সর্বশেষ সংবাদ
পিনাট বাটার নাকি আমন্ড বাটার, কোনটা বেশি ভালো?

পিনাট বাটার নাকি আমন্ড বাটার, কোনটা বেশি ভালো?

যখন নাট বাটার এর কথা আসে তখন পিনাট বাটার এর জনপ্রিয়তাকে কেউ হারাতে পারবেনা। যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ শতাংশ রান্না ঘরের ক্যাবিনেটে চিনাবাদামের স্টক থাকে। পিনাট বাটার স্বাস্থ্যকর একটি খাবার। কিন্তু আমন্ড বাটার পিনাট বাটারের চাইতেও বেশি পুষ্টিকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। এর কারণগুলো জেনে নিই চলুন।

১। হৃদস্বাস্থ্যের জন্য উপকারি ফ্যাট সমৃদ্ধ

আমন্ড বাটার ও পিনাট বাটার উভয়েই হৃদপিণ্ডের জন্য উপকারি মনোস্যাচুরেটেডফ্যাটের ভালো উৎস। ১ টেবিলচামচ আমন্ড বাটারে ৫ গ্রাম এবং ১ টেবিলচামচ পিনাট বাটারে ৩.৩ গ্রাম মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে। আমেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের মতে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট সমৃদ্ধ খাবার রক্তের কোলেস্টেরলের লেভেল কমাতে সাহায্য করে। হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট।

২। ফাইবারের চমৎকার উৎস

মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটের মতই কাঠবাদামের মাখনে ফাইবারের পরিমাণ চিনাবাদামের মাখনের চেয়ে বেশি থাকে। ১ টেবিলচামচ আমন্ড বাটারে ১.৬গ্রাম ফাইবার থাকে অন্যদিকে ১ টেবিলচামচ পিনাট বাটারে থাকে ০.৯গ্রাম। বয়স ও লিঙ্গভেদে দৈনিক একজন মানুষের ২১-৩৮ গ্রাম ফাইবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। ক্রনিক ডিজিজ যেমন- হার্ট ডিজিজের ঝুঁকি কমায় এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতেও সাহায্য করে ফাইবার।

৩। ভিটামিন ই এর উল্লেখযোগ্য উৎস

পিনাট বাটারের চেয়ে চারগুন বেশি ভিটামিন ই থাকে আমন্ড বাটারে। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদানের জন্য ভিটামিন ই ফ্যাট দ্রবণীয় ভিটামিন হিসেবে পরিচিত। ফ্রি র‍্যাডিকেলের অনু থেকে কোষকে সুরক্ষা প্রদান করে ভিটামিন ই। ফ্রি র‍্যাডিকেলের অনু হার্ট ডিজিজ ও ক্যান্সার সৃষ্টিতে সাহায্য করে। কোষের সুরক্ষা ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য ও গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ই।

৪। খনিজ উল্লেখযোগ্য উৎস

শরীরের সার্বিক কাজ ঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার জন্য খনিজ অত্যাবশ্যকীয় পুষ্টি উপাদান। ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম ও জিংক হচ্ছে অত্যাবশ্যকীয় খনিজ উপাদান। পিনাট বাটারের চেয়ে আমন্ড বাটারে খনিজের পরিমাণ বেশি থাকে। ক্যালসিয়াম হাড়কে সুস্থ রাখে। শরীরে অক্সিজেন পরিবহনের জন্য আয়রন প্রয়োজন। মাংসপেশীতে তরলের ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য পটাসিয়াম গুরুত্বপূর্ণ। জিংক ইমিউন সিস্টেমকে সহযোগিতা করে, দুর্বলতা প্রতিরোধ করে এবং ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করে।

সেন্ট্রাল আমেরিকার রেডল্যান্ড এর ওয়েলনেস এর প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন ক্যাম্পবেল এর মতে, “প্রোটিন, চর্বি ও ক্যালরির নিরিখে উভয়েই অভিন্ন জমজ”। তিনি আরো বলেন, “এদের সবচেয়ে বড় পার্থক্য হয় এদের মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট উপাদানের মধ্যে”। পিনাট বাটারে দৈনিক চাহিদার ১৪% বি৬ থাকে এবং নায়াসিন থাকে ২২%। অন্যদিকে আমন্ড বাটারে থাকে ২% ও ৫%। যদিও আমন্ড বাটারে পিনাট বাটারের চেয়ে দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থাৎ ম্যাগনেসিয়াম থাকে ২৮% এবং আয়রন থাকে ১৫%। তিনগুন বেশি অ্যান্টিওক্সিডেন্ট ভিটামিন ই(২৮%)থাকে, চারগুন বেশ ক্যালসিয়াম থাকে এবং ছয়গুন বেশি রিবোফ্লাভিন থাকে।

পিনাট বাটার ও আমন্ড বাটার উভয়েই পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার। তুলনা করতে গেলে একজনকে বিজয়ী ঘোষণা করতেই হয়। আর তাই এই উভয় মাখনের মধ্যে আমন্ড বাটারই বিজয়ী।

Leave a Reply