সর্বশেষ সংবাদ
মহিয়সী নারী আমেনা বেগম

মহিয়সী নারী আমেনা বেগম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের সহ্পাঠি ,বরিশালের কৃতী সন্তান, আব্দুর রব সেরনিয়াবাতের সহধর্মীনি শেখ আমেনা বেগম তদানীন্তন ভারতীয় উপমহাদেশের বঙ্গ প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার পাটগাতি ইউনিয়নের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।। তার বাবা শেখ লুৎফর রহমান গোপালগঞ্জ দায়রা আদালতের সেরেস্তাদার ছিলেন এবং মা’র নাম সায়েরা খাতুন। চার কন্যা এবং দুই পুত্রের সংসারে তিনি ছিলেন ৪র্থ সন্তান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাএীতে বড় ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ও তার পরিবারবর্গ সহ তার জীবন সঙ্গী বঙ্গবন্ধু র ঘনিস্ঠ সহচর তার স্বামী আ:রব সেরনিয়াবাত, বড় মেয়ে বেগম আরজু, মেয়ে জামাতা শেখ ফজলুল হক মনি,কনিস্ঠ কন্যা বেবী সেরনিয়াবাত,কনিষ্ঠ পুএ আরিফ সেরনিয়াবাত ও নাতী সুকান্ত আবদুল্লাহকে হারিয়ে হয়েছিলেন বিধবা, সন্তানহারা, নি;স্ব আর বুকে বেধেছিলেন শোকের পাথর।আজ ২৪শে মার্চ। ২০০৬ সালের এইদিনে আমরা হারিয়েছিলাম তাকে। কোমলে কঠোরে মিশ্রিত সেরনিয়াবাত পত্নী শেখ আমেনা বেগম ছিলেন এক দৃঢ়প্রতিজ্ঞ সাহসী নারী । অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তা, অসীম ধৈর্য ও সাহস নিয়ে মোকাবেলা করেছেন ৭৫ পরবর্তী দিনগুলো।পরিবারের সবাইকে হারিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হসিনা(বর্তমান প্রধানমন্ত্রী), শেখ রেহানা আর নিজের সন্তান আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর যখন দিশেহারা তখন তাদের নিকট একমাত্র আশা ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেন এই শেখ আমেনা। শেষ দিন পর্যন্ত পবিবারের সবার প্রতি ছিল সমদৃষ্টি। আ:রব সেরনিয়াবাতের জীবনের কিছু সময় কারান্তরালে কাটিয়েছেন । তাঁর অবর্তমানে একজন সাধারণ গৃহবধূ হয়েও মামলা পরিচালনা, দলকে সংগঠিত করতে সহায়তা করা, আন্দোলন পরিচালনায় পরামর্শ দেয়াসহ প্রতিটি কাজে তিনি অত্যন্ত দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। আন্দোলনের সময়ও প্রতিটি ঘটনা জেলখানায় সাক্ষাৎকারের সময় আ:রব সেরনিয়াবাতকে জানাতেন। কারাগার থেকে আ:রব সেরনিয়াবাতের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও নির্দেশ নিয়ে আসতেন, নেতা কর্মীদের সে নির্দেশ জানাতেন। অন্যদিকে কারাগারে সাক্ষাত করে আ:রব সেরনিয়াবাতের মনোবল দৃঢ় রাখতেন।আ:রব সেরনিয়াবাতের অবর্তমানে সংসার, সন্তান অবলম্বন করে ওই বিপদ সঙ্কুল দিনগুলোতে আমের বেগম কেমন করে কালাতিপাত করেছেন ভাবলে বিস্মিত হতে হয়।এই মহিয়সী নারী তার স্নেহ, মায়ামমতা, দরদ দিয়ে আজও অমর হয়ে আছেন বরিশাল তথা দক্ষিনাঞ্চলের রাজনৈতিক,স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের নিকট।আজ এই দিনে আমরা তাকে অকৃত্রিম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।

রেজাউল করিম স্যার
সম্পাদক, তারুন্যের প্রদীপ

Leave a Reply