সর্বশেষ সংবাদ
ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বিয়ে করতে চাইলে সাইপ্রাসে যান

ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া বিয়ে করতে চাইলে সাইপ্রাসে যান

 প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তিন হাজারের মতো দম্পতি সাইপ্রাসে যায় বিয়ের জন্য। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা বাদে নাগরিক আচার অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে কেউ যদি সহজে বিয়ে করতে চান, বলা হয় তার জন্যে সাইপ্রাসই সবচেয়ে উৎকৃষ্ট জায়গা।

লেবাননে এরকম প্রেমকাহিনি প্রচুর। সে দেশে ধর্মীয়ভাবেই ১৮টি গোষ্ঠী রয়েছে। প্রেমিক-প্রেমিকা কেউই তাদের বাবা-মায়ের ধর্ম ছাড়তে চান না আবার তারা বিয়েও করতে চান ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই।

লেবাননে সিভিল ম্যারেজের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই সাইপ্রাসে আসেন। প্রচুর সংখ্যায় বিদেশি সাইপ্রাসে আসেন শুধু বিয়ে করার জন্যে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকেই বছরে তিন হাজারের মতো জুটি বিয়ের জন্য সেখানে আসেন। এদের মধ্যে বেশিরভাগই লেবানন ও ইসরায়েলের নাগরিক। তারা মনে করেন এখানে বিয়ে করা অনেক সহজ ও সস্তা। সবচেয়ে বড়ো কথা এই বিয়ে নিজেদের দেশে আইনিভাবেও বৈধ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট।

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে সিভিল ম্যারেজকে বৈধ করার জন্যে চেষ্টা চালানো হয়েছিলো কিন্তু ধর্মীয় নেতারা তাদের রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে সেগুলো নস্যাৎ করে দিয়েছেন।

কোনো কোনো দেশে মুসলিম অথবা শরিয়া আইনে বিয়ে হয়। অন্যান্যদের জন্যে আছে অটোমানের সময় বেঁধে দেয়া নিয়ম কানুন। এর ফলে বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠী তাদের নিজেদের মতো করে আদালত চালাতে ও পারিবারিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন। ফলে ইমাম, যাজক ও র‌্যাবাইরা বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করেন। তাদের মতে সৃষ্টিকর্তাই এসব নিয়ন্ত্রণ করেন।

ইসরায়েলি এক দম্পতি সাইপ্রাসে এসেছিলো বিয়ে করতে। কারণ সেক্যুলার এবং সিভিল ম্যারেজকেই তারা অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ইসরায়েলে শুধু ধর্মীয়ভাবেই বিয়ে হতে পারে। যারা এভাবে বিয়ে করতে চান না, তাদের সেখানে বিয়ে করার উপায় নেই বলছিলেন বর রাজ।

নবদম্পতিরা বলছিলেন, তাদের সন্তানদেরও হয়তো শুধু বিয়ের জন্য বিদেশে চলে যেতে হবে। তবে, এর ফলে যে সাইপ্রাস অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছে সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। একই সাথে এই দেশটি পরিচিত হয়ে উঠছে ‘প্রেমের এক দ্বীপ’ হিসেবে।
সূত্র : বিবিসি

Leave a Reply