সর্বশেষ সংবাদ
নগরী এখন মাদকের অভয়ারণ্য ৯ মাসে  ৪শ ৫১ টি মাদক সংক্রান্ত অপরাধ

নগরী এখন মাদকের অভয়ারণ্য ৯ মাসে ৪শ ৫১ টি মাদক সংক্রান্ত অপরাধ

ফাহিম ফিরোজ ॥ বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) এলাকার ৪ টি থানার মধ্যে মাদকের স্বর্গ রাজ্য হিসেবে কোতয়ালী মডেল থানার নামটি প্রথমে আসে। কিন্তু বাকী তিনটি থানায় মাদকের ব্যাবসা কিংবা ব্যাবহার কোন অংশে কম হয় না। তার পরেও কেন বার বার আইন শৃঙ্খলার তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে থাকে কোতয়ালী মডেল থানা। জানা গেছে, মাদক দ্রব্য সংক্রান্ত যতগুলো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে তার মধ্যে ৯০ ভাগ কোতয়ালী মডেল থানায় সংগঠিত হয়। আর মাদক শূণ্য থানায় পরিনত হয়েছে বাকী তিন থানা। সূত্র মতে, গত ৯ মাসে বরিশাল মেট্রোপলিটন (বিএমপি) এলাকার ৪ টি থানায় মোট ৪শ ৫১ টি মাদক সংক্রান্ত অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কোতয়ালী মডেল থানায় গত ৯ মাসে ৩শ ৩ টি মাদক সংক্রান্ত অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। বাকী ১শ ৪৮ টি অপরাধ ওই তিন থানায় সংগঠিত হয়েছে। প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে তাহলে কি ওই তিন থানার আইন শৃঙ্খলা বাহীনি অপরাধ দমনে ব্যার্থ। নাকি জনবলের অভাবে তারা অপরাধ দমন করতে পারছে না। এমনটাই মনে করছেন নগরীর সুশিলসমাজ। পরিসংখ্যান মতে, জানুয়ারী মাসে কোতয়ালী মডেল থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ৪৫ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ২৬ টি। জানুয়ারী মাসে বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ১২ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ১ টি। জানুয়ারী মাসে কাউনিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ১৪ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ৯ টি। জানুয়ারী মাসে বিমান বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ২১ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ৪ টি। ফেব্রুয়ারী মাসে কোতয়ালী মডেল থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ৪৭ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ২৩ টি। ফেব্রুয়ারী মাসে বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ৮ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ১ টি। ফেব্রুয়ারী মাসে কাউনিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ২০ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য নাই। ফেব্রুয়ারী মাসে বিমান বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ২১ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য ৪টি। মার্চ মাসে কোতয়ালী মডেল থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ৫৬ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ২৭ টি। মার্চ মাসে বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ৪ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য নাই। মার্চ মাসে কাউনিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ১৭ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ৬ টি। মার্চ মাসে বিমান বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ১৪ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ১টি। এপ্রিল মাসে কোতয়ালী মডেল থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ৪৮ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ২৫ টি। এপ্রিল মাসে বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ১৩ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য নাই। এপ্রিল মাসে কাউনিয়া থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ২১ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য হল ১৫ টি। এপ্রিল মাসে বিমান বন্দর থানায় বিভিন্ন অপরাধসহ মোট ২৪ টি অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। এর মধ্যে মাদক দ্রব্য ৬টি। গত মে মাসে বিএমপির ৪ থানায় মাদক সংক্রান্ত ৫২ টি অপরাধের মধ্যে ৩৪টি কোতয়ালী থানায় সংগঠিত হয়েছে। জুন মাসে ৭১ টি অপরাধের মধ্যে ৪৪টি কোতয়ালী থানায় সংগঠিত হয়েছে। জুলাই মাসে ৫২ টি অপরাধের মধ্যে ৩৮টি কোতয়ালী থানায় সংগঠিত হয়েছে। আগস্ট মাসে ৫২টি অপরাধের মধ্যে ৩৮টি কোতয়ালী থানায় সংগঠিত হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসে ৭৬টি অপরাধের মধ্যে ৪৮টি কোতয়ালী থানায় সংগঠিত হয়েছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই দেখা যাচ্ছে বন্দর, কাউনিয়া ও বিমান বন্দর থানার আইনশৃঙ্খলা বাহীনি অপরাধ দমনে সচেষ্ট নয়। এ ব্যাপারে উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) গোলাম রউফ জানান, ওই তিন থানার তুলনায় কোতয়ালী থানায় লোকসংখ্যা ও আইন শৃঙ্খলা বাহীনির সদস্যের সংখ্যাও বেশী। সুতরাং অপরাধ বেশী ঘটে থাকে। আর অন্য তিন থানায় মাদক সংক্রান্ত অপরাধ কম হওয়ার কারন জনসংখ্যা কম। তবে ওই তিন থানায় আইন শৃঙ্খলা আরও জোরদার করা হবে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply