সর্বশেষ সংবাদ
সন্ধ্যা জুড়ে আহাজারী

সন্ধ্যা জুড়ে আহাজারী

জসিম জিয়া ॥ বরিশালের বানারীপাড়ার দাসেরহাট সংলগ্ন সন্ধ্যা নদীতে যাত্রীসহ ডুবে যাওয়া এমএল ঐশী প্লাস লঞ্চটি প্রায় ২১ ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। এদের মধ্যে ২৩ জনের লাশ সন্ধ্যা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। সাঁতরে তীরে উঠতে পারা এক যাত্রীকে হাসপাতালে নেয়ার পর মারা যায়। সবমিলিয়ে ঐশি ট্র্যাজিডির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা হলো ২৪ জন।নিহতদের স্বজনদের কান্নায় সন্ধ্যার তীরে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

বানারীপাড়া থানার ওসি জিয়াউল আহসান এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে শিশু ৬জন, নারী ৮ জন এবং ১০জন পুরুষ। পুলিশের হিসেবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে ২জন। ২৮ জনের প্রাথমিক নিখোঁজ তালিকা থাকলেও তাদের মধ্য থেকে দুইজন বাড়ি ফিরে গেছে এবং ভুলভাবে তাদের নাম এই তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছিলা বলে জানিয়েছেন বানারীপাড়া থানার ওসি। নিহতের স্বজনদের কান্নায় সন্ধ্যা নদীর পানি যেন একাকার হয়ে গেছে। শুধু স্বজনরা কাঁদছে না লাশের ভারে কাঁদছে সন্ধ্যা নদীও।

কারো কাছে কোন শান্তনার ভাষা নেই।নিহতদের মধ্যে ২৩ জনের নাম জানাতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। অজ্ঞাত এক মহিলার নাম পরিচয় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (রাত ১২ টা পর্যন্ত ) জানাতে পারেননি তারা।

নিহতরা হলেন : মোজাম্মেল মোল্লা (৬২), পূর্ব সৈয়দকাঠীর রাবেয়া বেগম (৪৫), সাতবাড়ীয়ার সাগর মীর (১৩), স্বরুপকাঠীর হিরা বেগম (২৫), উজিরপুর উপজেলার হারতা গ্রামের সুখদেব মল্লিক (৩৫), মসজিদ বাড়ীর রহিমা বেগম(৫৫), মীরাকাঠীর মিলন ঘরামী (৩২), একই এলাকার মনোয়ারা (৪৫), ফাতোয়ান (৫), খুকুমনি (২৫), রেহানা বেগম (৩৫), কেশবকাঠীর আব্দুর রাজ্জাক (৬৮), সাতবাড়ীয়ার নাসির (৯), রিয়াদ (৬), মসজিদ বাড়ীর রুহুল আমিন (২৫)। রুহুল আমিন নেছারাবাদ ফায়াস সার্ভিস স্টেশনে ফায়ারম্যান পদে কর্মরত ছিলেন। আব্দুল মজিদ (৬০), উজিরপুর নয়াকান্দী এলাকার জয়নাল হাওলাদার (৫৫), সাতবাড়ীয়ার দিদার (৮), রাব্বি (৯), সাফিয়া (৪), দুই বছরের শিশু মাইশা, নাদীরা (১০), আল্পনা (২৫) এবং ২৮ বছরের এক অজ্ঞাত মহিলা।

উল্লেখ্য গত বুধবার বেলা পৌনে ১২টায় বানারীপাড়া থেকে হাবিবপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ঐশী-২ লঞ্চটি দাসেরহাট ভাঙ্গনকবলিত এলাকায় ঘাট দেয়। সিড়ি দিয়ে যাত্রী ওঠানোর পূর্বে নদী পাড়ের বিশাল একটি মাটির অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে সেখানে ঘূর্নিয়মান স্রোতের সৃষ্টি হলে লঞ্চটি কাঁত হয়ে ডুবে যায়। ৬ যাত্রী সাতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও এদের মধ্যে একজন মারা যান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

Leave a Reply