সর্বশেষ সংবাদ
আজ প্রলয়ংকরী সিডরের ৯ বছর

আজ প্রলয়ংকরী সিডরের ৯ বছর

আজ ১৫ নভেম্বর। প্রলয়ংকরী ঝড় সিডর ২০০৭ সালের এই দিনে উপকূলীয় বিভিন্ন জেলায় আঘাত হানে। সরকারি হিসাবমতে, তখন ৩ হাজার ৩৪৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। এর মধ্যে বরগুনায় সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৩৬৫ জনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা আজও সেদিনের কথা স্মরণ করে আঁতকে ওঠেন।
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কূপদোন গ্রামের আশরাফ আলী নামের এক ভুক্তভোগী  বলেন, ‘হেই যে ভয় পাইছি, এহন এট্টু বাতাস ছোডলেই ডরে কইলজা কাঁপে। ধারেকাছে এমন কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নাই যেহানে আচুক্কা বইন্যা আইলে মোরা আশ্রয় লমু।’
দক্ষিণ কূপদোন গ্রামের আশরাফ আলী বলেন, ‘বাতাস আর জোয়ারের চোট দেইখ্যা মনে অইছিল এই বুঝি কেয়ামত আইছে। উডান তলাইয়া পানি ঘরের খাডালে (মেঝে) আইছে, যে যেই দিক পারছে নাইম্মা দৌড় দেছে। আমি বুড়া মানুষ কই যামু! কোম্মে উডমু যাইয়া? চাইর দিক খালি পানি আর পানি। পানির তোড়ে ভাসাইয়্যা লইয়্যা যাওনের সময় একটা গাছ ধরছি। হারা রাইত গাছটারে ধইর্যাড় রইছি। বেয়ানে (সকালে) সবাই আইয়্যা মোরে গাছ দিয়া নামাইছে।’
কূপদোন এলাকায় বিষখালী নদীর তীর ঘেঁষে প্রায় আড়াই হাজার পরিবারের সাত হাজার মানুষের বাস। গ্রামটির পূর্ব দিকে বিষখালী নদী আর প্রায় দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নেই।
শুধু পাথরঘাটা উপজেলা নয়, গোটা বরগুনা জেলায় বেশ কিছু এলাকায় জনসংখ্যার তুলনায় আশ্রয়কেন্দ্র অপর্যাপ্ত। চারদিকে বলেশ্বর, বিষখালী, বুড়িশ্বর (স্থানীয় নাম পায়রা) চারটি নদী ঘিরে আছে এই জেলা।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় নতুন-পুরোনো মিলিয়ে আশ্রয়কেন্দ্র আছে ৩৭৭টি। প্রতিটি আশ্রয়কেন্দ্রে সর্বোচ্চ ঠাঁই হয় ৪০০ জনের। এ জেলার লোকসংখ্যা অন্তত ১২ লাখ। আশ্রয়কেন্দ্রে গাদাগাদি করে জায়গা হয় মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার ৮০০ জনের।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের সিডরের আঘাতে এ জেলার অন্তত ৬৮ হাজার ৩৭৯টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ে।
জেলা প্রশাসক মুহা. বশিরুল আলম বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে এ জেলায় আরও ৪০০ নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আশা করি, ঝুঁকির দিক বিবেচনা করে এখানে সরকার নতুন আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে পদক্ষেপ নেবে।’
এদিকে সিডরের আঘাতে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় ১৮ জন ও আগৈলঝাড়ায় ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছিল। আগৈলঝাড়া উপজেলার প্রত্যন্ত রামানন্দেরআঁক গ্রামের মমতা বাড়ৈ (২৪) বলেন, সেই রাতে স্বামী-সন্তান নিয়ে তাঁদের কুটিরে ঘুমিয়ে ছিলেন। সিডরের আঘাতে মাঝরাতে বিশাল একটি গাছ এসে পড়ে কুটিরে। এতে চাপা পড়ে তাঁর স্বামী দিনমজুর সুনীল বাড়ৈয়ের (২৮) মৃত্যু হয়।
সিডরের আঘাতে গৌরনদী উপজেলার পশ্চিম চাঁদশী গ্রামের গৃহবধূ ছালমাদের কুটির মুহূর্তে লন্ডভন্ড হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি ছেলেসন্তান প্রসব করেন। স্থানীয় ব্যক্তিরা শিশুটিকে ডাকেন তুফান বলে। ছালমা বলেন, ভয়াবহ সেই রাতের কথা মনে হলে আজও তাঁর অাত্মা কেঁপে ওঠে।

Leave a Reply