সর্বশেষ সংবাদ
<span class="entry-title-primary">মীর কাশেমের শেষ পরিণতি জানার প্রতীক্ষা</span> <span class="entry-subtitle">বরিশাল ওয়াচ ২৪ </span>

মীর কাশেমের শেষ পরিণতি জানার প্রতীক্ষা বরিশাল ওয়াচ ২৪

চট্টগ্রামের কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম উদ্দিন আহমেদকে নির্যাতনের পর খুনের দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানোর রায় বহাল রেখেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। রিভিউ আবেদনেও যাতে সেই সর্বোচ্চ শাস্তি বহাল থাকে, এই প্রত্যাশা করছেন জসিমের স্বজনরা।

মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বে গঠিত আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ মীর কাসেম আলীর চূড়ান্ত রায় পুর্নবিবেচনার (রিভিউ) আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেবেন।

একাত্তরে মীর কাসেমের নির্দেশেই চট্টগ্রাম টেলিগ্রাফ অফিস সংলগ্ন এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের শ্রী রঞ্জন নাথের মালিকানাধীন মহামায়া ভবন দখল করে নাম দেওয়া হয় ডালিম হোটেল। সেখানে গড়ে তোলা হয় বদর বাহিনী চট্টগ্রাম অঞ্চলের ঘাঁটি এবং বন্দিশিবির। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে জসিমকে অপহরণের পর এই ডালিম হোটেলে নিয়েই নির্যাতন ও হত্যা করা হয়।

জসিম উদ্দিনের মামাত বোন হাসিনা খাতুন ট্রাইব্যুনালে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল মীর কাসেমকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিলেন যা গত ৮ মার্চ আপিল বিভাগের রায়েও বহাল থাকে।

হাসিনা খাতুন টেলিফোনে  বলেন, আমি ভাই হারিয়েছি, স্বজন হারিয়েছি। দেশের জন্য আমি ভাইকে বিসর্জন দিয়েছি। সেটা বড় কথা নয়। মীর কাসেম, যে ব্যক্তি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে, সর্বোচ্চ শাস্তির মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র যাতে সুবিচার পায় আমি সেই প্রত্যাশা করছি। আমি গভীর আগ্রহ নিয়ে রায় শোনার অপেক্ষায় আছি।

একাত্তরে মীর কাসেমের আলবদর বাহিনীর হাতে নির্যাতিত জয় বাংলা বাহিনীর উপ-প্রধান মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর চৌধুরীও ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। তার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ট্রাইব্যুনাল সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগেও বহাল থাকে।

জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, আপিল বিভাগে মীর কাসেমের ফাঁসি হয়েছিল। আমার আর কোন চাওয়া নেই। আমি চাই শুধু তার ফাঁসির আদেশ বহাল থাকুক।

‘মীর কাসেমের অঢেল টাকা আছে। বিচার বন্ধ করতে সে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছে। এসব শুনলে মনের ভেতর শংকা জাগে, মীর কাসেমের ফাঁসি হবে তো ! তবে আশার কথা হচ্ছে দেশ বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার হাতে। তিনি প্রধানমন্ত্রী বলেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে।’ বলেন জাহাঙ্গীর চৌধুরী।

দুটি হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হাজারি লেইনের মৃদুল দে ক্ষুব্ধ কন্ঠে  বলেন, মীর কাসেম তো মানুষ নয়, সে একটা আস্ত জল্লাদ। সে একাত্তরে যে অপরাধ করেছে তাতে তার একবার নয়, ১৪বার ফাঁসি হওয়া উচিৎ। ফাঁসি ছাড়া তার আর উপযুক্ত কোন শাস্তি হতে পারেনা।

হাজারি লেইনের বাসিন্দা টুনটু সেন ও রঞ্জিত দাশকে অপহরণের পর নির্মমভাবে থুনের ঘটনায় মৃদুল দে ট্রাইব্যুনালে গিয়ে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। ট্রাইব্যুনাল ওই অভিযোগে মীর কাসেমকে ফাঁসি দিলেও পরবর্তীতে আপিলে খালাস দেওয়া হয়।

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরীকে অপহরণের পর নির্যাতনের দায়ে ট্রাইব্যুনাল ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন যা পরবর্তীতে আপিল বিভাগও বহাল রেখেছিল।

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেয়া নাসিরুদ্দিন চৌধুরী  বলেন, একাত্তরের অপরাধের জন্য ট্রাইব্যুনাল এবং পরবর্তীতে আপিল বিভাগ যে চরম দণ্ড দিয়েছেন সেটা যেন বহাল থাকে সেই প্রত্যাশা করছি। সুবিচারের আশায় আমরা প্রধান বিচারপতির দিকে তাকিয়ে আছি।

একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ১৭ জুন মতিঝিলে দৈনিক নয়াদিগন্ত কার্যালয় থেকে মীর কাসেমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরের বছর ৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যুদ্ধাপরাধের বিচার।

২০১৪ সালের ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমসহ মোট আটজনকে হত্যার দায়ে মীর কাসেমের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ এসেছিল। ২০১৬ সালের ৮ মার্চ আপিল বিভাগ জসিমকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। এছাড়া আরও বিভিন্ন অভিযোগে পৃথকভাবে মোট ৫৮ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

Leave a Reply