সর্বশেষ সংবাদ
নতুন স্থাপিত প্ল্যান্ট থেকে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু

নতুন স্থাপিত প্ল্যান্ট থেকে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কম্পাউন্ডে স্থাপন করা লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট থেকে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর ফলে হাসপাতালে আর অক্সিজেন-সংকট থাকবে না বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের জুন মাসে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) সংলগ্ন ‘লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট’ স্থাপনের কাজ শুরু করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ১৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই প্ল্যান্টের নির্মাণকাজ শেষ হয় গত জুনে। পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়ার পর ২৬ অক্টোবর প্ল্যান্টটি চালু করা হয়। প্রথম পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওয়ার্ডে পাইপলাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে।

গতকাল বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের পঞ্চম তলায় অস্ত্রোপচার কক্ষ (অপারেশন থিয়েটার), পোস্ট অপারেটিভ কক্ষ, করোনারি কেয়ার ইউনিট (সিসিইউ) ও ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের কিছু অংশে পাইপলাইনে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। হাসপাতালের যন্ত্রপাতি যাচাই-বাছাই (সার্ভে) কমিটির সভাপতি ও সার্জারি বিভাগের প্রধান এ এম এস এম শরফুজ্জামান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারসহ জরুরি বিভাগগুলোতে বোতলজাত অক্সিজেন সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হতো। এখন অপারেশন থিয়েটারে পাইপলাইনে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হয়েছে। ফলে এই বিভাগে অক্সিজেন-সংকট দূর হয়েছে।

হৃদ্রোগ বিভাগের প্রধান মো. জাকির হোসেন বলেন, করোনারি কেয়ার ইউনিটের কিছু অংশে পাইপলাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। এখনো অর্ধেক রোগীর জন্য সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করতে হচ্ছে।

লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্টের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা পরিতোষ সরকার জানান, অক্সিজেন উৎপাদনের মূল উপকরণ লিকুইড অক্সিজেন। ৯ হাজার ১০০ লিটার ধারণক্ষমতার জারে লিকুইড অক্সিজেন ভর্তি করে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে অক্সিজেন গ্যাস উৎপাদিত হচ্ছে, যা পাইপলাইনের মাধ্যমে হাসপাতালের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। লিকুইড অক্সিজেন শেষ হওয়ার দুই দিন আগে থেকে সতর্ক বার্তা দিতে থাকবে। তখন নতুন করে লিকুইড অক্সিজেন দিলেই হবে।

হাসপাতালের পরিচালক এস এম সিরাজুল ইসলাম  বলেন, ‘আগে ঢাকা থেকে বোতলজাত অক্সিজেন আনা হতো। অনেক সময় সরবরাহে বিলম্বের কারণে অক্সিজেন-সংকট দেখা দিত। এটা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন থাকতাম।’
পরিচালক জানান, বর্তমানে হাসপাতালের কম্পাউন্ডে অক্সিজেন উৎপাদিত হচ্ছে। ইতিমধ্যে করোনারি কেয়ার ইউনিট, ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট, অপারেশন থিয়েটার ও পোস্ট অপারেটিভ বিভাগে পাইপলাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে পুরো হাসপাতাল এই সেবার আওতায় আসবে।

Leave a Reply