সর্বশেষ সংবাদ
আওয়ামী লীগের কলঙ্কমোচন!

আওয়ামী লীগের কলঙ্কমোচন!

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এইচ এন আশিকুর রহমানের নির্বাচনী এলাকা রংপুরের মিঠাপুকুরে জামায়াতের প্রার্থীদের হারিয়ে সাত ইউনিয়নেই বিজয়ী হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। গত উপজেলা নির্বাচনে মিঠাপুকুরে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদগুলো বিপুল ভোটে লাভ করে জামায়াত।

জামায়াতের কাছে ক্ষমতাসীন দলের ভোটযুদ্ধে হেরে যাওয়ায় নানা মুখরোচক আলোচনার জন্ম হয়। ইউপি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল সেই কলঙ্কমোচন করল বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় আওয়ামী ঘরানার ভোটাররা বলছেন, জামায়াতের কাছে ভোটে হেরে যাওয়া একটা লজ্জাজনক ব্যাপার ছিল আওয়ামী লীগের জন্য। তার অনেকটা কলঙ্কমোচন হলো। তারা আশা করছেন, আগামী ৭ মে যে ১০টি ইউপিতে নির্বাচন হবে, সেগুলোর সব কটি আওয়ামী লীগের দখলে আসবে।

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মিঠাপুকুর উপজেলায় অনুষ্ঠিত সাতটি ইউপি নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ হয়েছে ৭৯ ভাগ। এর মধ্যে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা পেয়েছেন ৫১ ভাগ ভোট। অর্থাৎ ১ লাখ ৯১ হাজার ৯৮০ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৯৯ জন ভোটার তাদের ভোট প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৭ প্রার্থী পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৯৯৪ ভোট। জাতীয় পার্টি পেয়েছে ৩১ হাজার ৬৮৩ ভোট, অর্থাৎ শতকরা ২০ ভাগ। বিএনপি পেয়েছে ৪ হাজার ৮১২ ভোট। এখানে বিএনপি-জামায়াতের প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।

তবে বিএনপি, জামায়াত ও জাপার প্রার্থীদের অভিযোগ, ভোট সুষ্ঠু হয়নি। কেন্দ্র দখল, কারচুপিসহ নানা অনিয়ম হয়েছে নির্বাচনে। ভোটে ডিজিটাল ডাকাতি হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাত ইউনিয়নে বিএনপির এই করুণ দশার কারণ দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক তৎপরতা না থাকা, মামলা-হামলা এবং গ্রেপ্তারের ভয়ে অনেকেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন।

এদিকে উপজেলা নির্বাচনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজীয় হওয়া জামায়াত ছিল কোণঠাসা।

স্থানীয় জামায়াতের অভিযোগ, দলের যারাই ভোটের মাঠে নেমেছেন, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ফলে নেতাকর্মীরা কাজ করতে পারেননি।

তবে মিঠাপুকুর থানার ওসি হুমায়ুন কবীর জামায়াতকে হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের নামে মামলা হয়েছে তাদেরই শুধু গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অহেতুক কাউকে হয়রানি করা হয়নি বা হচ্ছে না।

রংপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোতাহার হোসেন মওলা দাবি করেন, সরকার ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে মিঠাপুকুরের সাতটি ইউপিতেই বিজয়ী হয়েছেন তারা। সামনের নির্বাচনগুলোতে বিপুল ভোটে জয়লাভ করবেন।

বিএনপির নেতা এ কে এম রুহুল্লা ভোট কারচুপির অভিযোগ করে বলেন, “ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতাসীন দল বিজয়ী হয়েছে। এখানে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতি ছাড়া কোনোভাবেই জয়ের আশা করতে পারে না। জয়ের প্রশ্নই ওঠে না।”

জাতীয় পার্টির নেতা হাফিজুর রহমান দাবি করেন, ভোট সুষ্ঠু হলে তাদের সব প্রার্থীই বিপুল ভোটে বিজয়ী হতেন। সুষ্ঠু ভোট গ্রহণ এবং ভোট কারচুপি বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

Leave a Reply