাত হানেন সাকিব। সপ্তম ওভারে সাকিব ফেরান শিখর ধাওয়ানকে। এলবির ফাঁদে পড়ে ভারতের এই ওপেনার আউট হওয়ার আগে করেন ২২ বলে ২৩ রান।

১০ ওভার শেষে ভারত দুই উইকেট হারিয়ে তোলে ৫৯ রান। ৮৪ বলে ভারতের দলীয় শতক আসে।

দলীয় ৪৫ রানের মাথায় রোহিত শর্মা ও শিখর ধাওয়ানকে ফিরিয়ে দিলেও বিরাট কোহলি আর সুরেশ রায়না জুটি গড়েন। এ জুটি থেকে আসে আরও ৫০ রান। ইনিংসের ১৪তম ওভারে শুভাগতের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে পরের বলেই বোল্ড হন কোহলি। কোনো বাউন্ডারি না পেলেও একটি মাত্র ছক্কায় ২৪ বলে ২৪ রান করেন কোহলি।

শুভাগত কোহলিকে ফিরিয়ে দেওয়ার পর ইনিংসের ১৬তম ওভারের প্রথম বলে ৩০ রান করা সুরেশ রায়নাকে ফিরিয়ে দেন আল আমিন। পরের বলেই ব্যাটে ঝড় তোলার ইঙ্গিত দেওয়া হারদিক পান্ডেকে ফেরান টাইগার এই পেসার। সাব্বিরের হাতে ধরা পড়ার আগে ২৩ বলে একটি চার আর দুটি ছক্কায় রায়না তার ইনিংসটি সাজান। সৌম্য সরকারের অসাধারণ ক্যাচে ফেরেন ৭ বলে ১৫ রান করা পান্ডে। তবে, হ্যাটট্রিক বঞ্চিত হন আল আমিন।

ইনিংসের ১৭তম ওভারে মাশরাফি বোলিং আক্রমণে আনেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। এসেই যুবরাজকে ফিরিয়ে দেন রিয়াদ। শেষ ওভারের প্রথম বলেই জাদেজার স্ট্যাম্প ভেঙে দেন মুস্তাফিজ। বোল্ড হওয়ার আগে ১২ রান করে বিদায় নেন জাদেজা।

টাইগারদের হয়ে ৪ ওভারে মাশরাফি দেন ২২ রান। আল আমিন ৪ ওভারে ৩৭ রান দিয়ে তুলে নেন দুটি উইকেট। সাকিব ৪ ওভারে একটি উইকেট তুলে নেন ২৩ রান খরচায়। এক ওভার বল করে রিয়াদ ৪ রানের বিনিময়ে নেন একটি উইকেট। ৩ ওভার বল করে শুভাগত ২৪ রান খরচ করে দখল করেন একটি উইকেট। মুস্তাফিজ ৪ ওভারে ৩৪ রান দিয়ে নেন আরও দুটি উইকেট।

১৪৭ রানের টার্গেটে টাইগারদের হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন ৫১ ম্যাচ খেলা তামিম ইকবাল ও ১১ ম্যাচ খেলা মোহাম্মদ মিঠুন। আশিষ নেহারার প্রথম বলেই ফাইনলেগ দিয়ে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে টাইগারদের ইনিংস শুরু করেন তামিম। তবে, ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত ওপেনার মিঠুনকে হারায় লাল-সবুজরা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে অশ্বিনের বল তুলে মারতে গিয়ে বাউন্ডারি লাইনে পান্ডের হাতে ধরা পড়েন এক রান করা মিঠুন।

পাওয়ার প্লে থেকে ভারত সংগ্রহ করে ৪২ রান। বাংলাদেশ দারুণ জবাব দিয়ে পাওয়ার প্লে’তে তুলে নেয় ৪৫ রান।

দলীয় ১১ রানের মাথায় ওপেনার মিঠুনকে হারিয়ে বড় জুটি গড়ার লক্ষ্যে ব্যাট করতে থাকেন তামিম-সাব্বির। তারা আরও ৪৪ রান যোগ করেন স্কোরবোর্ডে। ইনিংসের অষ্টম ওভারে জাদেজার বলে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন তামিম। তবে আউট হওয়ার আগে ভারতীয়দের বুকে কাঁপন ধরিয়ে ৩২ বলে ৫টি চারের সাহায্যে ৩৫ রান করেন ড্যাশিং এই ওপেনার।

দুই ওপেনার তামিম ও মিঠুন ফিরে গেলেও টাইগারদের রানের চাকা ঘোরাতে থাকেন সাকিব-সাব্বির। ইনিংসের দশম ওভারে রায়নার বলে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়েন সাব্বির। ১৫ বলে তিনটি চার আর একটি ছক্কায় এশিয়া কাপের সেরা এই ব্যাটসম্যান করেন ২৬ রান। সাব্বিরের বিদায়ে ব্যাট হাতে আসেন দলপতি মাশরাফি। তবে, একটি ছক্কা হাঁকানো ম্যাশ ইনিংসের ১২তম ওভারে জাদেজার বলে বোল্ড হন।

১৩তম ওভারে রায়নার হাতে ধরা পড়েন সাকিব। ১৫ বলে দুই ছক্কায় ২২ রান করে অশ্বিনের বলে বিদায় নেন সাকিব।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে বিদায় নেন সৌম্য সরকার। তবে আউট হওয়ার আগে তিনি ২১ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় করেন ২১ রান।

শেষ ওভারে টাইগারদের দরকার ছিল ১১ রান। পান্ডের সেই ওভারে প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন মাহমুদুল্লাহ। পরের বলেই চার মেরে দেন মুশফিক। তৃতীয় বলেও চার হাঁকান মুশফিক। তবে, চতুর্থ বলে ধাওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরেন ৬ বলে ১১ রান করা মুশফিক। পঞ্চম বলে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ২২ বলে ১৮ রান করে জাদেজার হাতে ধরা পড়েন। শেষ বলে প্রয়োজন হয় দুই রানের। শুভাগত হোম শেষ বলটিতে লাইন মিস করলে অপর প্রান্ত থেকে দৌড়ে আসেন মুস্তাফিজ। তবে, ধোনির হাতে সরাসরি বল চলে যাওয়ায় রান আউট হন মুস্তাফিজ।

Leave a Reply